• শুক্রবার, নভেম্বর ১৫, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৬ রাত

আদালতের রায়ে চার আসনে প্রার্থীশূন্য ধানের শীষ

  • প্রকাশিত ০৭:০১ রাত ডিসেম্বর ১৭, ২০১৮
মনোনয়ন বাতিল
উপরে ডানে- আফরোজা খান রিতা, বাঁয়ে- তমিজ উদ্দিন। নিচে ডানে- আবদুল মহিত তালুকদার, বাঁয়ে- সরকার বাদল। ফাইল ছবি

ঋণখেলাপীর অভিযোগ এবং উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরে না দাঁড়িয়ে সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় তাদের প্রার্থীতা বাতিল ঘোষণা করা হয়

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারাদেশে বিএনপি'র চার প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করেছেন উচ্চ আদালত। ঋণখেলাপীর অভিযোগ এবং উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরে না দাঁড়িয়ে সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় সোমবার (১৭ ডিসেম্বর) তাদের প্রার্থীতা বাতিল ঘোষণা করা হয়। মনোনয়ন বাতিল হওয়া চার প্রার্থী হলেন- ঢাকার ধামরাইয়ের উপজেলা চেয়ারম্যান তমিজউদ্দিন (ঢাকা-২০), বগুড়ার আদমদীঘির উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল মহিত তালুকদার (বগুড়া-৩) এবং বগুড়ার শাহজাহনপুরের উপজেলা চেয়ারম্যান সরকার বাদল (বগুড়া-৭)। ফলে আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ পাবেন না তারা।

মানিকগঞ্জ-৩: এই আসনের বিএনপি প্রার্থী আফরোজা খান রিতার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া সিদ্ধান্ত স্থগিত করে হাইকোর্টের আদেশের ওপর ‘নো অর্ডার’ দিয়েছে আপিল বিভাগ। ফলে তিনি আর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারছেন না। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

রিতার বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে আদালতে রিট করে সোনালী ব্যাংক। ১২ ডিসেম্বর রিটের শুনানি নিয়ে বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ তার মনোনয়নপত্র বৈধ করার ওপর স্থগিতাদেশ দেয়। এর বিরুদ্ধে তিনি আপিল বিভাগে আবেদন করেন।

ঢাকা-২০: এই আসনে বিএনপি প্রার্থী তমিজ উদ্দিন আহমেদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণায় নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী বেনজির আহমেদ। রিটে বলা হয়, ধামরাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগের আগে তমিজ উদ্দিনের মনোনয়নপত্র বৈধ বলে গৃহীত হয়। বেনজিরের করা রিটের শুনানি নিয়ে ১১ ডিসেম্বর হাইকোর্ট তমিজ উদ্দিনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণায় ইসির সিদ্ধান্ত স্থগিত করেন। এ কারণে আটকে যায় তমিজ উদ্দিনের নির্বাচনে অংশগ্রহন।

এই আদেশের বিরুদ্ধে আবেদন করেন তমিজ উদ্দিন। হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেন চেম্বার বিচারপতি। ফলে তমিজ উদ্দিনের নির্বাচনে অংশগ্রহনের পথ খুলে যায়। সোমবার শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগ চেম্বার বিচারপতির দেওয়া স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নেন। ফলে তমিজ উদ্দিনের নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথ ফের আটকে যায়।

বগুড়া-৩: হাইকোর্টের আপিল বিভাগের নির্দেশে বগুড়া-৩ (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীতার সুযোগ পাচ্ছেন না ধানের শীষের কোনও প্রার্থী। সোমবার (১৭ ডিসেম্বর) এ আসনের প্রার্থী আদমদীঘি উপজেলা চেয়ারম্যান এবং উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল মহিত তালুকদারের মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া সিদ্ধান্ত স্থগিত করে হাইকোর্টের আদেশের ওপর চেম্বার আদালতের স্থগিতাদেশ চলমান রেখেছেন আপিল বিভাগ। 

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে শুনানি করেন, আইনজীবী এজে মোহাম্মদ আলী ও প্রবীর নিয়োগী। নির্বাচন কমিশনের পক্ষে ছিলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। 

এ আদেশের ফলে বগুড়া-৩ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম তালুকদার সহ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ছয় প্রার্থী।

এই আসনের প্রার্থীরা হলেন- জাতীয় পার্টির নুরুল ইসলাম তালুকদার (লাঙ্গল), বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের আবদুল কাদের জিলানী (টেলিভিশন), বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির লিয়াকত আলী (কোদাল), ইসলামী আন্দোলনের শাহজাহান আলী তালুকদার (হাত পাখা), স্বতন্ত্র আফজাল হোসেন (আপেল), স্বতন্ত্র আবদুল মজিদ (ডাব) ও স্বতন্ত্র নজরুল ইসলাম (মটরগাড়ি)।

বগুড়া-৭: উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরে না দাঁড়িয়ে বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনের বিএনপি প্রার্থী শাহজাহানপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সরকার বাদলের মনোনয়নপত্র বাতিল করে নির্বাচন কমিশন।

এরপর প্রার্থিতা ফিরে পেতে তিনি হাইকোর্টে আবেদন করেন। হাইকোর্ট ৯ ডিসেম্বর পৃথক রিটের শুনানি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেন। পরে এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করে নির্বাচন কমিশন। আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে দেন। একইসঙ্গে পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠানোর আদেশ দেন। সোমবার পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এ আদেশ বহাল রেখেছেন।