• বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪০ রাত

বরিশালে নোঙর ফেলল প্রথম ভারতীয় যাত্রীবাহী জাহাজ

  • প্রকাশিত ০৮:৩৯ রাত এপ্রিল ৩, ২০১৯
বেঙ্গল গঙ্গা
ভারতীয় প্রমোদতরী আর ভি বেঙ্গল গঙ্গা। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

গত ২৯ মার্চ বেলা সাড়ে ১২ টায় কলকাতার খিদিরপুর থেকে আরভি বেঙ্গল গঙ্গা যাত্রা করে ভারতের হেমনগর হয়ে ৩১ মার্চ আংটিহারা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে।

অবিভক্ত ভারতবর্ষে নৌপথে ছিল বরিশাল-কলকাতার অবাধ যোগাযোগ। কালের বিবর্তনে ভাগ হয়েছে দেশ, সীমান্তে বসেছে পাহারা। রাজনৈতিক কারণে বন্ধ হয়েছে ভারত-বাংলাদেশের নৌ চলাচল।

অবশেষে দীর্ঘ ৭০ বছর পর নৌপথে কলকাতা-ঢাকা যাত্রীবাহী পর্যটন জাহাজ চালু হয়েছে। 

এরই ধারাবাহিকতায় কলকাতা থেকে গত শুক্রবার (২৯ মার্চ) ঢাকার উদ্দেশ্যে ১৯ জন যাত্রী নিয়ে প্রথমবারের মতো প্রমোদতরী আর ভি 'বেঙ্গল গঙ্গা' কলতকাতার খিদিরপুর থেকে যাত্রা শুরু করে বুধবার বেলা ১ টা ২৫ মিনিটে বরিশালের মুক্তিযোদ্ধা পার্ক সংলগ্ন কীর্তনখোলার জেটিতে নোঙর করে।

প্রমোদতরীতে থাকা পর্যটকরা বুধবার সারাদিন বরিশালের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন করে বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টা নাগাদ ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন।

বরিশাল বিআইডব্লিউটিএর নৌ-নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপ-পরিচালক আজমল হুদা মিঠু ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, আমরা জাহাজটিকে বরিশাল নদী বন্দর সংলগ্ন বিআইডব্লিউটিএর একটি জেটিতে নোঙ্গর করিয়েছি। সেখানে যেমন এটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে, তেমনি যাত্রীরা সুন্দরভাবে ঘোরাফেরা করতে পারছেন।

তিনি বলেন, ভারত আমাদের বন্ধুপ্রতীম দেশ। আমরা যাত্রী ও পর্যটকদের ভ্রমণ যেন নিরাপদ ও আনন্দদায়ক হয় সে লক্ষ্যে সার্বিক সহযোগিতা করছি। 

আর এদেশের মানুষের বাঙালিয়ানা এ যাত্রাকে আরও সুন্দর এবং মধুর করেছে বলে মনে করেন প্রমোদতরী আরভি বেঙ্গল গঙ্গার ক্যাপ্টেন শান্তু রায়। 

তিনি বলেন, ভিন্ন দেশের নদীতে নৌযান চালাতে গিয়ে অনেক অভিজ্ঞতা হতে পারে, তবে এখানকার অভিজ্ঞতা বেশ ভালোই। সংশ্লিষ্ট সবাই সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছেন। আর নদীর পাশের জায়গাগুলোও খুব সুন্দর ও মনোমুগ্ধকর। বিশেষ করে সুন্দরবন।

এই পরিসেবা শুরু করেছে নৌ সেবা প্রতিষ্ঠান এক্সটিক হেরিটেজ।

১৯ জন যাত্রী ও ৩০ জন ক্রু নিয়ে চলা জাহাজটিতে মোট ২৮টি কক্ষ রয়েছে। তিন শ্রেণির কামরায় সব মিলিয়ে থাকতে পারবেন মোট ৫৬ জন।

বাংলাদেশের হয়ে যাত্রীদের সহায়তায় নিযুক্ত গালফ ওরিয়েন্ট সিওয়েজ লিমিটেডের লজিস্টিক ম্যানেজার নুরুজ্জামান জানান, গত ২৯ মার্চ বেলা সাড়ে ১২ টায় কলকাতার খিদিরপুর থেকে আরভি বেঙ্গল গঙ্গা যাত্রা করে ভারতের হেমনগর হয়ে ৩১ মার্চ আংটিহারা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। 

পরবর্তীতে মংলা হয়ে পিরোজপুরের কাউখালি রকেটঘাটে গিয়ে ঝালকাঠি হয়ে বুধবার দুপুরে বরিশাল এসে পৌঁছায়।

জাহাজে থাকা ১৯ জন পর্যটকের মধ্যে ভারতের ১৩জন ছাড়াও ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের ৬ জন রয়েছেন।  

তিনি আরও বলেন, পর্যটকদের বাংলাদেশের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরিয়ে দেখানো হচ্ছে।

আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) সকালে জাহাজটি বরিশাল ত্যাগ করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে পাগলার ভিআইপি জেটিতে ৬ এপ্রিল নোঙর করবে এবং ৮ এপ্রিল আবার সেখান থেকে কলকাতার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবে।  

এরই মধ্যে পর্যটকদের বাগেরহাট, কাউখালি ও বরিশালের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরিয়ে দেখানো হয়েছে। চাঁদপুরেও নোঙর করবে বেঙ্গল গঙ্গা।

এই প্রমোদতরীর স্বত্তাধিকারী রাজ সিং মনে করেন, নদীপথে ভারত-বাংলাদেশের এই যাত্রীসেবা ও ভ্রমণে পর্যটন শিল্পের ভবিষ্যত রয়েছে। আমরা দু-দেশের মধ্যে চলাচলের জন্য নতুন জাহাজ বানানোর কাজ করছি।  আমরা কলকাতা থেকে বাংলাদেশে নিয়মিত সেবা দিতে চাই।

প্রমোদতরীতে বাংলাদেশে ভ্রমন করতে পেরে পর্যটকরাও বেশ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।  

ভারতীয় পর্যটক নমরিতা বানসাল বলেন, এই যাত্রাটা একটু অন্যরকম অভিজ্ঞতা এনে দিয়েছে। বাংলাদেশের নদী আর নদীর তীরের সৌন্দর্য, মাছ ধরার দৃশ্য সত্যিই খুব মুগ্ধ করছে। আমরা একই সাথে এদেশের বিভিন্ন স্থানের দর্শনীয় স্থানগুলোও দেখার সুযোগ পাচ্ছি। এভাবে নৌপথে দু-দেশের মধ্যে ভ্রমন ব্যবস্থা চালু থাকলে ভবিষ্যতে পর্যটন শিল্পে উভয় দেশই এগিয়ে যাবে। পর্যটন শিল্পে এ খাতে প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে।