• রবিবার, মে ২৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৮:৫৭ রাত

রোহিঙ্গাদের সহায়তায় মাল্টিসেক্টর প্রকল্পের অনুমোদন

  • প্রকাশিত ০৬:২৫ সন্ধ্যা অক্টোবর ৩১, ২০১৮
একনেকের সভা
জরুরীভিত্তিতে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় মাল্টি-সেক্টর প্রকল্পসহ ২৪টি উন্নয়ন প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে একনেক। ছবি: বাসস।

রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় মাল্টি-সেক্টর প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ১ হাজার ৫৭ কোটি ৮৪ লাখ টাকা

জরুরীভিত্তিতে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় মাল্টি-সেক্টর প্রকল্পসহ ২৪টি উন্নয়ন প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) গত মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলানগর এনইসি সম্মেলনকক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেকের সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকশেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পের বিষয়ে সাংবাদিকদের অবহিত করেন। 

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, "রোহিঙ্গারা যতদিন কক্সবাজারে থাকবেন ততদিন তাদের ভালোমন্দ দেখার দায়িত্ব আমাদের। আমরা তাদের ভাল থাকার ব্যবস্থা করছি। যখন তারা মিয়ানমারে ফেরত যাবেন তখন সেখানকার স্থানীয় বাংলাদেশীরা এসব অবকাঠামোর সুযোগ সুবিধা ভোগ করবেন। কেননা, রোহিঙ্গাদের কারণে তারা অনেক কষ্ট ভোগ করছেন। বিশ্বব্যাংক ও এডিবিসহ অনেক সংস্থা ও দেশ অনুদান দিচ্ছে। আমরা তাদের কাছে  এজন্য কৃতজ্ঞ।"

উল্লেখ্য, এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ২৪ হাজার ৭৪০ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১৯ হাজার ৩৬১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা, বাস্তবায়নকারী সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৩০৬ কোটি ৪ লাখ টাকা এবং প্রকল্প সাহায্য হিসেবে বৈদেশিক সহায়তা পাওয়া যাবে ৫ হাজার ৭২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।

জরুরী ভিত্তিতে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় মাল্টি-সেক্টর প্রকল্পের আওতায় রোহিঙ্গাদের জন্য সুপেয় পানি, স্বাস্থ্য ও পয়:নিষ্কাশন, আশ্রয় শিবিরের অভ্যন্তরে সড়ক, ফুটপাত, বাতি, হাটবাজার উন্নয়ন, যোগাযোগকারী সড়ক, সেতু, সাইক্লোন সেল্টার, মাল্টিপারপাস কমিউনিটি কে›ন্দ্র নির্মাণ করা হবে।জরুরী ভিত্তিতে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় মাল্টি-সেক্টর প্রকল্পের আওতায় রোহিঙ্গাদের জন্য সুপেয় পানি, স্বাস্থ্য ও পয়:নিষ্কাশন, আশ্রয় শিবিরের অভ্যন্তরে সড়ক, ফুটপাত, বাতি, হাটবাজার উন্নয়ন, যোগাযোগকারী সড়ক, সেতু, সাইক্লোন সেল্টার, মাল্টিপারপাস কমিউনিটি কে›ন্দ্র নির্মাণ করা হবে।

রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় মাল্টি-সেক্টর প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ১ হাজার ৫৭ কোটি ৮৪ লাখ টাকা।এর মধ্যে প্রকল্প সাহায্যে হিসেবে বৈদেশিক সহায়তা পাওয়া যাবে ১ হাজার ৪৮ কোটি ২৮ লাখ টাকা। সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় হবে ৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। প্রকল্পটি ডিসেম্বর ২০১৮ থেকে নভেম্বর ২০২১ মেয়াদে বাস্তবায়ন হবে। এই প্রকল্পটি ডিসেম্বর ২০১৮ থেকে নভেম্বর ২০২১ মেয়াদে বাস্তবায়ন হবে।

মুস্তাফা কামাল আরো বলেন, "এই প্রকল্প ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী একনেক সভায় ডাকঘরগুলোতে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ই-কর্মাসসহ বিভিন্ন নতুন কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সমাধিস্থল সংরক্ষণের পাশাপাশি যেখানে গণহত্যা হয়েছে, সেখানকার গণকবরে যারা শায়িত আছেন তাদের নাম খুঁজে বের করে তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। যাদের নাম পাওয়া যাবেনা, সেখানে লিখতে হবে অজানা শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সব পুলিশের জন্য পর্যায়ক্রমে আবাসন ব্যবস্থা করতে হবে। প্রত্যেক জেলায় একটি করে ১০তলা ভবন তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।" 

একনেকে অনুমোদন পাওয়া অন্য প্রকল্পসমূহের মধ্যে রয়েছে- বগুড়া হতে শহীদ এম মনসুর আলী স্টেশন-সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত নতুন ডুয়েলগেজ রেল লাইন নির্মাণ, ঈশ্বরদী থেকে পাবনা হয়ে ঢালারচর পর্যন্ত নতুন রেললাইন নির্মাণ, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ৫ নং জোনের অভ্যন্তরীণ রাস্তা, নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণ, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা, নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণ প্রকল্প, ডিজিএফআই এর টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি অবকাঠামো, মানবসম্পদ এবং কারিগরি সক্ষমতা উন্নয়ন প্রকল্প,  মাদানী এভিনিউ থেকে বালু নদী পর্যন্ত মেজর রোড প্রশস্তকরণ এবং বালু নদী থেকে শীতলক্ষ্যা নদী পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ (প্রথম পর্ব) প্রকল্প ইত্যাদি।