• শুক্রবার, নভেম্বর ১৫, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৬ রাত

দুদককে আদালত: যে বিড়াল ইঁদুর ধরতে পারে না, সে বিড়াল থাকার দরকার নেই

  • প্রকাশিত ০৬:০৩ সন্ধ্যা মার্চ ৬, ২০১৯
দুদক
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কার্যালয় (ফাইল ছবি)। ছবি: মেহেদী হাসান/ ঢাকা ট্রিবিউন

জবাবে দুদক আইনজীবী বলেন, "আমাদের কাছে মামলার সব ফাইল আছে। একটু সময় দিন, সব আপনাদের দেবো।"

দুর্নীতি দমন কমিশন- দুদককে ভর্ৎসনা করে হাইকোর্ট বলেছেন, "যে বিড়াল ইঁদুর ধরতে পারে না, সে বিড়াল থাকার দরকার নেই।" টাঙ্গাইলের জাহালমকে ‘ভুল’ আসামি করার বিষয়টি তদন্তে উঠে এলেও তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি বা জামিন না দেওয়ার ঘটনায় দুদকের উদ্দেশে এই মন্তব্য করেন হাইকোর্ট।

এ মামলার শুনানি চলাকালে বুধবার (৬ মার্চ) বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন।

মামলার শুনানিতে দুদক আইনজীবীকে উদ্দেশ করে আদালত বলেন, "কেউ চায় না, দুদক সম্পর্কে মানুষের ধারণা খারাপের দিকে যাক। তবে দুদককেও পরিচ্ছন্ন হতে হবে।"

আদালতে দুদকের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। আর ভুক্তভোগী জাহালমের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী অমিত দাস গুপ্ত।

এসময় দুদক আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, "চ্যানেল ২৪–এ জাহালমের বিষয়ে রিপোর্ট আসার পর জাহালম যে নির্দোষ সে বিষয়ে দুদক তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়। সে তদন্তে জাহালম যে নির্দোষ তা উঠে আসে। তদন্তে দেখা গেছে যে, সে অভিযুক্ত না। তাই আমরা তো বিষয়টি নিয়ে সঠিক পথেই আছি।"

তখন আদালত বলেন, "চ্যানেল ২৪–এ রিপোর্ট হওয়ার আগে তিনি (তদন্ত কর্মকর্তা) কী করেছেন? দুদক একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। আপনাদের অনেক স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। যে বিড়াল ইঁদুর ধরতে পারে না, সেই বিড়াল থাকার দরকার নেই।"

জবাবে দুদক আইনজীবী বলেন, "আমাদেরও সীমাবদ্ধতা আছে।"

আদালত বলেন, "আগে অনেকেই দুর্নীতিকে ঘৃণা করতো। কিন্তু এখন এই অবস্থার অবক্ষয় হচ্ছে।"

এরপর দুদক আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, "সোনালী ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাক্ষ্য-প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে জাহালমকে নিয়ে আমরা তদন্ত করেছি।" আদালত তখন বলেন, "আপনারা সেসব তথ্য কী যাচাইবাছাই করবেন না? আপনারা রিপোর্টে বলছেন, জাহালম ১৮ ব্যাংক থেকে লোন নিয়েছে। কিন্তু এখন মুখে ২টি ব্যাংককে মামলায় পক্ষভুক্ত করতে চাচ্ছেন?"

তখন দুদক আইনজীবী বলেন, "আমাদের কাছে মামলার সব ফাইল আছে। একটু সময় দিন, সব আপনাদের দেবো।"

আদালত এ মামলার সব নথি তলব করে মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১০ এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন।

উল্লেখ্য, গত ২৮ জানুয়ারি ২৬ মামলায় ‘ভুল’ আসামি জেলে থাকার অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি ও মামলার বাদীসহ চার জনকে তলব করেছিলেন হাইকোর্ট। দুদকের চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি, মামলার বাদী, স্বরাষ্ট্র সচিবের একজন প্রতিনিধি ও আইন সচিবের একজন প্রতিনিধিকে উপস্থিত থেকে এ ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। 

এ বিষয়ে একটি পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন উপস্থানের পর স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বিচারপতি নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।