• বুধবার, জুলাই ২৪, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪৪ রাত

এগারোটি নির্বাচনে হেরেও থেমে নেই মারফত আলীর প্রচারণা

  • প্রকাশিত ০৫:২০ সন্ধ্যা ডিসেম্বর ২৩, ২০১৮
মারফত আলী
এগারোবার হেরেও আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মারফত আলী। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

১৯৮০ সাল থেকে জাতীয় এবং স্থানীয় পর্যায়ে এগারোটি নির্বাচনে অংশ নিলেও জয়ের মুখ দেখেননি একবারও

জয়-পরাজয় তার কাছে মুখ্য নয়, এলাকার জনগণকে সচেতন করতেই টানা এগারোবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন তিনি। পরাজিত হয়েছেন প্রতিবারই। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও হাল না ছেড়ে কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) থেকে প্রার্থী হয়েছেন মারফত আলী।

জানা যায়, এবার ওই আসনে হারিকেন প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন তিনি। গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন এই মুক্তিযোদ্ধা। শনিবার (২৩ডিসেম্বর) তিনি উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় গণসংযোগ করে হারিকেন প্রতীকে ভোট চান। 

এসময় তিনি বলেন, আমি ভেড়ামারা-মিরপুরের উন্নয়নের বৈষম্য দূর করতে চাই। এই লক্ষ্য নিয়েই আমি সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি। নির্বাচিত হলে আমি মিরপুরের মানুষের পাশে দাঁড়াবো। তাই এলাকার মানুষ গণজোয়ার সৃষ্টি করে হারিকেন প্রতীকে ভোট দিয়ে উন্নয়ন বৈষম্য দূর করতে এগিয়ে আসবেন বলে বিশ্বাস করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, টানা এগারোবার জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন মুক্তিযোদ্ধা মারফত আলী মাস্টার। আর এজন্য নিজের বাড়ি এবং প্রায় ১৫ বিঘা জমি বিক্রি করেছেন। এমনকি বিয়ে পর্যন্ত করেননি সাবেক এই শিক্ষক। ১৯৮০ সাল থেকে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত জাতীয় এবং স্থানীয় পর্যায়ে এগারোটি নির্বাচনে অংশ নিলেও জয়ের মুখ দেখেননি একবারও। এরমধ্যে ৮টি জাতীয় সংসদ নির্বাচন, একটি করে উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভা এবং একটি ইউপি নির্বাচন রয়েছে। 

ছাত্র জীবনে ১৯৬২ সালে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন তিনি। ১৯৬৬ এর ছয় দফা আন্দোলনেও যুক্ত ছিলেন। ১৯৬৯ সালে তিনি মিরপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৭০ সালে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি স্বাধীনতার স্বপক্ষে বিভিন্ন আন্দোলনে অংশ নেন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধেও অংশ নেন। এইচএসসি পাশ মারফত আলী কর্মজীবনে দৌলতপুর উপজেলার ছাতারপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক হিসাবে চাকরি করেছেন। উপজেলার সদরপুর ইউনিয়নের নওদা আজমপুর এলাকার মৃত হাতেম আলীর ছেলে ৭৫ বয়সী মারফত আলী মাস্টার বর্তমানে থাকছেন মিরপুর পৌরসভার খন্দকবাড়িয়া মহল্লায়। 

নির্বাচনের অভিজ্ঞতার বিষয়ে মারফত আলী বলেন, সর্বপ্রথম ১৯৮০ সালে মিরপুর উপজেলার সদরপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে খেজুরগাছ প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করি। সেবার মাত্র ১২৬ ভোটে পরাজিত হই। তারপর ১৯৮৬ সালে ১৫ দলীয় জোটের মাছ প্রতীকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করি। সে সময় ১৩ হাজার ভোট পাই। ১৯৮৮ এবং ১৯৯১ সালে দুইবারই জাসদ (শাজাহান সিরাজ) এর দলের হয়ে মাছ প্রতীকে নির্বাচন করি। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে জনতা পার্টি (আতাউল গনি উসমানী) থেকে হরিণ প্রতীকে নির্বাচন করি। এরপর ২০০১ এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে অংশ নেই। ২০১০ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে টিয়া পাখি প্রতীকে নির্বাচন করেছি। ২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচনে জেএসডির তারা প্রতীকে অংশ নিয়েছিলাম। পরে অর্থের অভাবে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেই। বর্তমানে মারফত আলী বেঙ্গল ন্যাশনাল কংগ্রেস দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তবে দল নিবন্ধন না পাওয়ায় বাংলাদেশ মুসলিম লীগের হয়ে হারিকেন প্রতীক নিয়ে ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।