• শুক্রবার, জুলাই ১৯, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৮:৫২ রাত

যেভাবে হলো ৬ ঘণ্টার অপারেশন ‘গর্ডিয়ান নট’

  • প্রকাশিত ১১:১২ রাত অক্টোবর ১৬, ২০১৮
অপারেশন ‘গর্ডিয়ান নট’
নরসিংদী সদরে যে বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছিল। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছিল অপারেশন গর্ডিয়ান নট বা জটিল গেরো

নরসিংদীতে দুটি জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পায় পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ইউনিট (সিটিটিসি। এরমধ্যে একটি সদর উপজেলার মেহেরপাড়া ইউনিয়নের ভগীরথপুর এলাকার বিল্লাল হোসেনের পাঁচতলা বাড়ি, আর অপরটি হচ্ছে মাধবদী পৌর এলাকার ছোট গদাইরচর (গাংপার) মহল্লায় আফজাল হোসেনের মালিকানাধীন নিলুফা ভিলা নামের একটি সাততলা বাড়ি। 

এ ঘটনায় মঙ্গলবার সকাল ১০ টায় বিল্লাল মিয়ার মালিকানাধীন বাড়ির জঙ্গি আস্তানায় বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় সিটিটিসি ও সোয়াত টিম অভিযান পরিচালনা শুরু করেন। আর অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছিল অপারেশন গর্ডিয়ান নট বা জটিল গেরো।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ভাষ্যে, গোয়েন্দা তৎপরতায় পুলিশের সিটিটিসি ইউনিট নিশ্চিত হয় যে নরসিংদীর মাধবদী থানার ভগীরথপুর ও ছোট গদাইরচর এলাকায় পৃথক দুটি বাড়িতে আলাদা দুটি নব্য জঙ্গি আস্তানা হয়েছে। পরে গত সোমবার সন্ধ্যার পর পুলিশের সিটিটিসি ইউনিট, নরসিংদী জেলা ও মাধবদী থানা পুলিশের সহায়তায় বাড়ি দুটো ঘেরাও করে ফেলে। সারা রাত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বাড়িগুলো ঘেরাও রেখে পুরো এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। এরই মধ্যে পুলিশের সোয়াত টিম, এলআইসি টিম, বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল, অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিট, র্যা ব, সিআইডিসহ জেলা ও বিভিন্ন থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। অভিযানের অংশ হিসেবে তারা প্রথমে বাড়ি দুটির অন্যান্য সব ইউনিটের বাসিন্দাদের সরিয়ে নেয়। পরে সকাল ছয়টার দিকে ঘটনাস্থলের ৫০০ গজের মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি করে স্থানীয় প্রশাসন। পাশাপাশি মাইকিং করে কাউকে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এর পরেই সকাল সাড়ে আটটার দিকে দুই বাড়ির গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফায়ার ব্রিগেডের গাড়ি ও দুটি অ্যাম্বুলেন্স এনে রাখা হয়। 

পরে মঙ্গলবার সকাল ১০টায় নরসিংদীর দুটি আস্তানা পরিদর্শন করেন সিটিটিসি’র প্রধান মনিরুল ইসলাম। এরপর পরই তাঁর নেতৃত্বে শুরু হয় চূড়ান্ত অভিযান। তাঁরা প্রথমে ভগীরথপুরের বিল্লাল হোসেনের বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখানে জঙ্গিদেরকে প্রথমে আত্মসমর্পণের আহবান জানানো হয়। পরে ভেতর থেকে থেমে থেমে গুলি বর্ষন করা হলে সিটিটিসি ও সোয়াট টিমও প্রথমে টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে। পরবর্তীতে গুলি বর্ষন করে। এভাবে আড়াই ঘন্টা অভিযান চলা কালে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. জাবেদ পাটোয়ারী ভগিরথপুরে জঙ্গি আস্তানা পরিদর্শনে আসেন। তিনি আসার কয়েক মিনিটের মধ্যেও বেশ কয়েকটি গুলির শব্দ হয়। 

এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন, পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের সহকারি মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, নরসিংদী জেলা প্রশাসক সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন, পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুন সিভিল সার্জন ডা. হেলাল উদ্দিন প্রমুখ।

পরে আইজিপি ঘটনাস্থলে এক ঘন্টা অবস্থান করে অভিযান সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রাথমিক ধারনা দেওয়ার সময় জঙ্গিরা আত্মসমর্পণ না করায় সেখানে অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানান। এ সময় আইজিপি ড. জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, “নরসিংদীর ভগীরথপুরের জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘গর্ডিয়ান নট’। নিয়ম অনুযায়ী সেখানে অপারেশন পরিচলানা করা হচ্ছে। তাদের প্রথমে আত্মসমর্পণের আহবান জানানো হয়। এতে সাড়া না পাওয়ায় প্রথমে টিয়ারশেল ও পরে গুলিবর্ষণ করা হয়। এ সময় তারাও পাল্টা গুলি করে।”

জাবেদ পাটোয়ারী আরও বলেন, “তাদের কাছে কি ধরনের অস্ত্র ও বিস্ফোরক রয়েছে তা সম্পর্কে ধারণা রয়েছে। তবে এখনই আমরা তা প্রচার করতে পারছি না। আস্তানায় ঠিক কতজন আছে তা এখনও বলা যাচ্ছে না। অপারেশন শেষ হলে বলা যাবে। অপারেশন শেষ হতে আরও সময় লাগবে।”

পরে আইজিপি ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর বেলা আড়াইটার দিকে বেশ কয়েক রাউন্ড টানা গুলি বর্ষনের শব্দ শোনা যায়। পরে বিকেল ৪ টার দিকে সিটিটিসির প্রধান মনিরুল ইসলাম ভগীরথপুরের অভিযানের সমাপ্তি ঘোষনা করে সাংবাদিকদের জানান, ‘অভিযানে এক নারী ও এক পুরুষের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।’ 

অভিযানের পরবর্তী ধাপ ছোট গদাইরচরে জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের প্রস্তুতির কথা জানিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন তারা। তবে ভগীরথপুরের জঙ্গি আস্তানাটি এখনও পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে। সেখানে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।