• শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:১৪ রাত

অফিসের চেয়ারে বসেই মৃত্যুকে আলিঙ্গন

  • প্রকাশিত ০৬:৫৩ সন্ধ্যা মার্চ ২৯, ২০১৯
মঞ্জুর হাসান
বৃহস্পতিবার বনানীর এফ আর টাওয়ারের ভয়াবহ আগুনে প্রাণ হারিয়েছেন মঞ্জুর হাসান। ছবি: সংগৃহীত

অন্য সবাই পারলেও পঙ্গুত্বের কারণে আগুন লাগার পর অফিস থেকে বেরোতে পারেননি তিনি

"আমিতো বের হতে পারছিনা। আমি তো পঙ্গু মানুষ। আমি মনে হয় আর বাঁচবো না। সবাই অফিস থেকে বের হয়ে যাচ্ছে। আমি কোন উপায় না পেয়ে অফিসের চেয়ারে বসে আছি। আমাকে কেউ একটু বাঁচান। সবাইকে  আমার জন্য দোয়া করতে বলিস। আমি আগুনে পুঁড়ে যাচ্ছি, তোরা ভালো থাকিস"। 

জীবনের অন্তিম মূর্হুতে ছোট ভাই মেহফুজ জুবায়ের পলাশকে ফোনে এ কথাগুলো বলেন বৃহস্পতিবার রাজধানীর বনানীতে কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউয়ের বহুতল ভবন এফআর টাওয়ারে ভয়াবহ আগুনে নিহত মঞ্জুর হাসান (৫০)। পঙ্গুত্বের কারণে নিজের অফিসের চেয়ারে বসেই মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছেন তিনি।

মঞ্জুর হাসানের বাড়ি নওগাঁ সদর উপজেলার বোয়ালিয়া পূর্বপাড়া গ্রামে। তিনি মৃত মুনছুর রহমানের ছেলে। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়। 

নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মঞ্জুর হাসান ছাত্রজীবন (১৯৮৭-৮৮ সাল) থেকেই ঢাকায় থাকতেন। ছাত্রজীবন শেষে চাকরি শুরু করেন। এরপর সংসার। পরিবার নিয়ে ঢাকার ইব্রাহিমপুরে বসবাস শুরু করেন। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে। তিনি কাশেম গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডে প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে চাকুরি করতেন। ঘটনার দিন তিনি ভবনের ২১ তলায় কোম্পানির প্রধান কার্যালয়ে অবস্থায় করছিলেন। আগুন থেকে বাঁচতে সবাই যখন ছুটাছুটি করছিলেন তিনি কোন উপায়ন্তর না পেয়ে অফিসের চেয়ারে বসে ছিলেন। আর জীবনের শেষ সময়টুকুর স্বজনদের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলেছিলেন। এক সময় ফোনে কথা বলা বন্ধ হয়ে যায়। বার বার রিং হলেও অপর প্রান্ত থেকে আর কোন সাড়া তার স্বজনেরা।

নিহতের ছোট ভাই শিমুল ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, "২০০০ সালে অফিসের সামনের রাস্তায় ভাই এক সড়ক দূর্ঘটনায় পঙ্গু হন। এরপর থেকে ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারতেন না। এক প্রকার পঙ্গু জীবন যাপন করতেন। কিন্তু তারপরও কোম্পানি ভাইকে চাকরি থেকে বাদ দেয়নি। অফিসে যখন আগুন লাগে সবাই বাঁচার জন্য ছুটাছুটি করছিল। কিন্তু ভাই পঙ্গু হওয়ায় কিছু করার উপায় ছিলনা। অফিসে বসেই মোবাইল ফোনে আমাদের সাথে কথা বলছিল। আরা দোয়া চেয়েছিল"। 

নিহতের চাচাতো ভাই সাবেক সেনা সদস্য ফজলুর রহমান বলেন, "যখন ঢাকায় থাকতাম নিয়মিত তার সাথে দেখা করতাম। তার অফিসে যেতাম। যখন আগুন লাগার সংবাদ পেলাম তখন ধারনা করেছি হয়ত সে আর বের হতে পারবে না। বিকেলে খবর পাই সে মারা গেছে"।