• বুধবার, আগস্ট ২১, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৩ রাত

নিজের অপহরণের জালে ফেঁসে গেলেন নিজেই!

  • প্রকাশিত ১০:২৫ রাত এপ্রিল ৪, ২০১৯
গাজীপুর অপহরণ
অপহরণের নাটক সাজিয়ে র‍্যাবের হাতে আটক টাঙ্গাইলের ব্যবসায়ী দুলাল। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

টাকা দিতে ব্যর্থ হলে তার কিডনি বিক্রি করে দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়। মুঠোফোনে তাকে উদ্ধারের জন্য ভাইয়ের কাছে কাকুতি-মিনতিও করেন দুলাল।

মেয়ের বিয়ের যৌতুকের ঋণ শোধ করতে না পেরে 'মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণের' নাটক সাজিয়ে ফেঁসে গেছেন টাঙ্গাইলের এক ব্যবসায়ী। প্রায় ১২দিন পর আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় গাজীপুর থেকে তাকে আটক করেছে র‌্যাব।

টাঙ্গাইলের ভূয়াপুর উপজেলার বাসিন্দা ওই ব্যবসায়ীর নাম শ্রী দুলাল চন্দ্র দাস (৪০)। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে র‍্যাব-১।

এ বিষয়ে র‌্যাব-১ স্পেশালাইজ কোম্পানি পোড়াবাড়ী ক্যাম্পের অধিনায়ক লে. কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল-মামুন জানান, গত ২৩ মার্চ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে টাঙ্গাইলের ভূয়াপুর থেকে নিখোঁজ হন দুলাল। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান না পেয়ে তার স্বজনরা ভূয়াপুর থানায় এবং গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানায় পৃথক সাধারণ ডায়েরি করেন।

"খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে তার পরিবার জানতে পারে দুলাল চন্দ্র দাসকে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা এলাকায় একটি বাড়ির গোপন কক্ষে আটকে রেখেছে। মুক্তিপণের টাকা পরিশোধ করা না হলে তার কিডনি বিক্রি করে দেওয়ারও হুমকি দেয় কথিত অপহরণকারীরা", যোগ করেন র‍্যাব কর্মকর্তা।

এমন হুমকি পেয়ে দুলালের পরিবারের পক্ষ থেকে র‌্যাব-১ স্পেশালাইজ কোম্পানি পোড়াবাড়ী ক্যাম্পের অধিনায়ক বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে প্রযুক্তি সহায়তায় দুলাল চন্দ্র দাসের অবস্থান নিশ্চিত সম্পর্কে নিশ্চিত হয় র‍্যাব।

পরে র‌্যাব-১’র পোড়াবাড়ী ক্যাম্পের অধিনায়ক লে. কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল-মামুনের নেতৃত্বে র‌্যাব সদস্যরা বুধবার রাতে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে দুলালকে উদ্ধার করে।

র‍্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে দুলাল জানান, পরিবারের আর্থিক অভাবের তাড়নায়ই সে এই পথ বেছে নিয়েছে। ২০১৬ সালে বিভিন্ন এনজিও এবং স্থানীয়দের কাছ থেকে সুদে ঋণ নিয়ে তিন লাখ টাকা যৌতুক দিয়ে তিনি মেয়েকে বিয়ে দেন। সেই ঋণের টাকা পরিশোধ করতে না পেরে এমন অপহরণের নাটক সাজান তিনি।

পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ১ এপ্রিল ভূয়াপুর থেকে গাজীপুরের চন্দ্রায় বন্ধুর বাড়িতে গিয়ে আত্মগোপন করেন তিনি। পরে মিথ্যা অপহরণের কাহিনী সাজিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জনের কণ্ঠ নকল করে ছোট ভাইকে ফোন অপহরণ এবং মুক্তিপণের জন্য ৩ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে ব্যর্থ হলে তার কিডনি বিক্রি করে দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়। মুঠোফোনে তাকে উদ্ধারের জন্য ভাইয়ের কাছে কাকুতি-মিনতিও করেন দুলাল।