• রবিবার, মে ১৯, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৯ রাত

ডাকসু নির্বাচন: সরকার সমর্থিত ছাত্রসংগঠন আগে কখনও জেতেনি

  • প্রকাশিত ০১:০৪ দুপুর মার্চ ১১, ২০১৯
ডাকসু ভবন
ডাকসু ভবন (ফাইল ছবি)। ছবি: মেহেদি হাসান/ঢাকা ট্রিবিউন।

এমনকি সামরিক শাসনামলেও জেতেনি সরকার সমর্থিতরা

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সব সময় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে এসেছে। নব্বইয়ের এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্রস্থল ছিল ডাকসু। তবে, এর পর আর হয়নি ডাকসু নির্বাচন।

দীর্ঘ ২৮ বছর পর আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে ডাকসু নির্বাচন। তাই এই নির্বাচনকে ঘিরে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। বহুল আলচিত এবং প্রতীক্ষিত এই ডাকসু নির্বাচনের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে পূর্ববর্তী সব নির্বাচনেই তৎকালীন সময়ে দেশের ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন পরাজিত হয়েছে। এমনকি সামরিক শাসনামলেও জেতেনি সরকার সমর্থিত কোন ছাত্রসংগঠন।

স্বাধীনতা-পূর্ববর্তী সময়েও ডাকসু নির্বাচনে জয়লাভ করে সরকারবিরোধীদের ছাত্র সংগঠনগুলো। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে প্রথম ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেবারের নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হলেও হয়নি ভোট গণনা। তাই বাতিল হয়ে যায় সেবারের নির্বাচন। এরপর দেশের অস্থিতিশীল রাজনীতি এবং স্মাওরিক শাসনের প্রেক্ষাপটে প্রায় ৬ বছর আর ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।

এরপর ১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমানের শাসনামলে আবার ডাকসুর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। জিয়ার আমলে ১৯৭৯ এবং ১৯৮০ সালে মোট ৩টি ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। জিয়া তখন ক্ষমতায় থাকলেও এই ৩ বারের কোনবারই তার প্রতিষ্ঠিত ছাত্র সংগঠন ছাত্রদল জয়লাভ করতে পারেনি।

'৭৯ এর ডাকসু নির্বাচনে ভিপি নির্বাচিত হন মান্না-সমর্থিত জাসদ ছাত্রলীগের মাহমুদুর রহমান মান্না। এই নির্বাচনে ছাত্রদল কোন আসন পায়নি।

'৮০ সালের নির্বাচনে টানা ২য় বারের মত ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হন মান্না-সমর্থিত জাসদ ছাত্রলীগের মাহমুদুর রহমান মান্না।। এই নির্বাচনে প্রথম ডাকসুতে আসন পায় ছাত্রদল। তবে, এই নির্বাচনে প্রচারণা চালানোর সময় সংঘর্ষে জড়ায় ছাত্রলীগ এবং ছাত্রশিবির।

এরপর এক বছর বিরতি দিয়ে '৮২ সালে ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। জিয়াউর রহমানকে হত্যা করা হলেও তখনও ক্ষমতায় বিএনপি। এই নির্বাচনে প্যানেল ডাকসুতে একটিও পদ পায়নি। তবে ১১টি হল সংসদে ১৩২ পদের মধ্যে ছাত্রদল পায় ৬৫টি।

এরপর ১৯৮৯ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দীর্ঘ ৭ বছর পর আবার অনুষ্ঠিত হয় ডাকসু নির্বাচন। সেবারের নির্বাচনে ৬টি বামপন্থী ছাত্রসংগঠনের সাথে জোটবদ্ধ হয়ে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তোলে ছাত্রলীগ। নির্বাচনে এই জোট ছাত্রদলকে পরাজিত করে। তবে, এই নির্বাচনে এরশাদের গড়া ছাত্রসংগঠন ছাত্রসমাজ কোন আসন পায়নি।

১৯৯০ সালের ডাকসু নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ছিল প্রায় ২৭ হাজার। এই নির্বাচনে প্রথমবার ডাকসুতে আসন এবং জয়লাভ করে ছাত্রদল। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের অঙ্গীকার নিয়ে প্রচারণা চালিয়ে হল ও ডাকসু মিলিয়ে এই নির্বাচনের মোট ১৮৮ আসনের মধ্যে ১৫১টিই পায় ছাত্রদল। ছাত্রদল থেকে ডাকসুর ভিপি হন আমান উল্লাহ আমান ও জিএস হন খায়রুল কবির খোকন।

এর দীর্ঘ ২৮ বছর পর সোমবার সকাল ৮ টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবগুলো হলে একযোগে ডাকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এবারের নির্বাচনে ডাকসুর ২৫টি পদে বিভিন্ন প্যানেল ও স্বতন্ত্রভাবে মোট ২২৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।