• সোমবার, নভেম্বর ১৮, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৩১ রাত

চট্টগ্রামে মাদ্রাসা থেকে ছাত্রের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

  • প্রকাশিত ০৫:০১ সন্ধ্যা এপ্রিল ১১, ২০১৯
মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ওই মাদ্রাসায় তালা লাগিয়ে দেয়। তারা মাদ্রাসা ছাত্রকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।

চট্টগ্রামে আবু বক্কর সিদ্দিক আল ইসলামিয়া কওমী মাদরাসা থেকে এক ছাত্রের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত হাবিবুর রহমান (১২) খাগড়াছড়ির দীঘিনালা এলাকার বাসিন্দা। সে পরিবারের সাথে চট্টগ্রাম নগরের শেরশাহ বাংলাবাজার এলাকায় থাকত।

বুধবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে মহানগরীর বায়েজিদ থানার অক্সিজেন এলাকার ওই মাদরাসা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা ইউএনবি।

বায়েজিদ থানার ওসি আতাউর রহমান খন্দকার জানান, মাদরাসায় এক ছাত্রের ঝুলন্ত লাশ রয়েছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে।

এদিকে, খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ওই মাদ্রাসায় তালা লাগিয়ে দেয়। তারা মাদ্রাসা ছাত্রকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।

দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ মর্গের সামনে বসে কাঁদছিলেন বাবা আনিসুর রহমান। তিনি পেশায় একজন অটোরিকশা চালক। পরিবার নিয়ে নগরের শেরশাহ বাংলাবাজার এলাকায় থাকেন।

আনিসুর রহমান বলেন, চারদিন আগে মাদ্রাসার শিক্ষক তারেক আহমেদ ছেলেকে মারধর করেন। এ কারণে ছেলে মাদরাসা থেকে বাসায় চলে আসে। পরদিন বুঝিয়ে-শুনিয়ে ফের তাকে মাদ্রাসায় পাঠানো হয়। বুধবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে মাদ্রাসা থেকে ফোন করে তাকে জানানো হয়, হাবিবুরকে মাদ্রাসায় পাওয়া যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, আত্মীয়-স্বজন মিলে বিভিন্ন জায়গায় হাবিবুরের খোঁজ করা হয়। তবে কোথাও তাকে পাওয়া যায়নি। রাত নয়টার দিকে মাদ্রাসা থেকে ফোন করে জানানো হয়, হাবিবুর মাদ্রাসার একটি কক্ষের জানালার গ্রিলের সঙ্গে গামছা লাগিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। পরে সেখানে গিয়ে দেখেন, পুলিশ লাশ উদ্ধার করছে।

নিহত ছাত্র হাবিবুর রহমানের বাবা দাবি করেন, এটা পরিকল্পিত হত্যা, আমার ছেলে আত্মহত্যা করতে পারে না। তাকে মেরে ফেলা হয়েছে।

তিনি জানান, ৪-৫দিন আগে তার ছেলেকে যে শিক্ষক মারধর করে। ওই শিক্ষক রাগের বশে ছেলেকে মেরে আত্মহত্যা বলে প্রচার করছে।

তবে আবু বক্কর সিদ্দিক আল ইসলামিয়া কওমী মাদরাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষক তারেক আহমেদ এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বুধবার বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাদ্রাসায় খেলাধুলা করে হাবিবুর। মাগরিবের পর অন্য শিক্ষার্থীদের দেখা গেলেও হাবিবুরকে পাওয়া যায়নি। পরে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। একপর্যায়ে মাদ্রাসার চতুর্থ তলার একটি কক্ষে তার লাশ পাওয়া যায়। হাবিবুর কেন আত্মহত্যা করেছে আমরা জানি না।