• বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৪, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৩১ রাত

যেখানে লাল-সবুজে রাঙানো সব প্রাইমারি স্কুল

  • প্রকাশিত ০৫:৪৮ সন্ধ্যা ডিসেম্বর ১৮, ২০১৮
প্রাইমারি স্কুল টাঙ্গাইল
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দেওয়াল রাঙানো হয়েছে জাতীয় পতাকার রঙে। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

শিশুদের স্কুলগামী করা, ঝরে পড়া রোধ, জাতীয় পতাকা ও সঙ্গীতের প্রতি শ্রদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধের হাতেখড়ি দেওয়ার লক্ষ্যেই বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে এ ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ

বিজয়ের মাসে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। উপজেলার ১৫৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে রাঙানো হয়েছে বাংলাদেশের পতাকার রঙে। প্রতিটি বিদ্যালয় যেন একেকটি বিজয় নিশান। বিষয়টি দৃষ্টি কেড়েছে এলাকার জনসাধারণের। 

শিশুদের স্কুলগামী করা, ঝরে পড়া রোধ, জাতীয় পতাকা ও সঙ্গীতের প্রতি শ্রদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধের হাতেখড়ি দেওয়ার লক্ষ্যেই গোপালপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে এ ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের উদ্যোগে পেশাদার শিল্পীদের দিয়ে করানো হয়েছে এমন দৃষ্টিনন্দন চিত্রকর্ম। বাইরের দেওয়াল তো বটেই, কোথাও কোথাও স্কুলের ভেতরের দেওয়ালও শোভায়িত করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চিত্রকর্ম দিয়ে।

এ বিষয়ে উপজেলার নয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মুক্তিযোদ্ধা আঞ্জু আনোয়ারা ময়না বলেন, "এটি একটি মডেল। লাল সবুজ পতাকায় মোড়ানো ভবন মানেই সেটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ জন্য কাউকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় খুঁজে বের করতে কষ্ট করতে হয় না।"

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস নিয়েছে এমন উদ্যোগ। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

তিনি আরও বলেন, "প্রথম শ্রেণিতে পড়া একটি শিশুও এখন সহজেই জাতীয় পতাকা চিনতে পারে। স্কুলে জাতীয় সঙ্গীত গাইতে সে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। লাল সবুজকে মন থেকে সে ভালোবাসতে শুরু করে। জাতীয় পতাকার সাথে সাথে সে মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনতে দারুণ পছন্দ করে। জাতীয় পতাকা, সঙ্গীত আর মুক্তিযুদ্ধ তার হৃদয়ে একাকার হয়ে যায়।"

এর ফলে শিশুরা মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ নিয়েই বড় হয়ে ওঠার পাশাপাশি দেশপ্রেমের উদ্বুদ্ধ হবে বলে মনে করেন তিনি।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার রফিকুল ইসলাম রুমি বলেন, "এখানকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রায় ২৭ হাজার শিশু পড়াশোনা করে। তাদেরকে মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ শেখানোর পাশাপাশি প্রত্যেকটি বিদ্যালয়কে শিশুদের জন্য সেকেন্ড হোম করার চিন্তা থেকেই ‘এক্সিল্যান্ট স্কুল’ নামে এ ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ গ্রহন করা হয়।" 

ইতোমধ্যে এই উদ্যোগের সুফল মিলছে বলেও জানান তিনি।