• শুক্রবার, জুলাই ১৯, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৮:৫২ রাত

‘বন্দুকযুদ্ধ’ আতঙ্কে জামিনের আবেদন করছে না মাদক ব্যবসায়ীরা

  • প্রকাশিত ০১:৫৮ দুপুর জুন ১০, ২০১৮
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:৫৯ দুপুর জুন ১০, ২০১৮
বন্দুকযুদ্ধ

গ্রেফতার হওয়া মাদক মামলার আসামিরা মনে করছে, কারাগারের ভেতরেই তারা নিরাপদ।

সিলেটা মাদক বিরোধী অভিযানে আটক মাদক ব্যবসায়ীরা ‘বন্দুকযুদ্ধ’ আতঙ্কের কারণে জামিন নিয়ে বের হতে চাচ্ছে না। তবে অভিযান শুরুর আগে তারা একাধিকবার জামিন আবেদন করেছিল। 

সিলেট চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের সহকারী কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমান জানান, আটককৃত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চলা মাদক মামলার বিচার কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দোষী বলা যায় না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃংখলা বাহিনীর মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালিত হওয়াতে কারাগারে থাকা মাদক মামলার আসামিরা জামিন শুনানিতে অংশ নিচ্ছে খুবই কম। গ্রেফতার হওয়া মাদক মামলার আসামিরা মনে করছে, কারাগারের ভেতরেই তারা নিরাপদ।

তিনি আরও বলেন, কারাগারে আটককৃত মাদক মামলার আসামিদের মধ্যে ভয় থাকার কারণেই তারা জামিন নিয়ে বের হতে চাচ্ছে না। 

মাদক বিক্রির অভিযোগে আটককৃত দুই ব্যক্তির পক্ষে আদালতে দাঁড়ানো নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আইনজীবী বলেন, “সম্প্রতি মাদক ব্যবসায়ীদের ‘বন্দুকযুদ্ধে’ হত্যার ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে কারাগারে থাকা আমার দু’জন মক্কেল জামিনের জন্য আবেদন করছেন না। তারা আমাকে আদালতে জামিন শুনানি না করার জন্য বলছেন। অথচ দেড়মাস আগে তারা অন্তত ছয়বার আদালতে জামিন শুনানির জন্য আবেদন করেন।”

সিলেটের বিশেষ দায়রা জজ (জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল) আদালতের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট নওশাদ আহমদ চৌধুরী বলেন, “মাদকের মামলা আদালতে চলছে এবং যথাসময়ে রায়ও হচ্ছে। মামলার সাক্ষ্য নেওয়ার সময় শুরু হলে মামলার গতিও কমে যায়। কারণ যথাসময়ে আদালতে সাক্ষিদের হাজির করতে না পারা। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদেরকে আরও কঠোর হতে হবে।”

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশোনার আব্দুল ওয়াহাব বলেন, “সিলেটে মাদক নিয়ন্ত্রণে আমরা জিরো টোলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। ইতোমধ্যে মাদক ব্যবসায়ী ও তাদের এজেন্টদেরকে গ্রেফতার করে মাদক মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। কারাগার থেকে কেউ জামিনে মুক্তি পাছে কিনা সে বিষয়টিও পুলিশ নজরে রেখে কাজ করে যাচ্ছে।”

নাম প্রকাশে অনিছুক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “সিলেটের আলোচিত মাদক ব্যবসায়ী দক্ষিণ সুরমার তেলীবাজারের দুলাল মিয়ার ছেলে শহিদুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী শিউলি আক্তারসহ অন্য সহযোগীরা ইতোমধ্যে জামিন নিয়ে আত্মগোপনে রয়েছে। সিলেটের মাদক আস্তানাগুলো বন্ধ থাকায় এরা ছাড়াও আলোচিত অনেকে গা ঢাকা দিয়েছে।”

পুলিশ সূত্র জানায়, সিলেট নগর ও আশপাশ এলাকা এবং সীমান্তে একাধিক শক্তিশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা, ফেনসিডিল, বিভিন্ন ধরণের মদ, বিয়ার, হেরোইন ও গাঁজার ব্যবসা করে আসছে। সিলেটে ইয়াবা ও হেরোইন ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকারীদের মধ্যে অন্যতম শহীদুল ইসলাম শহীদ। সে ও তার স্ত্রী গ্রেফতার হওয়ার পর জামিন নিয়ে এখন আত্মগোপনে থাকলেও তার ব্যবসা এখনও নিয়ন্ত্রণ করছে ম্যানেজারের দায়িত্বে থাকা মোবারক। 

সিলেট র‍্যাব-৯ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) মনিরুজ্জামান বলেন, “মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে র‍্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিন র‍্যাব মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবনকারীদেরকে গ্রেফতার করছে। এমনকি সম্প্রতি র‍্যাব সিলেটে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মাদকসেবীদেরকে বিভিন্ন মেয়াদে অর্থ ও কারাদণ্ড দিচ্ছে। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার র‍্যাব ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সিলেটে ২৫ জন মাদকসেবীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছে। আমাদের কার্যক্রমে সিলেটে মাদকসেবীদের আনাগোনা অনেকটাই কমে গেছে।”

সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার আবু সায়েম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের করণে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে মাদক ব্যবসায়ীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। কারাগারে বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে মাদক ব্যবসায়ীদের, যাতে তারা কারাগারের ভেতরে মাদক কেনাবেচা করতে না পারে।”

সূত্র জানায়, সিলেটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করলে সীমান্ত এলাকাগুলো দিয়ে প্রতিদিনই চোরাচালানের মাধ্যমে মাদক প্রবেশ করছে। সীমান্তের এসব পয়েন্ট দিয়ে ইয়াবা, ফেনসিডিল, বিয়ার, হুইস্কিসহ নানা ধরনের মাদকদ্রব্য এলেও এসবের সঙ্গে জড়িত চোরাকারবারিদের কার্যক্রম রুখতে পারছে না সীমান্তরক্ষী বাহিনী। যদিও বিজিবি প্রায়ই সীমান্ত এলাকা থেকে মাদকসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য জব্দ করছে। গতবছর সিলেটের চার জেলায় অভিযান পরিচালনা করে প্রায় ১২ কোটি টাকার মাদকদ্রব্য উদ্ধার করে বিজিবি। এছাড়া ওই বছর আটক করা হয় ১৮০ জনকে।

সিলেট জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুবুল আলম (গণমাধ্যম) বলেন, “সীমান্ত এলাকার থানাগুলোতে মাদক ব্যবসায়ীদেরকে গ্রেফতার করার জন্য সবসময়ই অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ সর্তক থাকার জন্য থানা পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া আছে। কেউ দায়িত্ব পালনে গাফিলতি করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”