• সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৫:১৫ সন্ধ্যা

ডাক্তার বসেই ছিলেন, নার্সের চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু

  • প্রকাশিত ০১:০৩ দুপুর সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৮
প্রতীকী
প্রতীকী ছবি।

রোগী মারা গেলেও ডাক্তার আরিফুল ইসলাম তাকে ময়মনসিংহ হাসপাতালে প্রেরণের নির্দেশনা দেন। তবে, ক্ষুব্ধ স্বজনদের চাপে তিনি রোগীকে মৃত ঘোষণা করেন।

জামালপুরের সরিষাবাড়ী হাসপাতালে ডাক্তারের অবহেলায় জবেদা (৫৫) নামে এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। 

সোমবার সকাল সাড়ে ১১ টায় সরিষাবাড়ী হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। জবেদা উপজেলার চর হাটবাড়ী গ্রামের বছির উদ্দিনের স্ত্রী।

সকাল সাড়ে আটটায় জবেদার জামাতা শাহীন মিয়া চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সেখানে ডাঃ আরিফুল ইসলাম প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ৯ টায় হাসপাতালে ভর্তি করে নেয়। 

কর্তব্যরত এই চিকিৎসক নার্সদের দিয়ে রোগীকে নামমাত্র চিকিৎসা দেন। শ্বাসকষ্ট বাড়লেও  তারা অন্য কোন জরুরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। দীর্ঘ ২ ঘন্টা ধরে হাসপাতালের ডাঃ আরিফুল ইসলামের নিকট চিকিৎসার জন্য তাগিদ দিলেও তিনি কোন গুরুত্ব দেননি। 

নিহতের স্বজনরা জানান, সাড়ে ১১ টার দিকে তিনি হাসপাতালে এসে জবেদাকে ইসিজির জন্য টেস্ট দেয়। রোগী মারা গেলেও ডাক্তার আরিফুল ইসলাম তাকে ময়মনসিংহ হাসপাতালে প্রেরণের নির্দেশনা দেন। তবে, ক্ষুব্ধ স্বজনদের চাপে তিনি রোগীকে মৃত ঘোষণা করেন।

এছাড়াও এই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে যে, তিনি প্রতিনিয়ত হাসপাতালের সময় সেবা ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে রোগী দেখেন এবং ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে চেকআপ করাতে রোগীদের বাধ্য করেন। 

এ খবর পেয়ে সরিষাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ মাজেদুর রহমানের নির্দেশে এসআই সাইফুলের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। 

রোগীর জামাতা শাহীন মিয়া অভিযোগ করে বলেন, “আমি রোগী সাড়ে আটটার সময় নিয়ে আসি। তখন কোন ডাক্তার পায়নি। সেবা না পেয়ে আমার রোগী মারা যায় সাড়ে এগারটায়, মারা যাবার পরেও আমার রোগীকে রেফার্ড করে দেয় ময়মনসিংহ। আমি এ অন্যায়ের বিচার চাই।”

তবে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডাঃ আরিফুল ইসলাম ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কিছু পরীক্ষা- নিরিক্ষা দেওয়া হয়েছিল। অনেক সময় রাউন্ডে যেতে দেরি হয়ে যায়। আমাদের তো আর সব সময় একটি নির্দীষ্ট সময়ে যাওয়া যায় না।”

অন্যদিকে, হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মমতাজ উদ্দিন রকিব বলেন, “শ্বাস কষ্টের জন্য চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোগী মৃত্যুবরণ করেছেন।”