• বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৭, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:২৩ রাত

‘প্রেমের ফাঁদে ফেলে করা হতো ব্ল্যাকমেইল’, গ্রেপ্তার ৮ তরুণ-তরুণী

  • প্রকাশিত ০৩:০৯ বিকেল সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৮
প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

ওসি আবদুল হাই বলেন, আমাদের কাছে খবর ছিল এই চক্রটি বেশ কিছুদিন ধরে নওগাঁ শহরের বিভিন্ন এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করে অপকর্ম করে আসছিল।

নওগাঁয় প্রেমের আহ্বান জানিয়ে বাড়িতে ডেকে এনে ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে চার নারীসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে নওগাঁ শহরের পার-নওগাঁ (দক্ষিণপাড়া) এলাকায় অভিযান চালিয়ে মৃত শহিদুল ইসলামের বাড়ি থেকে ওই আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন-দক্ষিণপাড়া এলাকার শহিদুল ইসলামের মেয়ে শান্তা খাতুন (৩০), নিপা খাতুন (৩২) ও সন্ধ্যা খাতুন (১৯), বগুড়ার আদমদিঘী থানার কেল্লা গ্রামের সিরাজুল ইসলামের মেয়ে রিয়া খাতুন, সদর উপজেলার ফতেপুর গ্রামের আবদুলল হামিদ মন্ডলের ছেলে হারুন মন্ডল (৩৬), আজাহার আলীর পুত্র আরিফ হোসেন (২৫), আফজাল হোসেন মোল্লার ছেলে নুর ইসলাম নোবেল (২০) ও আবদুস সালামের ছেলে মো. আশিক (১৯)। 

নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল হাই বলেন, ‘আমাদের কাছে খবর ছিল এই চক্রটি বেশ কিছুদিন ধরে নওগাঁ শহরের বিভিন্ন এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করে অপকর্ম করে আসছিল। গতকাল রাত ২টায় ল্যাবজোন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সহকারী পরিচালক ময়নুল হোসেনের অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।’ 

গ্রেপ্তার চক্রের ফাঁদে পড়েছিলেন বলে দাবী করেন রফিকুল ইসলাম নামে একজন। তিনি বলেন, তাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বাড়িতে ডেকে ফাঁসিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়। তিনি কৌশলে থানায় জানালে পুলিশ সুপারের (এসপি) নির্দেশনায় ওসি আবদুল হাইয়ের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

নওগাঁ সদর থানার ওসি আবদুল হাই বলেন, গ্রেপ্তার শান্তা, নিপা, সন্ধ্যা ও  রিয়ার সহযোগিতায় ধনী ব্যক্তিদের টার্গেট করে মোবাইল ফোন নম্বর সংগ্রহ করা হতো। পরে তাদের প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে বাড়িতে ডেকে নিতেন তারা। এতে কেউ সাড়া দিলে তাদের বাড়িতে ডেকে ঘরের দরজা বন্ধ করে দুজনই বিবস্ত্র হতেন। এসময় বিভিন্ন ছবি তোলা হতো। সেই ছবি ফেইসবুকে প্রকাশের ভয় দেখিয়ে মোটা অংকের অর্থ আদায় করা হতো। 

এর আগে নওগাঁ শহরের বাঙ্গাবাড়িয়া এলাকার একটি ভবনে ভাড়া থাকার সময় রফিকুল ইসলামকে এমন ফাঁদে ফেলে ৫০ হাজার টাকা আদায় করে ওই চক্র, এ ছাড়া ৮ লাখ টাকা দাবী করে সাদা স্ট্যাম্পে সই নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।