• সোমবার, আগস্ট ১৯, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪২ সকাল

মির্জা ফখরুল: তারেক রহমানের পদত্যাগের প্রশ্নই আসে না

  • প্রকাশিত ০৩:০৭ বিকেল অক্টোবর ১২, ২০১৮
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি- সংগৃহীত

এসময় তিনি বিভিন্ন পত্রিকায় ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাকে রাষ্ট্রযন্ত্রের সহায়তায় হামলা বলে আদালতের পর্যবেক্ষণের যে খবর প্রচারিত হয়েছে তাকে ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক বক্তব্যের হুবহু প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেন

এসময় বিএনপির মহাসচিব ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার রায়ের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন এবং এই মামলার রায়কে কেন্দ্র করে বিএনপির বিরুদ্ধে নানা প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনার জবাব দেন।   

তারেক রহমানের পদত্যাগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, "রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে দলীয় তদন্তকারীর চক্রান্তে সাজানো মামলায় তারেক রহমানকে সাজা দেওয়া হয়েছে। এটা জানার পরেও কেউ কেউ দল থেকে তার পদত্যাগের যে পরামর্শ দিয়েছেন - তাদের কাছে জনগণ প্রশ্ন করতে পারে যে, এত শত গুম, খুন করার জন্য দায়ী সরকারের পদত্যাগ কি তারা দাবি করেছেন? নিম্ন আদালতের দেওয়া রায়কে যখন আমরা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার প্রতিফলন ও বিএনপিকে দুর্বল করার অসৎ উদ্দেশ্য বলছি তখন সেই রায়ের ভিত্তিতে আমাদের নেতা তারেক রহমানের পদত্যাগের প্রশ্ন আসে না। আমরা আশা করি, ইচ্ছাকৃতভাবে কিংবা ক্ষমতাবান কারও তুষ্টির জন্য কারও বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো থেকে দায়িত্বশীল মিডিয়া বিরত থাকবে।"

এসময় তিনি দাবী করেন, "বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকাকালে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার দায়িত্ব যদি রাষ্ট্রযন্ত্রের হয় তাহলে বর্তমান সরকারের শাসনামলে পিলখানা হত্যাকাণ্ড, হলি আর্টিজানে হত্যাকাণ্ড এবং জঙ্গি হামলায় নিহত বিদেশি কূটনীতিক, ব্যবসায়ী, এনজিও কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, ইমাম-মোয়াজ্জিন, যাজক, পুরোহিত, ব্লগারসহ অসংখ্য সাধারণ মানুষের হত্যাকাণ্ডের দায় ক্ষমতাসীনদের ওপরই বর্তায়।"

এসময় তিনি বিভিন্ন পত্রিকায় ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাকে রাষ্ট্রযন্ত্রের সহায়তায় হামলা বলে আদালতের পর্যবেক্ষণের যে খবর প্রচারিত হয়েছে তাকে ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক বক্তব্যের হুবহু প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেন।  

ফখরুল বলেন, "লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো-১৯৭৫ এর ১৫ই আগস্টের নৃশংস হত্যাকাণ্ড, জেলখানায় ৪ জাতীয় নেতার বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মতো ঘৃণ্য অপরাধকে একসূত্রে গাঁথার যুক্তি সঠিক হলে বিএনপি কিংবা বিএনপি পরিচালিত রাষ্ট্রযন্ত্রকে অপরাধী বলা হলো কোন যুক্তিতে? ১৯৭৪ সালে বিএনপির জন্মও হয়নি এবং ১৫ আগস্ট কিংবা ৩ নভেম্বরের হত্যাকাণ্ডের  বিচারে কোনও আদালতই বিএনপি বা বিএনপির কোনও নেতাকে অভিযুক্ত- এমনকি সম্পৃক্তও করেনি।"

ফখরুল আরও বলেন, "২১ আগস্টের নৃশংস ঘটনার সুবিচার নিশ্চিত করতে তৎকালীন সরকারই মামলা দায়ের করেছে। নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য এফবিআই এবং ইন্টারপোলকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছে। বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি করেছে এবং সর্বোপরি এই মামলার মূল আসামি মুফতি হান্নানকে গ্রেফতার করেছে। এসব ঘটনা প্রমাণ করে যে, তৎকালীন সরকার অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল না।" 

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিবের সাথে দলটির বিভিন্ন কেন্দ্রীয় নেতাও উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন।