• বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৮, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৫:১৬ সন্ধ্যা

পল্লী চিকিৎসক থেকে এমবিবিএস ডাক্তার!

  • প্রকাশিত ০৮:০১ রাত ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৯
পল্লী চিকিৎসকের কোর্স করে এমবিবিএস  ডিগ্রি ব্যবহার করায় আটক মোঃ মাসুদ রানা
পল্লী চিকিৎসকের কোর্স করে এমবিবিএস ডিগ্রি ব্যবহার করায় আটক মোঃ মাসুদ রানা। চবি: ঢাকা ট্রিবিউন

তার বিরুদ্ধে পল্লী চিকিৎসকের কোর্স করে এমবিবিএস  ডিগ্রি ব্যবহার এবং অপর আরেক চিকিৎসকের সার্টিফিকেট জাল করার অভিযোগ উঠেছে

পাবনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে লক্ষাধিক টাকায় চাকরিসহ বিএমএ’র আজীবন সদস্য মাসুদ রানাকে আটক করেছে পুলিশ।তার বিরুদ্ধে পল্লী চিকিৎসকের কোর্স করে এমবিবিএস  ডিগ্রি ব্যবহার এবং অপর আরেক চিকিৎসকের সার্টিফিকেট জাল করার অভিযোগ উঠেছে।

পাবনা পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, মোঃ মাসুদ রানা তার কাগজপত্রগুলি ফেনী জেলার সোনাগাজী থানার ভৈরব চৌধুরীহাট শুলাখালী গ্রামের মৃত আব্দুস শাকুর ছেলে ডাঃ মোঃ মাসুদ করিমের নাম ও বাবার নাম ঠিক রেখেভুয়ামাতার নাম কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভুয়া ঠিকানা দিয়ে সকল কাগজপত্রগুলি জাল করে ডাক্তার হিসাবে পাবনার ভাঙ্গুড়া হেলথ্ কেয়ার লিঃ প্রতিষ্ঠানে ডাক্তার হিসেবে নিয়োজিত আছে। এ ঘটনা জানার পর অনুসন্ধান পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) মোঃ ফিরোজ কবিরকে নির্দেশ দেয়া হয়। পরবর্তীতে নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর থেকে তিনি মাসুদ রানার অবস্থান নির্ণয় করে তাকে গ্রেফতার করেন। 

পুলিশ সুপার আরও বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে মাসুদ রানা স্বীকার করেছে তার চিকিৎসকগত কাগজপত্রগুলিভুয়াজাল। এব্যাপারে পাবনা ভাঙ্গুড়া থানায় একটি মামলা হয়েছে। এছাড়া এর আগেও ২০০৫ সালে মাসুদ রানা একই ধরনের অপরাধ করে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানায় গ্রেফতার হয়েছিলো এবং তার বিরুদ্ধে ঐ থানায় একটি মামলা রয়েছে। 

২০১২ সাল থেকে দীর্ঘ ৭ বছর পাবনা’র ভাঙ্গুড়া উপজেলায় হেলথ্ কেয়ার লিঃ নামক একটি প্রতিষ্ঠানে ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা বেতনে চিকিৎসা সেবা করে আসছিলোভুয়াডাক্তার মাসুদ রানা। পরে তার বিরুদ্ধে যাবতীয় শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট জাল করে চিকিৎসা প্রদানের অভিযোগ উঠলে তিনি পালিয়ে যান। এছাড়া তিনি বিএমএ’র আজীবন সদস্য যার নং-৭৮।

এ ব্যাপারে ডাঃ মোঃ মাসুদ করিম বলেন, ১৯৯০-৯১ সেশনে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে ভর্তি এমবিবিএস পাস করে ২০০২ সালে ইন্টারশিপ সম্পন্ন বিএমডিসি নিবন্ধন পাই। বর্তমানে আমি ঢাকার খিলগাঁও ডক্টরস চেম্বার ও মেডিসিন কর্ণার চিকিৎসা প্রদানের কাজ করে আসছি। পাবনা জেনারেল হাসপাতালের ডাক্তার শুভ’র মাধ্যমে আর বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে জানতে পারি এই ঘটনা। পরে আমি ভাঙ্গুড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স’র টিএইচও এবং সিভিল সার্জন পাবনা ও ইউএনও ভাঙ্গুড়াকে জানাই। টিএইচও মাসুদ রানাকে তার শিক্ষগত যোগ্যতা ও চিকিৎসকগত যোগ্যতার কাগপত্র দেখাতে বললে সে ফটো কপি দেখায়। তখন টিএইচও আসল কাগজপত্র দেখাতে বললে সে কাগজপত্র আনার কথা বললে পালিয়ে যায়।


ভুয়া ডাক্তার মাসুদ রানার কাছে জানা যায়, বিএ পাস করে ২০০২ সালে ঢাকার টঙ্গীতে ‘সূর্য্যরে হাসি’ প্রতিষ্ঠানে পল্লী চিকিৎসকের ২ মাসের কোর্স করি। পরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এমবিবিএস চিকিৎসাক পরিচয়ে চিকিৎসা প্রদান করে আসছি।