• মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫৫ রাত

জাবিতে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে অস্ত্র ঠেকিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ

  • প্রকাশিত ০৮:১৮ রাত ফেব্রুয়ারি ৯, ২০১৯
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। ফাইল ছবি

গত বছর এক ট্যুর ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির মালিকের সঙ্গে তাদের সখ্যতা গড়ে ওঠে

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের এক কর্মীর বিরুদ্ধে একটি ট্যুর অ্যাজেন্সির মালিককে আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে প্রায় ৯৬ হাজার টাকা চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ছাত্রলীগের আরেক নেতা মোবাইল কলের মাধ্যমে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগসূত্রে জানা গেছে। ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠান 'মিজান ট্যুরস্ এন্ড ট্রাভেলস' গত কয়েক বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ট্যুর ব্যবস্থাপনা করে আসছে।

অভিযুক্তরা হলেন, ছাত্রলীগ কর্মী ও মীর মশাররফ হোসেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সৈয়দ লায়েব আলী এবং শাখা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান লিটন। তারা দুজনেই বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ৪৩তম আবর্তনের শিক্ষার্থী। গত বছর এক ট্যুর ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির মালিকের সঙ্গে তাদের সখ্য গড়ে ওঠে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জানুয়ারির মাঝামাঝিতে ওই অ্যাজেন্সির ব্যবস্থাপনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বান্দরবান-সেন্টমার্টিন ট্যুরে যান। এতে মোট খরচ দেখানো হয় ১ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। গত ২৭ জানুয়ারি ট্যুর অ্যাজেন্সির মালিক মো. মিজানুর রহমান ক্যাম্পাসে গেলে দর্শন বিভাগ তাকে নগদ ৮২ হাজার টাকা পরিশোধ করে। 

এদিকে, ওইদিন মিজানুরের ক্যাম্পাসে যাওয়ার খবর পেয়ে ছাত্রলীগ কর্মী লায়েব তাকে ফোন করে মীর মশাররফ হোসেন হলে ডাকেন। 

মিজানুর রহমান ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, ট্যুর ব্যবস্থপনার প্রস্তাব দিয়ে ওইদিন বিকাল তিনটার দিকে লায়েব তাকে তার হলের কক্ষে (‘বি’ ব্লকের ২১৭ নম্বর) নিয়ে যান। দরজা লাগিয়ে মিজানুরের কানে মোবাইল ধরলে অপর প্রান্ত থেকে ছাত্রলীগ নেতা লিটন ৫০হাজার টাকা দাবি করেন। নইলে হাত-পা ভাঙার হুমকি দেন। ওই সময় লায়েব মিজানুরের শরীরে অস্ত্র ঠেকিয়ে পকেটে থাকা নগদ ৮৮ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। সেইসঙ্গে জোর করে বিকাশ অ্যাকাউন্টের পিন নিয়ে একটি নাম্বারে ৭ হাজার ৭৪৪ টাকা ক্যাশ আউট করানো হয়। এরপর লায়েব মিজানুরকে হল সংলগ্ন ফটক দিয়ে বের করে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক থেকে মিরপুরের বাসে তুলে দেন।

মিজানুর রহমান আরও বলেন, ‘‘তারা আমার কাছে প্রতি ট্যুরে পাঁচ হাজার টাকা করে চাঁদা দাবি করেছে। একটা ট্যুর আরেঞ্জ করে আমার ৫-১০ হাজার টাকা লাভ হয়। অনেক সময় লোকসানও হয়। ওই পরিমাণ চাঁদা দেওয়া সম্ভব না।’’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মী লায়েব আলী বলেন, ‘‘অভিযোগ পুরোটাই মিথ্যা। মিজানুর ব্যবসায় লোকসানের শিকার হয়ে লিটন আর আমার কাছ থেকে টাকা নিয়ে পার্টনার বানায়। এখন সে টাকা দিতে না পেরে আমার শত্রুপক্ষের আশ্রয়ে এসব মিথ্যা অভিযোগ ছড়াচ্ছে।’’

আরেক অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা লিটন বলেন, ‘‘ঘটনার দিন আমি কুমিল্লায় ছিলাম। মিজানুরকে বিভিন্ন সময় ট্যুর ম্যানেজ করে দিয়ে সহযোগিতা করেছি। এখন সে অন্য কারও ইন্ধনে আমার নামে মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে।’’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ফিরোজ-উল-হাসান ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘মিজানুর রহমান আজ সন্ধ্যায় আমাকে ফোন করে মৌখিক অভিযোগ জানিয়েছেন। তার কাছে লিখিত অভিযোগ চাওয়া হয়েছে। সেটি পাওয়া গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি মো. জুয়েল রানা বলেন, ‘‘ঘটনা এখনও জানিনা। আমরা খোঁজ-খবর নিচ্ছি। বাস্তবে এমন ঘটনা ঘটে থাকলে তা দুঃখজনক।’’