• বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:২৮ রাত

বাল্যবিবাহ ঠেকানোয় মাদ্রাসা শিক্ষককে গাছে বেঁধে নির্যাতন, গ্রেফতার ১

  • প্রকাশিত ০৪:৪১ বিকেল ফেব্রুয়ারি ৪, ২০১৯
তারিকুল মাওলা
নিগৃহীত মাদ্রাসা শিক্ষক তারিকুল মাওলা। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন।

মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে

নোয়াখালীর হাতিয়ায় তৃতীয় শ্রেণীর এক মাদ্রাসা ছাত্রীর বিয়ে বন্ধ করার চেষ্টা করায় এক মাদ্রাসা শিক্ষক গাছের সাথে বেঁধে শারীরিক ভাবে নিগৃহীত হয়েছে। এই ঘটনায় মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

জানা যায়, তৃতীয় শ্রেণীর এক ছাত্রীর বিয়ে হচ্ছে জানতে পেরে বিয়ে থামাতে উদ্যোগী হন হাতিয়ার দারুল আরকাম ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষক তারিকুল মাওলা। প্রথমে তিনি ঐ শিক্ষার্থীর বাসায় যেয়ে ঐ শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের বোঝানোর চেষ্টা করেন। তাতে কাজ না হওয়ায় তিনি পুলিশের হেল্পলাইনে ফোন করেন।

তারিকুল এ প্রসঙ্গে বলেন, "শুরুতে আমি পুলিশের হেল্পলাইন ৯৯৯ এ ফোন করে ঘটনার বিস্তারিত জানাই। তারপর তাদের কাছ থেকে নম্বর নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে যোগাযোগ করি। তারপর উনি আমাকে এ ব্যাপারে সাহায্য করবেন বলে আশ্বাস দেন।"

পরে হাতিয়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের হস্তক্ষেপে পরের দিন বিয়ের অনুষ্ঠান বন্ধ করা হয়। তবে, ঐদিন সন্ধ্যায় কতিপয় যুবক মাগরিবের নামাজের পর মসজিদ থেকে তাকে এবং ঐ মসজিদের ইমাম মিনহাজুল ইসলামকে ডেকে নিয়ে তাদেরকে রড ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটায়। তারিকুলের ধারণা যে ঐ যুবকেরা পাত্রপক্ষের লোক ছিল। পরে তাদের দুইজনকে ঐ শিক্ষার্থীর বাড়িতে নিয়ে গিয়ে সেখানেও তাদের বেঁধে রেখে মারধোর করা হয়। এসময় তাদের সঙ্গে থাকা ৩ টি মোবাইল ফোন, ১টি টর্চ লাইট, ৫৩০০ টাকা, একটি ভিসা কার্ড, মাদ্রসার শিক্ষক পরিচিতি কার্ড ও জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে যায়। পাশাপাশি তাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক তিনটি স্ট্যাম্প ও দুটি নীল কাগজে স্বাক্ষর নেয়। পরে তাদের চিৎকার শুনে এলাকার লোকজন এসে তাদের উদ্ধার করে   নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।

এ ঘটনায় তারিকুল মাওলা গত ২ ফেব্রুয়ারি আবদুল কাদেরকে প্রধান আসামি করে ছমির উদ্দিন, মোহাম্মদ আলী মহব্বত, এনায়েত হোসেন বেচু, বাবলু, আবুল কালাম, মো. দুলাল ও এমরান হোসেন এর নাম উল্লেখপূর্বক ৪/৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।  

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুজ্জামান শিকদার জানান, আজ সকাল ১০ টায় মামলার প্রধান আসামি আবদুল কাদেরকে উপজেলার হরণি ইউনিয়নের হাতিয়া বাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তিনি আরো জানান, বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।