• রবিবার, নভেম্বর ১৭, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৮ রাত

কুড়িগ্রামে বাড়ছে নদ-নদীর পানি, তীব্র বন্যার আশঙ্কা

  • প্রকাশিত ১২:০৫ দুপুর সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৮
ধরলা নদী
বিপদজনক মাত্রায় বাড়ছে ধরলার পানি। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়ন্ত্রন কক্ষের তথ্য অনুযায়ি আজ মঙ্গলবার সকাল ৬ টা পর্যন্ত গত ১২ ঘন্টায় ধরলা নদীর সেতু পয়েন্টের পানি ৯৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার মাত্র ২৮ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

হালকা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা ঢলে হুহু করে বাড়তে শুরু করেছে কুড়িগ্রামের ধরলা নদী ও দুধকুমার নদের পানি। গত কয়েকদিন ধরে জেলার নদ-নদী গুলোর পানির পরিমাণ কমা বাড়ার মধ্যে থাকলেও সোমবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৩ টার পর থেকে এই দুই নদ-নদীর পানি অস্বাভাবিক ভাবে বাড়তে থাকে। 

এতে করে এ দুটি নদ-নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টির আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসীরা। 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়ন্ত্রন কক্ষের তথ্য অনুযায়ি আজ মঙ্গলবার সকাল ৬ টা পর্যন্ত গত ১২ ঘন্টায় ধরলা নদীর সেতু পয়েন্টের পানি ৯৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার মাত্র ২৮ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো.শফিকুল ইসলাম পানি বৃদ্ধির তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, “ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ভারি বৃষ্টিপাতের ফলে উজান থেকে নেমে আসা ঢলে ধরলা নদী ও দুধকুমার নদের পানি বাড়তে শুরু করেছে। সোমবার বিকাল থেকে ধরলার পানি হঠাৎ করে অস্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।” 

বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কার প্রশ্নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের এই নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, “আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। এখনও পানির লেভেল বিপদসীমার নীচে রয়েছে।” 

এছাড়াও আজ মঙ্গলবার সকাল ৬ টা পর্যন্ত গত ১২ ঘন্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি নুনখাওয়া পয়েন্টে ২০ সেন্টিমিটার এবং চিলমারী পয়েন্টে  ১৫ সেন্টিমিটার করে বৃদ্ধি পেয়েছে। 

তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে ৪৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। 

সোমবার থেকে হঠাৎ করে ধরলা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা বন্যার আশঙ্কা করছেন। 

তবে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিন আল পারভেজ জানান, নদীর পানি বৃদ্ধিতে উদ্ভুত পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনে নদী তীরবর্তী এলাকার লোকজনদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনা যাবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড, কুড়িগ্রাম এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম জানান, প্রাপ্ত পূর্বাভাস অনুযায়ি আগামী ৭ থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত জেলার সবক’টি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে অন্যান্য নদ-নদীর অববাহিকা নিরাপদ থাকার সম্ভাবনা থাকলেও ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদ সীমা অতিক্রম করে নদটির অববাহিকা প্লাবিত হতে পারে। এছাড়া ভারি বর্ষণ ও উজানের ঢল অব্যাহত থাকলে জেলায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

অন্যদিকে, লালমনিরহাটে তিস্তা ব্যারেজে ইতোমধ্যেই পানি বিপদ সীমার ৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে নদী কূলবর্তী অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। আকস্মিক এ বন্যায় প্রায় দশ হাজার মানুষ পানিবন্দী রয়েছে। 

উল্লেখ্য যে দুই সপ্তাহ আগে চীনের তিব্বতে অতিবর্ষণের ফলে সৃষ্টি হওয়া ঢলের পানির কারণে বাঁধ খুলে দিয়ে ভারতকে সতর্ক বার্তা দেয় দেশটির সরকার। আর প্রতিবারের ন্যায় বছরের এ মৌসুমে এবারও ভারত বাঁধ খুলে দেবার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ সরকারকে জানিয়েছে।