• বুধবার, জুন ২৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:০৫ দুপুর

কক্সবাজারে শতাধিক ইয়াবা কারবারির আত্মসমর্পণ

  • প্রকাশিত ০২:৫৭ দুপুর ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০১৯
ইয়াবা
ঐতিহাসিক এই অনুষ্ঠানটি শতাধিক স্থানীয় উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে টেকনাফ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

এ পর্যন্ত এই অনুষ্ঠানে ৩০টি অস্ত্র এবং সাড়ে ৩ লাখ ইয়াবা ট্যাবলেট সহ ১০২ জন মাদক ব্যবসায়ী আত্মসমর্পণ করেছে।

কক্সবাজারে বহুল আলোচিত 'মাদক ব্যবসায়ীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আনতে আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান' শীর্ষক আয়োজনে প্রায় একশত ইয়াবা ব্যবসায়ীর আত্মসমর্পণ শুরু হয়েছে। 

শনিবার ইয়াবা কারবারিদের আত্মসমর্পণের ঐতিহাসিক এই অনুষ্ঠানটি শতাধিক স্থানীয় উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে টেকনাফ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে। অবৈধ ইয়াবা ব্যবসায়ীদের আত্মসমর্পণের শর্তসমূহের মধ্যে রয়েছে মাদক ব্যবসা চিরতরে ছেড়ে দেয়া, সেইসাথে এই অবৈধ ব্যবসায়ের সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করতে সহায়তা করা। আত্মসমর্পণকারীদেরও তাদের অন্যায় কার্যকলাপের জন্য আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে।  

এ পর্যন্ত এই অনুষ্ঠানে ৩০টি অস্ত্র এবং সাড়ে ৩ লাখ ইয়াবা ট্যাবলেট সহ ১০২ জন মাদক ব্যবসায়ী আত্মসমর্পণ করেছে।

এই আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত আছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মো: আসাদুজ্জামান খান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করার সময় পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বলেন, "যারা আইনের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে এবং যারা এই অবৈধ বাণিজ্য থেকে মুনাফা করেছে তাদের সবার বিরুদ্ধেই মামলা দায়ের করা হবে"।

তিনি আরও বলেন, "গত বছর মে মাসে মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি অনুসারে কক্সবাজার থানায় প্রায় ১,৪৪১টি মাদক সংক্রান্ত মামলা করা হয়। এ পর্যন্ত প্রায় ১,৫৮৩ সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে"।

পুলিশের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আরো জানান, পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে এ পর্যন্ত প্রায় ৫৩ জন মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে।

মাসুদ হোসেন আরও বলেন, "মাদক বহনকারীদের আত্মসমর্পণ শর্তসাপেক্ষ। সেই সাথে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের বেআইনি অর্থ-সম্পদ তদন্ত করে দেখবে"।

এই বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে কক্সবাজার আওয়ামী লীগ সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মোস্তফা বলেন, "আইনের প্রতি আত্নসমর্পণ করা মানুষের সংখ্যাটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, আমরা চাই মাদক সংক্রান্ত অপরাধ দমনে দৃশ্যমান অগ্রগতি"।

আত্মসমর্পণকারী ইয়াবা ব্যবসায়ীদের তালিকায় আওয়ামী লীগের প্রাক্তন আইন প্রণেতা এবং কথিত ইয়াবা-সম্রাট আবদুর রহমান বদির পরিবারের সাত জন সদস্যও রয়েছেন। তবে তাকে অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি।

সে সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পুলিশের আইজি মোহাম্মদ জাভেদ পাটোয়ারি, চট্টগ্রামের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক, কক্স বাজারের ডেপুটি কমিশনার মোঃ কামাল হোসেন, বিজিবির জেলা সেক্টর কমান্ডর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাজেদুর রহমান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্মকর্তারাসহ জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।