• সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:১৪ দুপুর

ময়নাতদন্তের পরও মেলেনি ডা. রাজনের মৃত্যুর কারণ

  • প্রকাশিত ০৭:০৫ রাত মার্চ ১৮, ২০১৯
চিকিৎসক রাজন কর্মকার
চিকিৎসক রাজন কর্মকার। ছবি : সংগৃহীত

রাজন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের জামাতা।

ময়নাতদন্তের পরও ডা. রাজন কর্মকারের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেনি শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ। আজ সোমবার ডা. রাজনের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। 

ময়নাতদন্তের পর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সেলিম রেজা বলেন, 'যদিও আমরা প্রাথমিক ময়নাতদন্ত শেষ করেছি, কিন্তু কীভাবে ডা. রাজনের মৃত্যু হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।'   

সেলিম রেজা আরও জানান, মৃতদেহের হৃদপিণ্ড ও পাকস্থলির টিস্যু ভিস্কেরা টেস্টের জন্য সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। সেগুলো পরীক্ষা করলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। এ ছাড়া সব ধরনের সন্দেহ দূর করার জন্য হিস্টোপ্যাথোলজি টেস্টও করা হবে। 

রাজন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ)ম্যাক্সিলোফেসিয়াল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ছিলেন। রাজন তার স্ত্রী কৃষ্ণা মজুমদারের সঙ্গে রাজধানীর ইন্দিরা রোডের একটি বাসায় থাকতেন। কৃষ্ণা খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের মেয়ে।

গত শনিবার দিবাগত রাতে পৌনে ৪টার দিকে পরিবারের সদস্যরা তাকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে এ ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড দাবি করে রাজনের মামা সুজন কর্মকার শের-ই বাংলা থানায় একটি মামলা করেন। 

সুজন কর্মকার সাংবাদিকদের বলেন, ‘রাতে (শনিবার) রাজনের স্ত্রী কৃষ্ণা আমার বোনকে ফোনে বলেছে, আপনার ছেলে মারা গেছে, আমি আপনাদের দেখে নেবো, নিজেও সুইসাইড করবো। আপনাদের শান্তিতে থাকতে দেবো না। আমাকে আমারবোন (রাজনের মা) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ফোন করে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, রাজন মারা গেছে। মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে আমি হাসপাতালে ছুটে আসি।’

সুজন আরও বলেন, ‘আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই। লাশের ময়নাতদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর কারণ জানতে চাই। এর জন্য যা যা করা প্রয়োজন, আমরা তা করবো।’ মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছি, এখনও মামলা করিনি।’

এ বিষয়ে রাজনের সহকর্মী ও বাংলাদেশ ডেন্টাল সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ডা. হুমায়ুন কবির বলেন, 'রাজন বাংলাদেশের একজন সেরা ম্যাক্সিলোফেসিয়াল বিশেষজ্ঞ ছিলেন। এটা সাধারণ মৃত্যু হতে পারে না। আমরা তার ময়নাতদন্ত ও তার প্রতিবেদন চাই। এটা হত্যা না সাধারণ মৃত্যু তা নিয়ে আমরা কোনো সন্দেহ চাই না।'

সুজনের বরাত দিয়ে ডা. হুমায়ুন আরও বলেন, রাজন কোনো ধরনের শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন না। তবে দাম্পত্য কলহের জের ধরে এর আগে তিনি পপুলার মেডিকেল কলেজ, ডা. সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও  বিএসএমএমইউ-এর নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি হয়েছেন। রাজনের ওপর নির্যাতনের কারণেই এমনটি হয়েছে। 

এ বিষয়ে, শের-ই বাংলা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ রোববার জানান, এই মৃত্যুর খবর তারা রোববার দুপুর ৩টার দিকে পান। এ ঘটনা জানতে পুলিশের ১২ ঘণ্টা দেরি হলো কেন এমন প্রশ্নের জবাবে পরিদর্শক আজাদ বলেন, 'প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রথমে আমরা খাদ্যমন্ত্রীর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার বিষয়টি জানতে পারি। পরে রাজনের মৃত্যু ও হত্যার অভিযোগের বিষয়টি সামনে আসে।'  

রাজনের মৃত্যুর বিষয়ে স্কয়ার হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আসাদুজ্জামান বলেন, রাজনকে যখন হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় তখন তার শরীরে কোনো পালস ছিলো না। প্রাথমিকভাবে তার মৃতদেহ দেখে সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি। এ কারণে তখন বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়নি।