• শুক্রবার, জুলাই ১৯, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৮:৫২ রাত

জঙ্গিদের সম্পর্কে যা জানালেন প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা

  • প্রকাশিত ১১:৩০ রাত অক্টোবর ১৬, ২০১৮
অপারেশন ‘গর্ডিয়ান নট’
নরসিংদী সদরে যে বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছিল। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

‘আমার পাশের ফ্ল্যাটেই থাকতেন ওই দু’জন’

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভগিরথপুরের জঙ্গি আস্তানার বাড়িটি ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক থেকে তিনশ মিটারের মধ্যে। সেখান থেকে মোটামুটি দুই কিলোমিটার দুরত্ব অপর জঙ্গি আস্তানা মাধবদীর ছোট গদাইরচর (গাংপার) এর বাড়িটি। 

বাড়ির মালিকরা জানিয়েছেন দুটি বাসাই এ মাসের ৫ থেকে ৭ তারিখের মধ্যে ভাড়া নেওয়া হয়েছে বলে পুলিশকে জানানো হয়েছে। ভগিরথপুরের জঙ্গি আস্তানা পাঁচতলা বাড়িটির মালিক বিল্লাল হোসেন নামের এক কাপড় ব্যবসায়ী। তিনি ওই ভবনের পঞ্চম তলার একটি ফ্ল্যাট জঙ্গি সন্দেহের ওই নারী ও পুরুষের কাছে ভাড়া দিয়েছিলেন। 

বিষয়টি নিশ্চিত করে পঞ্চম তলার অপর ভাড়াটিয়া সাইফুল ইসলাম সাহেদ বলেন, “আমার পাশের ফ্ল্যাটেই থাকতেন ওই দু’জন। তাদের পরিচয় আমি জানি না। তবে দুজনের বয়স ২৫ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। বাসা ভাড়া নেওয়ার পর তাদের সঙ্গে আমার একদিন দেখা হয়েছে। সম্ভবত তারা চলতি মাসের ৫ বা ৭ তারিখে ভাড়া নেয়। ভাড়া নেওয়ার পর পরই বাড়িওয়ালা বিল্লাল ভাই তাদের কাছে একাধিকবার জাতীয় পরিচয়পত্র চেয়েছিলেন। কিন্তু তারা শুধু দেরি করিই যাচ্ছিলেন। তাদের ঘরে দু-একটি কাপড়ের ব্যাগ আর খাবারের জন্য দুটো প্লেট ছাড়া আর কিছুই ছিল না। সাধারনত ঘর থেকে তেমন বের হত না তারা। কেউ কথা বলতে চাইলেও অনেকটা এড়িয়ে যেত। এসব ঘটনা থেকে আমার কিছুটা সন্দেহ হয়েছিল। পরে আমি ৯৯৯ কল করব ভাবছিলাম। এরই মধ্যে গতকাল সোমবার সন্ধ্যার পর পুলিশ বাড়ি ঘেরাও করে ফেলে আর রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে আমাদেরকে সরিয়ে দেয়।”

অন্যদিকে বিল্লাল হোসেনের বাড়ির দু’তলার ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া অপু দেবনাথ বলেন, “রাত আটটার দিকেই বাড়ির সামনে পুলিশ চলে আসে। আমরা কোনো কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। এলাকাটি হঠাৎ করে নিস্তব্ধ হয়ে যায় এবং সবার মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছিল। এরই মধ্যে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা সবাইকে যার যার ঘরে ঢোকে যাওয়ার নির্দেশ দেন। পরে রাত ৩টার দিকে আমাদেরকে সহ বাড়ির অন্যান্য বাসিন্দাদেরকে সরিয়ে নিয়ে জানান এই বাসায় জঙ্গিরা অবস্থান করছেন। এ সময় তারা জানান যে অভিযান চালানো হবে।”