• বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৭, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৩:১০ বিকেল

মায়ের মৃত্যুর পরই শুরু হয় সৎ মায়ের নির্যাতন

  • প্রকাশিত ০৬:৩৬ সন্ধ্যা মার্চ ৩১, ২০১৯
নারী নির্যাতন
প্রতীকী ছবি

সেতু জানায়, প্রায় নয় বছর আগে তার মা রেহানা বেগমের মৃত্যু হয়।

মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলায় সেতু (১০) নামের পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে গরম খুন্তির ছ্যাঁকা দিয়ে দগ্ধ করা অভিযোগ উঠেছে সৎ মা ও সৎ ভাইয়ের বিরুদ্ধে। 

আজ রোববার সৎ মা সাবিনা বেগম ও সৎ ভাই মো. সাব্বিরকে আটক করেছে পুলিশ। এর আগে গত ২৪ মার্চ উপজেলার উত্তর সীমান্তে কবিরাজপুর ইউনিয়নের পান্থাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 

সেতু রাজৈর উপজেলা সীমান্তের পাশে ভাঙ্গা উপজেলার কালামৃধা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২৪ মার্চ সকালে ওই কিশোরীর বাবা রিয়াজ শিকদার প্রতিদিনের মত পান্থাপাড়া বাজারে নিজের দোকানে যান। এ সময় তার ঘাড়, কনুই, হাতসহ ১৩ স্থানে গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়। নির্যাতনের কথা তার বাবাসহ কারো কাছে বললে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় সেতুকে। এ ভয়ে সেতু কাউকে কিছু বলেনি। 

পরে রোববারে আঘাত নিয়ে ঘর থেকে বাইরে গেলে স্থানীয় লোকজন দেখে সেতুকে উদ্ধার করে পাশের কালামৃধা বাজারে নিয়ে চিকিৎসা করান। বিষয়টি পুলিকে জানালে সাবিনা বেগম ও সাব্বিরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়।  

সেতু জানায়, প্রায় নয় বছর আগে তার মা রেহানা বেগমের মৃত্যু হয়। তার মা জীবিত থাকতেই বাবা সৎ মা সাবিনা বেগমকে বিয়ে করেন। মায়ের মৃত্যুর পর থেকেই তার ওপর নির্যাতন শুরু হয়। সৎ ভাই সাব্বির ও সৎ নানীর প্ররোচনায় সাবিনা গরম খুন্তি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানের ছ্যাঁকা দেন। এ সময় যন্ত্রনায় চিৎকার করলেও তাদের মায়া হয়নি। সেদিন নির্যাতনের সৎ ভাই তার হাত চেপে ধরে। 

রাজৈর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) খান মো. জোবায়ের জানায়,  'খবর পেয়ে সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করে রাজৈর হাসপাতালে ভর্তি করি এবং সৎ ভাই সাব্বির ও সৎ মা সাবিনাকে আটক করে থানা নিয়ে আসি।'  

এ বিষয়ে রাজৈর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সোহানা নাসরিন জানান, 'মেয়েটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য রাজৈর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শিশুটি পুনর্বাসনের যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'