• মঙ্গলবার, জুলাই ১৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:২৪ রাত

প্রত্যাবাসনের বাইরেই মিয়ানমারে ফিরল ৫ রোহিঙ্গা

  • প্রকাশিত ০১:০৭ দুপুর অক্টোবর ১২, ২০১৮
রোহিঙ্গা
মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সহিংসতার মুখে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। ছবি: সৈয়দ জাকির হোসেন/ঢাকা ট্রিবিউন

"এটি আনুষ্ঠানিক রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার অংশ নয়। কেউ চাইলে ফিরে যেতে পারে"

প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিয়ে চলমান অনিশ্চয়তার মধ্যেই পাঁচ সদস্যের একটি রোহিঙ্গা পরিবার মিয়ানমারে ফিরে গেছে বলে জানা গেছে। মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় মুখপত্র গ্লোবার নিউ লাইট অব মিয়ানমার কর্তৃক প্রকাশিত একটি খবরে এমন তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। 

গত বৃহস্পতিবার দ্য গ্লোবাল নিউ লাইট অব মিয়ানমার রোহিঙ্গা শব্দটি উল্লেখ না করে পাঁচ সদস্যের ওই পরিবারকে বাস্তুচ্যুতহিসেবে উপস্থাপন করে তাদের মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার খবর প্রকাশ করেছেন।  

অন্যদিকে, এবিষয়ে কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কালামকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি এই খবর সম্পর্কে ওয়াকিবহাল উল্লেখ করে বলেন, "এটি আনুষ্ঠানিক রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার অংশ নয়। কেউ চাইলে ফিরে যেতে পারে। তবে আনুষ্ঠানিক প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হয়নি।" 

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার প্রেক্ষিতে রাখাইন রাজ্যে স্মরণকালের ভয়াবহতম সেনা অভিযান চালায় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। জাতি সঙ্ঘের মানবাধিকার কমিশন এই অভিযানকে জাতিগত নিধন হিসেবে আখ্যায়িত করে। যার ফলে, হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে নতুন করে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় ৭ লাখ মানুষ। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে জানুয়ারিতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার প্রত্যাবাসন চুক্তি সম্পন্ন হয়। তবে চুক্তি হলেও চুক্তির আওতায় একজন রোহিঙ্গাকেও ফিরিয়ে নেয়নি মিয়ানমার।

এদিকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নেতা আব্দুর রহিম ফেরত যাওয়া রোহিঙ্গা পরিবার প্রসঙ্গে বলেন, "রোহিঙ্গা পরিবারটি কক্সবাজারের বালুখালি শিবিরে থাকতো। গত বুধবার তারা মংডুর কাছে তাদের বাড়িতে ফিরেছে।"

প্রসঙ্গত, মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের নিজ দেশের জনগোষ্ঠী হিসেবে স্বীকার করেনা। ১৯৮২ সালে তৎকালীন সামরিক জান্তা সরকার কর্তৃক প্রণীত বর্ণবাদী নৃগোষ্ঠীভিত্তিক নাগরিকত্ব আইনে মিয়ানমারের প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গার নাগরিকত্ব অস্বীকার করা হয়। বস্তুত এই আইনটিই জান্তাশাসিত মিয়ানমারে সর্বোচ্চ সেনাবিদ্বেষের শিকার রোহিঙ্গাদের ভাসমান জনগোষ্ঠীতে রূপান্তর করে।