• বুধবার, আগস্ট ২১, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৩ রাত

ওসিরা এত সাহস কোথায় পায়, প্রশ্ন হাইকোর্টের

  • প্রকাশিত ০৮:১১ রাত এপ্রিল ২, ২০১৯
হাইকোর্ট

বিচারক বলেন,  ওসি সাহেবরা সব জায়গায় কোর্ট বসিয়ে দেন। তারা কি সালিশ করতে বসেছেন যে সুবিধামতো হলে মামলা নেবেন? অথচ টাকা ছাড়া থানায় একটা জিডিও হয় না।

সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানার ওসির কর্মকাণ্ডে থানায় কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তাদের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট।

মামলা না নেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে শ্যামনগরের ওসি হাবিল হোসেনের বিরুদ্ধে এক ব্যক্তির রিট আবেদনের শুনানিতে মঙ্গলবার বিচারপতি নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের বেঞ্চের এক বিচারপতি বলেন, ওসিরা এত সাহস কোথায় পায়?

শুনানিতে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল আলম সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানার ওসির বিরুদ্ধে মামলা না নেওয়ার অভিযোগের আংশিক সত্যতা পাওয়া গেছে উল্লেখ করলে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে আদালত।

বিচারক বলেন, ওসি মামলা কেন নিলেন না? আমরা রুল দিয়ে দেখি, কেন তিনি মামলা নিলেন না। ওসি সাহেবরা সব জায়গায় কোর্ট বসিয়ে দেন। তারা কি সালিশ করতে বসেছেন যে সুবিধামতো হলে মামলা নেবেন? অথচ টাকা ছাড়া থানায় একটা জিডিও হয় না।

তিনি আরও বলেন, “ওসিরা যেখানে সেখানে কোর্ট বসায়, রাতে কোর্ট বসায়। এত সাহস তারা কোথায় পায়? তারা নিজেরা বিচার বসায় কীভাবে?”

বিচারক আরও বলেন, ১৩ হাজার পুলিশ যারা থানায় বসেন, তাদের জন্য পুরো পুলিশ বিভাগের বদনাম হতে পারে না। পুলিশের অনেক সদস্য খুব কষ্ট করে জীবন-যাপন করেন। আবার অনেকের দেখি ৪-৫টা করে বাড়ি। দেশটা কি চোরের দেশ হয়ে গেছে?


প্রসঙ্গত, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১১টার দিকে সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানার সোরা গ্রামের মো. ফজলুর করিমের বাড়িতে হামলা করে প্রতিপক্ষ। এজন্য ওই গ্রামেরই ইউসুফ আলীসহ তার সঙ্গীদের দায়ী করেন ফজলুর।

তার অভিযোগ,  তাকে মারধর করে নগদ দুই লাখ টাকা, ৮০ হাজার টাকা মূল্যের দুটি সোনার চেইন ও ৫০ হাজার টাকার মালামাল লুট করা হয় এবং যাওয়ার সময় অভিযুক্তরা বাড়ির সীমানা প্রাচীরও ভেঙে দিয়ে যায়।

হামলার সময় শ্যামনগর থানার ওসি হাবিল হোসেনের কাছে ফোন করে সাহায্য চেয়েছিলেন বলেও জানান ফজলুর। কিন্তু ‘অন্য কাজে ব্যস্ত’ বলে ওসি বিষয়টি এড়িয়ে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এরপর ফজলুর কালিগঞ্জ সার্কেলের এএসপিকে ফোনে বিষয়টি জানানোর পাশাপাশি ৯৯৯ এ ফোন করে সাহায্য চাইলে শ্যামনগর থানার এক এএসআই তার বাড়িতে যান। কিন্তু ততক্ষণে হামলাকারীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

পরদিন পুলিশ তদন্ত করে ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে বসে বিষয়টি মীমাংসার জন্য বলে।

কিন্তু সালিশের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে সাতক্ষীরার পুলিশ সুপারের কাছে পুরো ঘটনা তুলে ধরে লিখিত অভিযোগ করেন ফজলুর।

ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি শ্যামনগর থানার ওসিকে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে লিখিত নির্দেশ দেন এসপি। 

এসপির নির্দেশ সত্বেও ওসি কোনও ব্যবস্থা নেননি। পরে গত ৩ মার্চ হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন ফজলুর।

গত ১০ মার্চ প্রাথমিক শুনানিতে আদালত সংশ্লিষ্ট ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলকে বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নিতে বলেন।

মঙ্গলবার শুনানিতে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল আলম ঘটনার আংশিক সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়ে বলেন, এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন তৈরি হয়েছে।

তখন আদালত সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলকে তদন্ত প্রতিবেদনটি সংগ্রহ করতে নির্দেশ দিয়ে আগামী রবিবার পরবর্তী শুনানির দিন ঠিক করে দেন।

পারিবারিক বিরোধের কারণে বাড়িতে হামলা হওয়ায় ওসি সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তির কথা বলেছিলেন বলে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল জানালে বিচারক অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, পুলিশের কাজ তো এটা না। ঘটনার সত্যতা যাচাই করে মামলা নেওয়া। পরবর্তী তদন্তে ঘটনা মিথ্যা প্রমাণিত হলে পুলিশ চূড়ান্ত প্রতিবেদনে তা উল্লেখ করবে অথবা আসামিদের খালাস দেবে।

সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আদালত একটি সমীক্ষা তুলে ধরে বলেছে যে, পুলিশ সদস্যদের মধ্যে মাত্র ১৩ হাজার দুর্নীতিগ্রস্ত। ২ লাখ সদস্য সৎ এবং ভালো। সুতরাং এই ১৩ হাজারের কারণে দুই লাখ পুলিশ সদস্যের সুনাম ক্ষুণ্ণ হতে পারে না।

মামলাটি এক সপ্তাহের জন্য ‘স্ট্যান্ডওভার’ রেখে এই সময়ের মধ্যে শ্যামনগর পুলিশকে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে আদালত নির্দেশ দিয়েছে বলে জানান সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল।