• শুক্রবার, অক্টোবর ১৮, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৩:৪৬ বিকেল

জাবি প্রো-ভিসির ড্রাইভারের জামাতাকে অপহরণ, আটক ৩ ছাত্রলীগ কর্মী

  • প্রকাশিত ০৮:০৫ রাত মার্চ ৩০, ২০১৯
জাবি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। ফাইল ছবি।

শনিবার ভোরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশমাইল এলাকায় ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী মনির হোসেনকে আটকে মোবাইল, মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এক যুবককে ছিনতাই, মারধর ও তার পরিবারের কাছে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছেন শাখা ছাত্রলীগের পাঁচ কর্মী। ঘটনার শিকার মনির (৩০) হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্যের (প্রো-ভিসি) গাড়িচালক আলমগীর হোসেনের জামাতা। এই ঘটনায় ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। 

আটককৃতরা হলেন, আ ফ ম কামাউদ্দিন হলের ৪৪তম আবর্তনের সঞ্জয় ঘোষ (নাটক ও নাট্যতত্ত্ব), মীর মশাররফ হোসেন হলের ৪৫তম আবর্তনের আল রাজী (সরকার ও রাজনীতি) এবং শহীদ রফিক জব্বার হলের ৪৫তম আবর্তনের রায়হান পাটোয়ারি (ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান)। এর আগে ছিনতাইয়ের দায়ে রায়হান পাটোয়ারির ওপর দুবছরের বহিষ্কারাদেশ রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের। 

পলাতক দুজন হলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের শাহ মুসতাক সৈকত (কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং) এবং মীর মশাররফ হোসেন হলের মোকাররম শিবলু (দর্শন)। তারা দুজনই ৪৫তম আবর্তনের শিক্ষার্থী। ঘটনার বিচার চেয়ে মনির হাসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। 

জানা যায়, রাজধানীতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে শনিবার ভোরে মনির হোসেন তার শ্বশুরের বাসা থেকে বের হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশমাইল এলাকায় অবস্থানকালে কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মী তাকে আটক করে মুঠোফোন ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেন। পরে তাকে ইজিবাইকে করে বোটানিক্যাল গার্ডেনে নিয়ে যান তারা। সেখানে তারা মনির হোসেনকে ঘন্টাব্যাপী লোহার শিকল দিয়ে নির্যাতন করেন। পরে তারা মনিরের স্ত্রীর কাছে মুঠোফোনে ১ লাখ টাকা দাবি করেন। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন কর্মচারী ঘটনাস্থলে যান। উপস্থিতি টের পেয়ে ছাত্রলীগের কর্মীরা পালানোর চেষ্টা করেন। কর্মচারীরা তিনজনকে আটক করেন। তবে, অন্য দু'জন এর আগেই পালিয়ে যান। পরে আটক তিনজনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের হাতে তুলে দেন কর্মচারীরা।

এ প্রসঙ্গে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জুয়েল রানা বলেন, "অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আমরা খোঁজ-খবর নিচ্ছি। তাদের মধ্যে সঞ্জয় ছাড়া বাকিদের চিনি না। বাকিরা ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত থাকলে অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকে প্রশ্রয় দেওয়ার সুযোগ নেই। বিচারের ব্যাপারে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সহযোগিতা করবো"।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) আ স ম ফিরোজ উল হাসান বলেন, "লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযুক্ত পাঁচজনের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয়া হবে। আগামীকাল (রবিবার) ডিসিপ্লিনারি বোর্ডের জরুরি সভা ডাকা হয়েছে। সভায় বিষয়টি তোলা হবে"।