• বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৭, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০২:৩৭ দুপুর

রাতে একাই এসএসসি পরীক্ষা দিলো রিকি

  • প্রকাশিত ০২:১৫ দুপুর ফেব্রুয়ারি ৩, ২০১৯
কুষ্টিয়ার খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী রিকি হালদার
ধর্মীয় বিধান মেনে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ও ব্যবস্থাপনায় রাতে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন কুষ্টিয়ার খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী রিকি হালদার। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

‘ধর্মের কারণে আমরা শনিবার সকল কাজ থেকে  বিরত থাকি, কেবল উপাসনা করি। তাই পরীক্ষাটা সকাল বেলা দিতে পারছি না’

ধর্মীয় বিধান মেনে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ও ব্যবস্থাপনায় রাতে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন কুষ্টিয়ার খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী রিকি হালদার। শনিবার কুমারখালী এমএন পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষা দেন রিকি হালদার।সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হয়ে তার পরীক্ষা শেষ হয় রাত ৯টায়। 

রিকির পরিবার জানায়, তাদের ধর্মীয় বিধান মতে শনিবার দিবালোকে কোনো প্রকার লেখালেখি করা যাবে না। তাই শনিবার সকালের পরীক্ষা সূর্যাস্তের পর দেওয়ার অনুমতি চেয়ে যশোর শিক্ষা বোর্ডে আবেদন করেন রিকি হালদার। শিক্ষা বোর্ড আবেদন মঞ্জুর করে ২, ৯, ১৬ ও ২৩ ফেব্রুয়ারি শনিবারের বাংলা প্রথম পত্র, গণিত, রসায়ন ও উচ্চতর গণিত পরীক্ষা দিনের পরিবর্তে সূর্যাস্তের পর নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে পত্র পাঠিয়েছে কেন্দ্র সচিবকে। 

কুমারখালী এমএন পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রাধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব ফিরোজ মহম্মদ বাশার জানান, যশোর শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। রিকি সকালে পরীক্ষা কেন্দ্রে এসেছে। অন্য সবাই পরীক্ষা দিয়ে চলে গেছে, কিন্তু রিকিকে আমরা কেন্দ্রের আলাদা কক্ষে অপেক্ষায় রেখেছি। সারাদিনই কক্ষের মধ্যে অবস্থান করে খাওয়া-দাওয়াসহ সবকিছু সে ওই রুমে বসেই করে। সন্ধ্যা ৬টায় রিকি পরীক্ষার আসন গ্রহণ এবং পরীক্ষা শুরু করে। রাত ৯টায় খাতা জমা দিয়ে কক্ষ ত্যাগ করেছে। রিকির পরীক্ষা গ্রহণে ১০ সদস্যের টিম দায়িত্ব পালন করেছে বলে জানান কেন্দ্র সচিব। রিকি কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার পারফেক্ট ইংলিশ ভার্সন স্কুলের এসএসসি বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষার্থী। 

রিকি হালদার সাংবাদিকদের বলেন, আমরা সেভেন্থ ডে অ্যাডভান্টিস্ট সম্প্রদায়ের মানুষ। আমরা খ্রিশ্চিয়ান। ধর্মের কারণে আমাদের শনিবার দিনে পরীক্ষা দিতে বাধা রয়েছে। আমরা শনিবার উপাসনা করি।  ্এদিন আমরা কাজ, পড়াশুনা, লেখালেখি, কেনাকাটা সব কিছু থেকে আমরা বিরত থাকি। তাই পরীক্ষাটা সকাল বেলা দিতে পারছি না। সকালবেলার বদলে সূর্য ডোবার পরে সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরীক্ষা দেব, ৩ ঘণ্টা। রিকি হালদার অনুভূতি ব্যক্ত করে আরও বলেন, বলতে গেলে খুবই ভালো। আবার একদমই খারাপ। খুবই ভালো বলতে গেলে আমি সুযোগ পেয়েছি। সেজন্য আমি ধন্যবাদ দিতে চাই। খারাপ বলতে গেলে আমি সবার সাথে তো পরীক্ষা দিতে পারছি না।