• শুক্রবার, জুলাই ১৯, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৮:৫২ রাত

প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর পদে কোটা না রাখার সুপারিশ

  • প্রকাশিত ০৫:০০ সন্ধ্যা সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৮
Cabinet Meeting
প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর পদে কোটা না রাখার সুপারিশ সচিব কমিটির (ফাইল ছবি)। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

সরকারি চাকরিতে বেতন কাঠামো অনুযায়ী গ্রেড রয়েছে মোট ২০টি।

সরকার গঠিত সচিব কমিটি প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরির পদে প্রবেশের ক্ষেত্রে সব ধরনের কোটা তুলে দেওয়ার সুপারিশ করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহে মন্ত্রিপরিষদ অনুমোদন দেওয়ার পর এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে বলে জানা গেছে।

সোমবার (১৭ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রিসভা বৈঠক শেষে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এ তথ্যগুলো সম্পর্কে জানান। 

তিনি এ সময় জানান, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে ৯ম থেকে ১৩তম গ্রেডে কোটা তুলে দেওয়ার সুপারিশ করেছে সচিব কমিটি।

প্রসঙ্গত সরকারি চাকরিতে বেতন কাঠামো অনুযায়ী গ্রেড রয়েছে মোট ২০টি। এর প্রথম গ্রেডে অবস্থান করেন সচিবরা। আর প্রথম বা দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা হিসেবে যারা নিয়োগ পান তাদের শুরুটা হয় ৯ম থেকে ১৩তম গ্রেডের মধ্যে। একজন গেজেটেড বা নন গেজেটেড প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা ৯ম গ্রেডে নিয়োগ পেয়ে থাকেন। এসব পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে বর্তমানে  ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা, ১০ শতাংশ জেলা কোটা, ১০ শতাংশ নারী কোটা, ৫ শতাংশ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কোটা, ও শর্ত সাপেক্ষে ১ শতাংশ প্রতিবন্ধী কোটা অর্থাৎ মোট ৫৬ শতাংশ কোটা সংরক্ষণের বিধান রেখেছে সরকার। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে এই ৫৬ শতাংশ কোটা তুলে দেওয়ার সুপারিশ করেছে সচিব কমিটি। তবে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কোনও কোটা তুলে দেওয়ার বিষয়ে ওই কমিটি কোনও সুপারিশ করেনি।

মুক্তিযোদ্ধা কোটা বিষয়ে সরকার আদালতের পরামর্শ চাইবে এমন কথা বলা হয়েছিল। সচিব কমিটির প্রতিবেদন সুপারিশের আগে এ বিষয়ে আদালতের পরামর্শ নেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, “এ বিষয়ে রাষ্ট্রের আইন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া হয়েছে।”

প্রতিবেদনে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা কী ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বা পরামর্শ দেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, “সচিব কমিটি ব্যাপকভাবে পর্যবেক্ষণ ও বিচার-বিশ্লেষণ করে দেখেছে, এখন আর পিছিয়ে পড়া কোনও জনগোষ্ঠী নেই। সবাই এগিয়ে গেছে। তাই তাদের জন্য কোনও কোটা রাখার সুপারিশ করা হয়নি।”

কীভাবে ও কবে এই প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এই প্রতিবেদন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় হয়ে আবার প্রধানমন্ত্রীর দফতরে অনুমোদনের জন্য যাবে। প্রধানমন্ত্রীর দফতরের অনুমোদন পাওয়ার পর তা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভা বৈঠকে অনুমোদন পাওয়ার পর এ প্রজ্ঞাপন জারি হবে।”

এসময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, “আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহের মন্ত্রিসভা বৈঠকে এটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে।”

উল্লেখ্য, সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের দাবি বা সংস্কারের চাকরি প্রত্যাশীদের অসন্তোষ দীর্ঘদিন থেকেই। এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে এ অসন্তোষ আন্দোলনে রূপ নিলে তা সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে। এ ঘটনায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও আটকের ঘটনা ঘটে। এমন পরিস্থিতিতে গত ১১ এপ্রিল সংসদে সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিল বা সংস্কারের প্রয়োজন আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে সচিব কমিটি গঠন করে সরকার।