• সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:০৪ রাত

বিদেশী ছাত্রীকে যৌন হয়রানী করে আটক মেডিকেল শিক্ষক

  • প্রকাশিত ০৪:০৪ বিকেল সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৮
ডাঃ তুহিনুর রহমান
ডাঃ তুহিনুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

আটক শিক্ষকের রিমান্ড মঞ্জুর হয়নি, জেলগেইটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ।

বিদেশী ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের দায়ে আটক সিরাজগঞ্জ নর্থ বেঙ্গল মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক ডাঃ তুহিনুর রহমানের আটক করেছে পুলিশ। এরপর রিমান্ড মঞ্জুর না হলেও তাকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিয়েছেন আদালত। মামলার তদন্তকারী অফিসার সদর থানার ইন্সপেক্টর (অপারেশন) নুরুল ইসলামের আবেদনের প্রেক্ষিতে শুনানী শেষে শুধু জেলগেইটে জিজ্ঞাসাবাদে অনুমতি দেয়া হয়। 

অতিরিক্ত জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম বুধবার দুপুরে রিমান্ড শুনানী শেষে খাস কামরায় বাদীকে আলাদা ডেকে তার কথা শোনেন। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসককে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তাকে তিনি সন্ধ্যায় অনুমতি দেন। 

এদিকে, আদালতে রিমান্ড শুনানীর সময় আসামীর নিকট বাদী তার খোয়া যাওয়া মেমোরী কার্ড (মোবাইলে ব্যবহৃত) ফেরত চান। কিন্তু, সন্ধ্যায় পর্যন্তও মেমোরী কার্ড ফেরত পাননি ওই মেডিকেল শিক্ষার্থী। শুনানী চলাকালীন এ বিষয়ে কিছু স্বীকার করেননি শিক্ষক তুহিন। জেলগেইটে জিজ্ঞাসার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ইন্সপেক্টর আব্দুল জলিল। আদালতে গণমাধ্যমকর্মীদের সামনেও মেমোরী কার্ড উদ্ধারের বিষয়ে বার বার পুলিশকে মনে করিয়ে দেন নারী শিক্ষার্থী। 

অন্যদিকে, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার ইন্সপেক্টর (অপারেশন) নুরুল ইসলাম বলেন, গত শুক্রবার বিদেশী ওই নারী শিক্ষার্থীকে মোবাইলে শহরের দরগাপট্টি মহল্লায় মেডিনোভা হাসপাতালে ডেকে নেন অভিযুক্ত ওই শিক্ষক। কলেজের পড়ানোর পাশাপাশি মেডিনোভা হাসপাতালে খন্ডকালীন প্রাইভেট প্রাকটিস করতেন ডাঃ তুহিন। হাসপাতালে যাবার পর দু’জনের মধ্যে বাগবিতন্ডার এক পর্যায়ে ওই শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের উদ্দেশ্যে বেধড়ক মারপীট ও ধস্তাধস্তি করেন শিক্ষক তুহিন। এক পর্যায়ে মেয়েটির মোবাইল কেড়ে নিয়ে তার মেমোরী কার্ড ছিনিয়ে নেয়া হয় বলে শিক্ষার্থী সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। মেমোরি কার্ডটি উদ্ধারের জন্য চেষ্টা চলছে। সেটি উদ্ধারের পর নতুন কোন রহস্য জানা যাবে বলে ইন্সপেক্টর নুরুল আরো ধারণা করছেন।   

এদিকে, ইন্সপেক্টর নুরুল আরো জানান, ঘটনার পর পরই সিরাজগঞ্জ নর্থ বেঙ্গল মেডিকেল কলেজে সরেজমিনে প্রাথমিক তদন্তে গেলে অনেক শিক্ষার্থীই অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ন নানা অভিযোগ করেন। পরীক্ষায় নম্বর কম দেবার ভয়ভীতি দেখিয়ে বা অন্য কোন প্রলোভন দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোন ধরনের নৈতিক সুবিধা আদায় করা হয়েছে কি-না, কোন শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানী বা নিপীড়ন করা হয়েছে কি-না, বা কৌশলে নারী শিক্ষার্থীদের আপত্তিকর ছবি মোবাইলে তুলে ব্ল্যাকমেইলের উদ্দেশ্যে মেমোরীকার্ডে সংরক্ষিত করা হয়েছে কি-না, সে বিষয়ে ডাঃ তুহিনকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত বরাবর ৭দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হলেও তা মঞ্জুর হয়নি।