• বুধবার, নভেম্বর ১৩, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৭:৩৫ রাত

নুসরাত হত্যা মামলায় সেই অধ্যক্ষের এমপিও স্থগিত

  • প্রকাশিত ০৭:০৬ রাত এপ্রিল ১১, ২০১৯
অধ্যক্ষ সিরাজ ফেনী
সোনাগাজীর মাদ্রাসা অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এ এস এম সিরাজ-উদ-দৌলা এবং একই মাদ্রাসার ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক আফসার উদ্দিন গ্রেফতার হওয়ায় তাদের এমপিও স্থগিত করা হয়েছে

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে শ্লীলতাহানি ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজ-উদ-দৌলা ও ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক আফসার উদ্দিনের এমপিও (মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার) স্থগিত করেছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতর। 

বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) অধিদফতরের মহাপরিচালক সফিউদ্দিন আহমেদ আদেশটি স্বাক্ষর করেন।

আদেশে বলা হয়, সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে শ্লীলতাহানির মামলা (নম্বর-২৪, তারিখ- ২৭/০৩/২০১৯) ও হত্যা মামলায় (নম্বর- ১০, তারিখ- ০৮/০৪/২০১৯) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এ এস এম সিরাজ-উদ-দৌলা এবং একই মাদ্রাসার ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক আফসার উদ্দিন গ্রেফতার হওয়ায় তাদের এমপিও স্থগিত করা হলো।

মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক শফিউদ্দিন বলেন, "অধ্যক্ষ ও ইংরেজি বিভাগের প্রভাষকের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি ও হত্যা মামলা দায়ের এবং তারা গ্রেফতার হওয়ায় আইন অনুযায়ী এমপিও স্থগিত করা হয়েছে। ওই দুই শিক্ষকের সব ডাটা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) ইএমআইএস  (ইলেক্ট্রনিক ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম) সেলে থাকার কারণে মাউশির মহাপরিচালককে চিঠি দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।"

উল্লেখ্য, নুসরাত জাহান রাফি সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিমের পরীক্ষার্থী ছিল। ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে এর আগেও ওই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে নুসরাতের পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। ৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে আলিম পর্যায়ের আরবি প্রথম পত্র পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে যান নুসরাত। এসময় তাকে কৌশলে একটি বহুতল ভবনে ডেকে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। সেখানে তার গায়ে দাহ্য পদার্থ দিয়ে আগুন দেওয়া হয়। বুধবার (১০ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টায় ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুসরাত মারা যান।

নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার ঘটনার পর ৮ এপ্রিল নুসরাতের বড়ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সোনাগাজী থানায় একটি মামলা (নম্বর ১০) দায়ের করেন।

আসামিদের মধ্যে পলাতক রয়েছে— সোনাগাজীর পৌর কাউন্সিলর মুকছুদ আলম, অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার অন্যতম সহযোগী নূরউদ্দিন, ওই মাদ্রাসার ছাত্র সোনাগাজী পৌরসভার উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের বাসিন্দা শাহাদাত হোসেন শামীম, জাবেদ হাসান ও আব্দুল কাদের।