• রবিবার, আগস্ট ১৮, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:৩৭ রাত

নারী উদ্যোক্তার দোকানে তালা- নেপথ্যে জেলা পরিষদ সদস্য

  • প্রকাশিত ১১:৩২ রাত আগস্ট ১৩, ২০১৮
শিরিন আক্তার
শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে শিরিন আক্তার। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে জেলা পরিষদের এক সদস্যের নেতৃত্বে ক্ষমতাসীনদলের ছাত্র ও যুবসংগঠনের নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীর দোকানে তালা ঝুলানোর ঘটনায় সাংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেছেন এক নারী উদ্যোক্তা।

পৌর শহরের শাহীবাগ এলাকার নারী উদ্যোক্তা শিরিন আক্তার কয়েক বৎসর যাবত পৌর শহরের সাগরদিঘী সড়কে লীজ বন্দোবস্ত সূত্রে জনৈক আব্দুল হালিমের মালিকানাধীন তিনটি দোকান ঘর ভাড়া নিয়ে পোল্ট্রি ফিড ও ওয়েল্ডিং ওয়ার্কসপের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন।

শিরিন আক্তার শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে লিখিত বক্তব্যে  বলেন, মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের সদস্য মশিউর রহমান রিপন, আবু বক্কর সিদ্দিক মোহন শ্রীমঙ্গল উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু তালেব বাদশা, পৌর যুবলীগের সভাপতি আকবর হোসেন শাহীন, লিংকন মিয়া, শের জাহান আলী সেজু, পরিবহন শ্রমিক নেতা ময়না মিয়া প্রায় ৭-৮ কোটি টাকা মূল্যের মার্কেটের মালিকানা দাবী করে জোর পূর্বক মার্কেটে অবস্থিত দোকানের ভাড়া আদায়ের চাপ সৃষ্টি করছে। ভাড়া না দিলে নানা প্রকার ভয়ভীতিও দেখাচ্ছে।

এনিয়ে দোকানীদের সাথে মশিউর রহমান রিপন, আবু বক্কর সিদ্দিক মোহনের ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটতে পারে এমন আশংকা করে জান-মালের নিরাপত্তা চেয়ে গত ১৭ জুলাই এবং চলতি মাসের ২ ও ১০ তারিখে শ্রীমঙ্গল থানায় তিন দফায় অভিযোগ করলেও অদ্যাবধি পুলিশ একটি অভিযোগ রেকর্ড পর্যন্ত করেনি। এছাড়া সৃষ্ট জটিলতা মিমাংসার জন্য গত ৫ জুলাই শ্রীমঙ্গল ব্যবসায়ী সমিতি বরাবরে লিখিত আবেদন করেও ন্যায় বিচার পাননি তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে শিরিন আক্তার অভিযোগ করে বলেন, আবেদনের পর গত ২ আগষ্ট ব্যবসায়ী সমিতির সেক্রেটারী বলেন দুই দিনের মধ্যে দোকান ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যেতে। তা না হলে ছাত্রলীগ যুবলীগের ছেলেরা গণ্ডগোল করলে তিনি কোন কিছু করতে পারবে না বলে সতর্ক করেন। সেই থেকে দোকান বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছি।

শিরিন আক্তার বলেন, কোথাও ন্যায় বিচার পাইনি। আমার সাহায্যে কেউ এগিয়ে না আসার সুযোগে দোকানের পাশাপাশি বাসা বাড়িতে একই কায়দায় হামলা করছে প্রতিপক্ষরা। তিনি অভিযোগ করেন নিজ বসত বাড়ির পার্শ্বে তার লন্ডন প্রবাসী চাচাতো ভাইয়ের একটি বাসায় ৬টি ঘর রয়েছে। ঘরগুলি ভাড়া দেয়া রয়েছে। চাচাত ভাই বাসা দেখাশোনার জন্য আমাকে দায়িত্ব দিয়ে রেখেছেন। এসব ঘরের ভাড়াটেদের থেকে জোর করে ভাড়ার টাকা আদায়ের চেষ্টা করতে দফায় দফায় ভাড়াটেদের তাড়া করছে।

সর্বশেষ গত ১০আগষ্ট মশিউর রহমান রিপন, লিংকন, খোকন, রায়হানসহ অজ্ঞাত কয়েকজন আমার ভাড়াটেদের বাড়িতে অনাধিকার প্রবেশ করে ভাড়াটেদের জোরপূর্বক তাড়িয়ে দিয়ে বাসায় সশস্ত্র অবস্থান নিয়েছে।

বিষয়টি থানা ওসি (অপারেশন) সোহেল রানাকে জানালে তিনি থানায় অভিযোগ করতে বলেন। আমি আগেও অভিযোগ করেছি- জানালে ওসি (অপারেশন) আবারো অভিযোগ করতে বলেন। এই দিন সন্ধ্যা থানায় গিয়ে আবারো একটি লিখিত অভিযোগ করি।

নারী ব্যবসায়ী শিরিন বলেন, আইনী সহায়তা চেয়ে গত ২ মাসে ৪০ দিনই সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত থানার বারান্দায় কাটিয়েছি। কিন্তু কোন আইনি সহায়তা দূরে থাক কোন অভিযোগ রেকর্ডই করাতে পারিনি। এ সময় শিরিন আক্তারের ছোট ভাই আনোয়ার হোসেন তার সাথে ছিলেন।

জানতে চাইলে মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের সদস্য মশিউর রহমান রিপন বলেন, মার্কেটের সাবেক লীজগ্রহীতা আব্দুল হালিম খাজনা না দেয়ার কারণে গত ৩ বৎসর থেকে তার লীজ বাতিল হয়ে যায়। বর্তমানে আমি ৪ শতক জায়গায় বৈধভাবে আছি এবং শ্রীমঙ্গল উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু তালেব বাদশা, পৌর যুবলীগের সভাপতি আকবর হোসেন শাহীন, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মসুদ আহমেদ জমির লীজের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছেন।

জানতে চাইলে শ্রীমঙ্গল উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মসুদ আহমেদ বলেন, ‘আমি বন্দোবস্তের জন্য জেলা প্রশাসকের বরাবরে লীজ আবেদন করেছি।’

শ্রীমঙ্গল উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু তালেব বাদশা বলেন, ‘আমরা লীজের জন্য আবেদন করেছি। সরকার বাহাদুর যদি আমাদের লীজ বন্দোবস্ত দেন তাহলে পাব না দিলে পাবো না। এই মহিলা শিরিন আক্তারের সাংবাদিক সম্মেলন করার কোন অধিকার নেই।’

শ্রীমঙ্গল পৌর যুবলীগের সভাপতি আকবর হোসেন শাহীন বলেন, ‘বাংলাদেশের একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমরা লীজের আবেদন করেছি।’

শ্রীমঙ্গল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারন সম্পাদক মো. কামাল হোসেন বলেন, জমিজমার মালিকানা ফয়সালা করবে আদালত। তবুও ব্যবসায়ের স্বার্থে আমি দুই পক্ষকে জমির কাগজ নিয়ে আসতে বলেছিলাম। আমার ডাকে এক পক্ষ এসেছে। আরেক পক্ষ আসেনি।’

শ্রীমঙ্গল থানার ওসি কে এম নজরুল জানান, বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে আদালতে বিচারাধীন আছে। বর্তমানে আমরা একটি অভিযোগ পেয়েছি। এটি তদন্তাধীন আছে।’