• বুধবার, জুলাই ২৪, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪৪ রাত

অন্ধ বাবাকে নিয়ে ভ্যান চালায় ছেলে!

  • প্রকাশিত ০২:৪২ দুপুর জানুয়ারী ২৩, ২০১৯
জীবিকার তাগিদে বাবাকে সহযোগিতা করতে ভ্যান চালান ১১ বছর বয়সী শুভ
জীবিকার তাগিদে বাবাকে সহযোগিতা করতে ভ্যান চালান ১১ বছর বয়সী শুভ। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

‘আমি অন্ধ বলে কেউ ভ্যানে উঠতে চায়না, তাই বাধ্য হয়ে ছেলেকে দিয়ে ভ্যান চালাই’

বাস-ট্রাকে চালকের সহযোগী (হেলপার)যাত্রাপথের একটি স্বাভাবিক বিষয়।কিন্তু তিন চাকার ভ্যান গাড়িতেও একজন চালকের সহযোগী রয়েছেন, অবাক করার মতই বিষয় বটে।ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট রয়েছে জীবন যুদ্ধে অংশ নেওয়া চরম এক সত্যের ।  ভ্যান চালক বাবা অন্ধ , তাই তার শিশু সন্তান নিজেই বসেছেন চালকের আসনে। আর সহযোগীর আসনে রয়েছেন তার অন্ধ বাবা।

কুষ্টিয়ার মিরপুর পৌরসভার সবেদ আলীর ছেলে মো. শফি (৩৫)। ছোট বেলায় রাতকানা রোগী ছিলেন তিন। এখন দিনরাত সব সময় চোখে ঝাপসা দেখেন। তাই জীবন জীবিকার তাগিদে এজমাত্র ছেলে শুভ (১১) সংসারের হাল ধরেছেন। বাবাকে সহযোগীতা করতে সে এখন নিজেই ভ্যান চালান।

বুধবার (২৩জানুয়ারি) দুপুরে কথা হয় মো. শফির সাথে। তিনি বলেন, ‘বার বছর বয়সে রাতকানা রোগ হয়েছিল। সে সময় এক কবিরাজের কাছে চিকিৎসাও করিয়েছিলেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এখন একেবারেই চোখে দেখেন না। তাই ছেলে শুভ ভ্যান চালান। আর তাকে সহযোগিতা করেন তিনি।’ শফি আরও বলেন, ‘অভাবের সংসার তাই ছেলেকে চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত পড়ালেখা করিয়েছেন। তবে ইচ্ছা থাকার পরেও পড়ালেখা ছেড়ে হাল ধরতে হয়েছে সংসারের।’

শফি জানান,‘ ছয়মাস আগে ১৫হাজার টাকা ঋণ করে একটি ভ্যান কিনেছি। এখনো ঋণ শোধ করতে পারিনি। প্রতিদিন যে দুই থেকে তিনশ টাকা আয় হয় তা দিয়ে কোন মতে সংসার খরচ চলে। তিনি আরও জানান, ‘আমি অন্ধ বলে কেউ ভ্যানে উঠতে চায়না। তাই বাধ্য হয়ে ছেলেকে দিয়ে ভ্যান চালাই।’ তার স্ত্রীরও একচোখ অন্ধ বলে জানান শফি।