• শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০২:৫৪ দুপুর

বন উজার করে ফসল আবাদ

  • প্রকাশিত ১১:৫৬ রাত জুলাই ৯, ২০১৮
tangail-forest-pic-9-7-4-1531158902275.jpg

কেউ বনের ভ‚মি দখল করে, আবার কেউ কেউ লিজ নিয়ে বন ধ্বংস করছেন এবং সেখানে চাষ করছেন কৃষি পণ্য।

বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম বনাঞ্চল টাঙ্গাইলের মধুপুর বন ধ্বংস করে বাড়ছে আবাদি জমি। আবাদ হচ্ছে কলা, আনারস, হলুদ, লেবুসহ বিভিন্ন জাতের ফসল। কেউ বনের ভ‚মি দখল করে, আবার কেউ কেউ লিজ নিয়ে বন ধ্বংস করছেন এবং সেখানে চাষ করছেন কৃষি পণ্য। 

সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে স্থানীয়দের মধ্যে ভ‚মি বরাদ্দ দেয়া হলেও কোন কোন সময় তারা গাছের পরিবর্তে কৃষি আবাদ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এভাবে বনের ভেতর কৃষি জমির পরিমাণ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। 

মধুপুর উপজেলার পঁচিশ মাইল থেকে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ডান পাশে কিছু এগিয়ে মাটির রাস্তা চলে গেছে বনাঞ্চলের দিকে। বেরীবাইদ অঞ্চলের ছোট গাইজা, জাঙ্গালিয়া, মঙ্গলের দোকান, আঙ্গারিয়া, পচাচনা, গেচুয়া, নাগরমারাসহ কয়েকটি অঞ্চল ঘুরে দেখা যায়, বনের ভেতর বিপুল পরিমাণ জায়গায় কৃষি আবাদ হচ্ছে। 

টাঙ্গাইল বিভাগীয় কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জানা যায়, বাংলাদেশের সুন্দরবন ও চট্টগ্রামের পাহাড়ি বনাঞ্চলের পরের অবস্থান মধুপুরের গড়াঞ্চল। টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ অঞ্চল মিলে মধুপুর গড়াঞ্চলের মোট আয়তন ৬০ হাজার একর। 

১৯৮৮ সালে ৪৫ হাজার ৫০০ একর বনভূমি নিয়ে ময়মনসিংহ থেকে টাঙ্গাইলের বনভূমিকে আলাদা করা হয়। ১৯৯০ সালে বন বিভাগের এক হিসাব অনুযায়ী মধুপুর গড়ের টাঙ্গাইলের অংশে ২৮ হাজার ৪৩৮ দশমিক ৪৭ একর বনভূমি দখল হয়ে গেছে। দখলের আওতায় আদিবাসী অধ্যুষিত ১৮টি গ্রামসহ মোট ৩৩টি গ্রামের প্রায় সাড়ে ৫ হাজার পরিবার রয়েছে। 

বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ভূমির চাহিদা বাড়ে। তখন তারা (দখলকারিরা) তাদের বসতবাড়ি এবং কৃষি জমি অবৈধভাবে স¤প্রসারণ করতে থাকে। বিগত ৬০ বছর ধরে এ প্রক্রিয়া চলছে। বনের ভেতর বসবাসকারী গরীব মানুষ কিছু জায়গা দখল করলেও প্রভাবশালী একটি মহল শত শত একর বনভূমি দখল করে কৃষি আবাদ করছেন। এরসঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাবও জড়িত।