• সোমবার, নভেম্বর ১৮, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৩১ রাত

একই গর্ভে ২ জরায়ু, ২ বার প্রসবে ৩ সন্তানের জন্ম

  • প্রকাশিত ০৭:৩৩ রাত মার্চ ২৮, ২০১৯
৩ শিশু
তিন সন্তানের সঙ্গে সুমন বিশ্বাস ও আরিফা সুলতানা ইতি। ঢাকা ট্রিবিউন

যশোর আদ-দ্বীন হাসপাতালের গাইনি চিকিৎসক শীলা পোদ্দার বলেন, "এই প্রথম এ ধরনের একটি ঘটনা দেখলাম। এর আগে এমন ঘটনা দেখিওনি, শুনিওনি।"

যশোরের শার্শায় এক গৃহবধুর গর্ভে দুটি জরায়ুর মাধ্যমে ৩ সন্তানের জন্ম হয়েছে। প্রথম সন্তান জন্মের ২৬ দিন পর আরও দুই সন্তানের জন্ম হয়। এ ঘটনায় চিকৎসক ও সেবিকারা বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তিনটি নবজাতকই বর্তমানে সুস্থ আছে। গৃহবধুর পুরো নাম আরিফা সুলতানা ইতি (২০)। তার বাড়ি যশোরের শার্শা উপজেলার শ্যামল গাছিতে।

খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স মঞ্জু রাণী জানান, ২৫ মার্চ ভোর রাতে এখানে আনার পর ইতির স্বাভাবিক ডেলিভারি হয়। তাতে একটি পুত্র সন্তান জন্ম নেয়।  এরপর কিছু অস্বাভাবিক লক্ষণের ফলে তাকে আরও পরীক্ষা করা হয়। তখনই ইতির দুটি জরায়ু শনাক্ত হয়। এরপর তাকে এখানে আরও কিছুদিন চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু দ্বিতীয় জরায়ু তখনও সন্তান জন্ম দেওয়ার দেওয়ার পর্যায়ে আসেনি। এক পর্যায়ে ৩ মার্চ তাকে হাসপাতাল থেকে ছুটি দিয়ে বলে দেওয়া হয় ১৫/২০ দিন পর পরীক্ষা করলে ওই জরায়ু থেকে সন্তান প্রসবের পরিস্থিতি বোঝা যাবে। 

ইতি স্বামী সুমন বিশ্বাস ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, ফেব্রুয়ারী মাসের শেষের দিকে তার স্ত্রী গর্ভজনিত কারণে অসুস্থ হলে তাকে প্রথমে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ঘণ্টাখানেক থাকার পর স্ত্রীকে ২৫ ফেব্রুয়ারি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ভোররাতে পৌঁছানোর পর সেখানে তার স্ত্রীর স্বাভাবিক ডেলিভারি হয়। এতে একটি ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। এর ২৬ দিন পর তার স্ত্রী আবারও অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে যশোর শহরে বেসরকারি আদ-দ্বীন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার স্ত্রী আরও একটি ছেলে ও একটি মেয়ে শিশুর জন্ম দেন। তিনটি শিশুই সুস্থ আছে। 

সুমন আরও বলেন, তিনি শার্শায় একটি ভল্কানাইজিং গ্যারেজের কর্মচারী। দৈনিক ২৫০ টাকা হাজিরায় সেখানে কাজ করেন তিনি। এ অবস্থায় স্ত্রীর চিকিৎসা করাতে গিয়ে ৮০ হাজার দেনায় পড়েছেন। এখন আর্থিক সঙ্কটে রয়েছেন। ২০১৭ সালে প্রথম সন্তান হিসেবে একটি কন্যা শিশুর জন্ম হয়। কিন্তু আর্থিক সঙ্কটের কারণে সন্তান জন্মদানে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে না পারায় ভূমিষ্ঠ হওয়ার কিছুক্ষণ পর ওই সন্তান মারা যায়। এখন ইতির গর্ভে ৩টি সন্তান পেয়ে তিনি খুবই উৎফুল্ল। সন্তানদের নাম রাখা হয়েছে ইফাদ ইসলাম নুর, মো. হুদায়ফা আহমেদ সাকিন ও জান্নাতুল মাওয়া খাদিজা।

যশোর আদ-দ্বীন হাসপাতালের গাইনি চিকিৎসক শীলা পোদ্দার বলেন, "এই প্রথম এ ধরনের একটি ঘটনা দেখলাম। এর আগে এমন ঘটনা দেখিওনি, শুনিওনি। প্রথমে যখন ইতিকে আনা হয়, তখন বিষয়টি বুঝতে পারিনি। পরে অপারেশনের শেষ পর্যায়ে বুঝতে পারি ইতির গর্ভে দুটি জরায়ু ছিল। যার একটিতে একটি সন্তান, অন্যটিতে দুইটি সন্তান ছিল। একটি সন্তান থাকা জরায়ু থেকে আগেই স্বাভাবিক ডেলিভারি হয়েছিল। পরে এখানে আনলে আরও দুইটি বাচ্চা ডেলিভারি হয়।"