• বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৭, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:২৩ রাত

রাবিতে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের অভিযোগ

  • প্রকাশিত ০৭:০৩ রাত ডিসেম্বর ১৯, ২০১৮
Rajshahi University
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের দুই নেতার বিরুদ্ধে

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি)-র ছয় শিক্ষার্থীর কাছ থেকে প্রায় ৫০ হাজার টাকা সমমূল্যের পাঁচটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের দুই নেতার বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (১৮ ডিসেম্বর) দিবাগত মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাদার বখ্‌শ হলের ২৩৩ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগীরা হলেন- দর্শন বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম, গণিত বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী বেলাল হোসেন, ইতিহাস বিভাগের চতুর্থ বর্ষের উজ্জল হোসেন, অর্থনীতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ইশতিয়াক আহমেদ, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের মাহফুজুর রহমান এবং গণিত বিভাগের তৃতীয় বর্ষের মো. রাশেদ। রাতেই তাদের পুলিশে দেয় ছাত্রলীগ।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর রবিউল ইসলামের জিম্মায় মুচলেকা নিয়ে বুধবার (১৯ ডিসেম্বর) সকালে তাদের ছেড়ে দেয় পুলিশ।

অভিযুক্তরা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক চঞ্চল কুমার অর্ক এবং মাদার বখশ হল ছাত্রলীগের কর্মী শুভ্র।

ভুক্তভোগীরা জানান, ইতিহাস বিভাগের চতুর্থ বর্ষের উজ্জল হোসেন কয়েকজন বন্ধু সহ মাদার বখ্‌শ হলের মেহেদির কক্ষে টাকা দিয়ে তাস খেলছিলেন। ওই কক্ষেই ল্যাপটপে কাজ করছিলেন রবিউল। এ সময় রাবি ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি শাদীদ মুনতাসির এলাহী, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সাব্বির হোসেন, মেহেদি হাসান সজল, সাংগঠনিক সম্পাদক অর্ক, ছাত্রলীগ কর্মী শুভ্রসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী সেখানে এসে উজ্জল ও তার বন্ধুদেরকে মারধর করেন এবং তাদের কাছ থেকে পাঁচটি স্মার্টফোন সহ নয়টি ফোন এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেন অর্ক ও শুভ্র। 

পরে হল প্রভোস্ট সেখানে উপস্থিত হয়ে ফোন ও মানিব্যাগ ফিরিয়ে দিতে বললে ছাত্রলীগ নেতা অর্ক শুধুমাত্র চারটি নরমাল ফোন ও মানিব্যাগ ফিরিয়ে দেন।

ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রত্যেকের মানিব্যাগেই পাঁচ-সাতশ’ করে টাকা ছিল। কিন্তু তাদেরকে টাকাশূন্য মানিব্যাগ ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ছাত্রলীগ নেতা অর্ক বলেন, “হলে জুয়া খেলা হচ্ছে এমন খবর পেয়ে আমরা তাদেরকে আটক করে প্রভোস্টকে খবর দেই। তাদেরকে দুয়েকটি চড়-থাপ্পড় দিয়েছি। তাদের কাছ থেকে আমিই ফোন ও মানিব্যাগ নিয়েছিলাম, সেগুলো ফিরিয়ে দিয়েছি।”

ভুক্তভোগী রাশেদ ও মাহফুজের দাবি, আমাদের কাছ থেকে শুভ্র ফোন ও মানিব্যাগ নিয়েছিল।

তবে ছাত্রলীগ কর্মী শুভ্র ফোন ও মানিব্যাগ নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন।

এ বিষয়ে হল প্রভোস্ট অধ্যাপক আব্দুল আলিম বলেন, “বিষয়টি শোনার পর আমি হলে গিয়েছি। আটককৃতদের মধ্যে আমার হলের দুজন ছাত্র ছিল। জুয়া খেলার জন্য তাদের বিরুদ্ধে আমরাই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। বাকিদের বিষয়টি প্রক্টর দেখবেন। ফোন ও মানিব্যাগের বিষয়টি নিয়েও ছাত্রলীগের সঙ্গে কথা বলব।”

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, “ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জুয়া খেলা অবস্থায় কয়েকজনকে আটক করে হল প্রভোস্টের হাতে তুলে দিয়েছে। তবে ফোন নেওয়ার বিষয়টি আমি জানি না।”

মতিহার থানার ওসি (তদন্ত) মাহবুব আলম বলেন, বুধবার রাতে পুলিশ পাঁচজনকে আটক করে থানায় এনেছিল। আজ (বুধবার) সকালে সহকারী প্রক্টর রবিউল ইসলামের জিম্মায় মুচলেকা নিয়ে তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।