• বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৮, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৬:৪৯ সন্ধ্যা

আদালতে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে চার ডিপিডিসি কর্মকর্তা বরখাস্ত

  • প্রকাশিত ০৩:০৯ বিকেল অক্টোবর ১১, ২০১৮
ডিপিডিসি
আদালতে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনায় ৪ কর্মকর্তাকে বহিস্কার করেছে ডিপিডিসি কর্তৃপক্ষ। ফাইল ছবি।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার রায় প্রকাশের উদ্দেশ্যে আদালতের এজলাসে বিচারক বসার কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিদ্যুৎ চলে যায়

গত বুধবার বহুল প্রতীক্ষিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় ঘোষণার সময় একঘণ্টার মধ্যে দুই দফায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনায় ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) লালবাগ নেটওয়ার্ক অপারেশন অ্যান্ড কাস্টোমার সার্ভিস (এনওসি)-এর চার কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ডিপিডিসির পরিচালক ( অপারেশন)  হারুন অর রশিদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

উল্লেখ্য, গত বুধবার (১০ অক্টোবর) সকাল ১১টা ৩৫ মিনিটে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার রায় প্রকাশের উদ্দেশ্যে আদালতের এজলাসে বিচারক বসার কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিদ্যুৎ চলে যায়। এরমধ্যেই ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইবুনাল-১-এর বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন তার পর্যবেক্ষণ ও বিচারে বিবেচ্য বিষয়গুলো পড়তে থাকেন। কিন্তু বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার কারণে সাউন্ডবক্স বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিচারকের দেওয়া বক্তব্য শোনা যাচ্ছিল না। ফলে জনাকীর্ণ আদালতের ভেতরে বাইরে থাকা আইনজীবী ও সাংবাদিকরা বিপাকে পড়ে যান। 

এমনকি, মহামান্য বিচারক যখন যখন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ বিভিন্ন আসামির বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করছিলেন তখনও বিদ্যুৎ ছিল না। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পর বিদ্যুৎ এলেও কয়েক মিনিট পর আবার চলে যায়।

ডিপিডিসির পরিচালক ( অপারেশন)  হারুন অর রশিদকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, "কমলদহ ফিডার ট্রিপ করায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। পরে তা চালু হলেও আবার লালবাগ থানার কাছে বিতরণ লাইনে আগুন ধরে যায়। প্রথমবার ১১টা ৪২ মিনিট থেকে ১২টা ৩ মিনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর মেরামত করার পর আবার পাশের তারে শট সার্কিটের কারণে আগুন লাগে। এতে আবারও ৫ মিনিট বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করা হয়। বৃষ্টির কারণে এই সমস্যা হয়।"

এ ঘটনায় লালবাগ এনওসি-এর চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, "রায়ের বিষয়ে তারা আগে থেকেই সর্তক ছিলেন। তাই দ্রুত লাইন মেরামত করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে। এমন কোনও ঘটনা ঘটলে জেল খানার মধ্যে একটি পিডব্লিউডি-এর জেনারেটর চালু হওয়ার কথা। সেটিও চালু হয়নি।"

এদিকে রায় চলাকালিন সময়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনার তদন্তে ডিপিডিসির চিফ ইঞ্জিনিয়ার সরওয়ার এ কায়নাত নুরকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। একইসঙ্গে বিদ্যুৎ বিভাগ থেকেও বিভাগের যুগ্ম-সচিব ফয়জুল আমিনকে প্রধান করে চার সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। এর মধ্যে ডিপিডিসির গঠিত কমিটিকে তিনদিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বরখাস্তরা হলেন, লালবাগের সুপারেন্টেন ইঞ্জিনিয়ার (এসি) শাহজাহান আলী খান, এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার আহসানুজ্জামান, এসিসটেন্ট ইঞ্জিনিয়ার সাইদ হোসেন ও উপ-সহকারী পরিচালক মো. আবুল হোসেন