• সোমবার, মে ২০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৯ রাত

বগুড়ায় আইপিএল ঘিরে জুয়ার মহোৎসব

  • প্রকাশিত ০৭:৩৩ রাত এপ্রিল ৬, ২০১৯
আইপিএল
এবারের আইপিএলে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব এবং দিল্লি ক্যাপিটালের ম্যাচের ছবি। এএফপি।

তরুণদের মধ্যে জুয়ার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি

বগুড়ায় ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগকে (আইপিএল) ঘিরে জুয়ার মহোৎসব চলছে বলে জানা গেছে। আইপিএলের প্রতিটি ম্যাচকে ঘিরেই জেলার বিভিন্ন স্থানে সেলুন, হোটেল, রেস্তাঁরা, ক্লাব ও ঘরে জুয়ার আসর বসছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বগুড়ায় শুধু আইপিএল নয়; যেকোন আন্তর্জাতিক ওয়ানডে, টেস্ট, টি-২০, বিপিএল, বিশ্বকাপ আসর, এমনকি দেশ-বিদেশের ঘরোয়া লীগের খেলা শুরু হলেই জুয়ার মহোৎসব শুরু হয়ে যায়। কোন দল জিতবে, কোন খেলোয়াড় কত রান করবে, কোন বোলার ক’টা উইকেট নেবে, উইকেট পড়বে কী না, ৪ না ৬ রান হবে এমন অনেক বিষয় নিয়ে বাজি (জুয়া) ধরা হয়।

এই ধরণের জুয়ার খেলোয়ারদের দু’ভাগে ভাগ করা যায়। প্রথমত, যারা একসাথে কোন দোকান, সেলুন, হোটেল বা ঘরে বসে জুয়া খেলে। এরা বাজি বা জুয়ার টাকা নগদ পরিশোধ করে। দ্বিতীয়ত যারা বাড়ি, অফিস বা অন্যত্র বসে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পরিচিতদের সাথে বাজি বা জুয়া খেলে। এ জুয়ার টাকা লেনদেন হয় বিকাশ ও অন্যান্য মোবাইল ব্যাংকিংএর মাধ্যমে। প্রথম ধরনের জুয়া ২০ টাকা থেকে দুই হাজার টাকা এবং দ্বিতীয় জুয়া ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চলে।

এদিকে বিভিন্ন স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লোভের বশবর্তী হয়ে এমনকি দিনমজুর ও রিকশা চালকেরাও জুয়া খেলছেন। এদের কেউ কেউ বাড়ির জিনিসপত্র বিক্রি ও সুদে ঋণ নিয়ে জুয়ায় অংশ নিয়ে সর্বশান্ত হচ্ছেন। এছাড়াও গত বছর এই আইপিএলের খেলা চলাকালীন সময়ে একটি জুয়ার আসরে হেরে যাওয়ায় আত্মাহুতি দেবার ঘটনাও ঘটে। এ নিয়ে জেলায় ব্যাপক তোলপাড় হয়েছিল। অন্যদিকে শেরপুর জুয়ায় হেরে যাওয়ায় ছুরিকাঘাতের মতো ঘটনাও এর আগে ঘটেছে এবং ক্রমশ এই ধরণের সহিংসতার সংখ্যা বাড়ছে।

বিভিন্ন পেশার মানুষ এ জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়লেও শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মচারিদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি লক্ষ্য করা যায়। মূলত তরুণদের মধ্যেই জুয়ার আসক্তি সবচেয়ে বেশি। গত মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) জুয়া খেলার অভিযোগে জেলার শেরপুর উপজেলায় ৯ জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করার পর প্রকাশ্যে জুয়া খেলার প্রবণতা কমলেও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে এখনও জুয়ার জমজমাট আসর বহাল তবিয়তে চালু রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সনাতন চক্রবর্তী ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, "খুব গোপনে ও কৌশলে এ জুয়া চলায় জড়িতদের গ্রেফতার করা খুব কঠিন। তারপরও তারা এ ব্যাপারে ব্যাপক তৎপর রয়েছেন"।

বগুড়ার শেরপুর থানার ওসি হুমায়ুন কবীর বলেন, "আইপিএল জুয়া শুধু বগুড়ায় নয়; পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এ জুয়াতে তরুণ ও যুবকরা বেশি ঝুঁকে পড়েছেন। আমি নীলফামারীতে গিয়েও আইপিএল ঘিরে জুয়ার আসর লক্ষ্য করেছি"।

"এই জুয়াড়িদের সনাক্ত করা খুব কঠিন। এরপরও সতর্ক করতে গত ২ এপ্রিল ৯ জুয়াড়িকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়। থানার সকল কর্মকর্তাকে জুয়াড়ি দেখামাত্রই গ্রেফতারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে", যোগ করেন তিনি।