• সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৫:১৫ সন্ধ্যা

তিন যুগ আগে এমপিওভুক্ত হওয়া মাদ্রাসায় নেই একজনও শিক্ষার্থী!

  • প্রকাশিত ০৬:০৮ সন্ধ্যা ফেব্রুয়ারি ৬, ২০১৯
বরিশাল মাদ্রাসা
মাদ্রাসা পরিদর্শনে গিয়ে বরিশাল সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

শিক্ষার্থী না থাকায় বিনামূল্যে দেওয়া বিগত বছরগুলোর বইও বিতরণ করা হয়নি

বরিশালের সদর উপজেলায় চাঁদপুরা ইউনিয়নের দূর্গাপুর হাজী মোবারক আলী দাখিল মাদ্রাসা দীর্ঘ ৩৩ বছর আগে এমপিওভূক্ত হলেও সেখানে নেই একজনও শিক্ষার্থী। 

তবে এমপিও টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন মাফিক ছাত্র ‘ম্যানেজ করে’ তাদেরকে পরীক্ষায় বিশেষ সুবিধা দিয়ে পাশ করানো হয়। 

বরিশাল সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির মঙ্গলবার (৫ ফেব্রুয়ারি) হঠাৎ করেই মাদরাসাটি পরিদর্শনে গিয়ে এ অবস্থা দেখে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া স্ট্যাটাসে এসব তথ্য তুলে ধরেন। 

ইউএনও হুমায়ুন কবির জানান, বিষয়টি জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ‘‘বরিশাল সদর উপজেলার চাঁদপুরা ইউনিয়নের দূর্গাপুর হাজী মোবারক আলী দাখিল মাদরাসার পাশ দিয়ে ওই এলাকার একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দিতে যাওয়ার সময় ইচ্ছে হলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম দেখার। দুঃখের বিষয় মাদ‌্রাসাটির প্রথম হতে দশম শ্রেণি ঘুরে একটি শ্রেণিতে (দশম শ্রেণি) দুইজন ছাত্রসহ একজন শিক্ষককে ক্লাস নিতে দেখা যায়। অপর শ্রেণি সমূহে গত কয়েক বছরে কোনও শিক্ষার্থী হাজির হয়নি বলে জানা যায়। অর্থাৎ পাঠদান কার্যক্রম প্রয়োজন হয়নি। শিক্ষক লাইব্রেরিতে গিয়ে ১৪ জন শিক্ষকের মধ্যে দশজনকে হাজির পেলাম।’’

শিক্ষার্থী না থাকায় বিতরণ করা হয়নি বইও। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

ইউএনও আরও উল্লেখ করেন, আমি ওই এলাকায় যাব এমন তথ্য জেনে শিক্ষকদের অনেকেই উপস্থিত হলেও কোনও শিক্ষার্থীকে উপস্থিত করতে পারেনি। শিক্ষক হাজিরা খাতায় হাজিরায় ভরপুর থাকলেও ফ্রেব্রুয়ারি মাসে হাজিরা খাতায় কোনও শিক্ষার্থীর হাজিরা দেখা যায়নি। প্রত্যেক শ্রেণিতে ২৫ থেকে ৩০জন করে শিক্ষার্থীর নাম থাকলেও অধিকাংশ নামই ভুয়া অর্থাৎ কাল্পনিক। এছাড়া অন্য স্কুলে পড়াশোনা করে এমন শিক্ষার্থীদের নাম খাতায় লিখে কিছুদিন পর পর তাদেরকে প্রায় শতভাগ হাজির দেখানো হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মাদ্রাসাটি ১৯৮৫ সালে স্থাপিত হয় ও ১৯৮৬ সালে এমপিওভুক্ত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে কোনও ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি না হলেও এমপিও টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজনমাফিক শিক্ষার্থী ‘ম্যানেজ করে’ তাদের পরীক্ষায় ‘বিশেষ সুবিধা’ দিয়ে পাশ করানো হয়। বিগত কয়েক বছরে সেখানে পাঠানো সরকারি বইগুলও বিতরণ করা হয়নি। কারণ বই নেওয়ার জন্য কোনও শিক্ষার্থী ওই মাদরাসায় নেই। 

এ বিষয়ে জানতে দুর্গাপুর হাজী মোবারক আলী দাখিল মাদ্রাসার একাধিক শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা এ বিষয় কোনও কথা বলতে রাজি হননি।