• রবিবার, নভেম্বর ১৭, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৮ রাত

জোলি: শেখ হাসিনা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন

  • প্রকাশিত ১০:১৬ রাত ফেব্রুয়ারি ৬, ২০১৯
জোলি-হাসিনা
বুধবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন জাতিসংঘের বিশেষ দূত অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। ছবি: ফোকাস বাংলা

জোলি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মতো নেতা বর্তমান বিশ্বে বিরল

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন বাংলাদেশে সফররত জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার বিশেষ দূত এবং হলিউড অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। জোলি বলেন, বিপুল পরিমাণ বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বিশ্বে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন শেখ হাসিনা।

বুধবার (৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে সাক্ষাৎকালে এসব কথা বলেন জোলি।

জোলি-হাসিনার বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এসব কথা জানান প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম।

অ্যাঞ্জেলিনা জোলি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মতো নেতা বর্তমান বিশ্বে বিরল।

জাতিসংঘের বিশেষ এই দূত বলেন, এই বিপুল পরিমাণ রোহিঙ্গা বাংলাদেশের জন্য বড় বোঝা। এই বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠীকে পুনর্বাসন কেন্দ্রে আশ্রয় দেওয়া একটি দূরুহ কাজ।

তাই, জাতিসংঘ, ইউএনএইচসিআর এবং বিশ্বব্যাংক যৌথভাবে বাংলাদেশকে এই চাপ মোকাবেলায় সহায়তা করবে বলেও জানান জোলি।

তিনি বিশেষ করে রোহিঙ্গা শিশুদের ভবিষ্যতের ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশ তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য ইস্যুতে সহযোগিতার চেষ্টা করার সত্ত্বেও তাদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।

জোলি উল্লেখ করেন, তিনি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা নারীদের ওপর নির্যাতন ও তাদের হত্যার সাম্প্রতিক ঘটনা সম্পর্কে শুনেছেন।

সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের বিশেষ দূতকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, রোহিঙ্গা সঙ্কট অবশ্যই সমাধান করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার বাংলাদেশের নিকট প্রতিবেশী এবং তাদের নাগরিকদের প্রত্যাবাসনে দেশটির সঙ্গে একটি চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছে। তবে শেখ হাসিনা সেই চুক্তি বাস্তবায়নে বিলম্বে হতাশা প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়া হয়েছে এবং ইতোমধ্যে আশ্রয় শিবিরগুলোতে এ পর্যন্ত ৪০ হাজার মতো নতুন শিশুর জন্ম হয়েছে।

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে তার সরকারের গৃহীত উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক লাখের বেশি শরণার্থী সেখানে অপেক্ষাকৃত উন্নত পরিবেশে সাময়িক আশ্রয় পাবে।

এ প্রসঙ্গে তিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের এক কোটির বেশি লোক পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে আশ্রয় নেয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতার বিবরণ দেন।

শেখ হাসিনা ১৯৭১ সালে তাঁর মাসহ তিনি ও বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের গৃহবন্দী থাকার এবং ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর ৬ বছর ধরে তার নির্বাসনে থাকার মুহূর্তগুলোর বর্ণনা দেন।

জাতিসংঘের বিশেষ দূত অ্যাঞ্জেলিনা জোলি প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সেই বেদনাময় কাহিনী শুনে দুঃখ প্রকাশ করেন।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর ভাগ্নে রেদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান।