• মঙ্গলবার, মে ২১, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:৩০ সকাল

স্বামীর সামনে স্ত্রীকে ধর্ষণ: ৩ আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

  • প্রকাশিত ০৮:৫৩ রাত এপ্রিল ১৩, ২০১৯
ধর্ষণ মামলার আসামি
টাঙ্গাইলে স্বামীর সামনে স্ত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার ৬ আসামি। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

গ্রেফতার অন্য ৩ আসামিকে ৩ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে

টাঙ্গাইলে স্বামীর সামনে স্ত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার ৬ জনের মধ্যে ৩ আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।শনিবার সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সুমন কুমার সরকারের আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দেয় তারা।

এছাড়াও ধর্ষিতা নারী ২২ ধারায় ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে আদালতে জবানবন্দি দেন। এছাড়াও গ্রেফতার অন্য ৩ আসামিকে ৩ দিনের রিমান্ডে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এর আগে শনিবার দুপুরে টাঙ্গাইল সদর মডেল থানায় ধর্ষিতার স্বামী বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ছয়জনকে আটক করা হয়েছে।

পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ওই নারী এবং তার স্বামী মির্জাপুরের গোড়াইয়ে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। শুক্রবার রাতে ওই নারী তার স্বামীকে নিয়ে কালিহাতীতে বাবার বাড়ি থেকে মির্জাপুর কর্মস্থলে ফিরছিলেন। কালিহাতী বাস টার্মিনালে পৌছানোর পর তিন বখাটে ওই নারীর স্বামীকে ডেকে দূরে নিয়ে তাকে মারপিট করে এবং তার মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরে তার স্ত্রী দেখতে পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে তাকে জোর পূর্বক সিএনজি পাম্পের পিছনের লেকের পাড়ে নিয়ে যায় বখাটেরা। এরপর তার স্বামীকে আটকে রেখে ঐ নারীকে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে সারারাত গণধর্ষণ করে। তবে, রাত ১২টার দিকে কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন ঐ নারীর স্বামী। পরে তিনি টাঙ্গাইল পুলিশকে এ ঘটনা জানালে পুলিশের চারটি দল বিভক্ত হয়ে রাতভর শহরের বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে শনিবার ভোরে পৌর এলাকার চরজানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বারান্দা থেকে ওই নারীকে উদ্ধার করে এবং ৬ জনকে গ্রেফতার করে।   

শনিবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এ প্রসঙ্গে  টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার (এসপি)সঞ্জিত কুমার রায় বলেন, "ঘটনার সাথে জড়িত প্রায় সবাইকে পুলিশ দ্রুততার সাথে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। আসামি ইউসুফের নামে এর আগেও চারটি, রবিনের নামে দুটি ও মফিজের নামে পাঁচটি মামলা রয়েছে"। 

টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সায়েদুর রহমান বলেন, "আমরা ছয়জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। এদের মধ্যে ইউসুফ, রবিন, ওজাহিদুল ইসলাম ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। আর অন্যরা সহযোগিতা করেছে। উজ্জল ও হাসান  নামে এদের আরো দুইজন সহযোগি রয়েছে। তাদেরকে গ্রেফতার করতে অভিযান"।

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক নারায়ন চন্দ্র সাহা বলেন, "গাইনী বিশেষজ্ঞ ডা. জাকিয়া শাফি প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি বোর্ড গঠণ করা হয়েছে। তারা ধর্ষণের আলামত সংগ্রহ করেছে। রিপোর্ট আসলেই ধর্ষণের বিষয়টি জানা যাবে। তবে আলামত থেকে গণধর্ষণের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে"।