• বুধবার, আগস্ট ২১, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৩ রাত

সারাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন খুলনা, 'সংকটে' খুলনাবাসী

  • প্রকাশিত ০৪:১৬ বিকেল এপ্রিল ১৫, ২০১৯
শ্রমিক ধর্মঘট
বকেয়া মজুরি পরিশোধ ও মজুরি কমিশন বাস্তবায়নসহ নয় দফা দাবিতে ৯৬ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন খুলনা বিভাগের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পাটকলের শ্রমিকরা।ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

শুরু হয়েছে পাটকল শ্রমিকদের ৯৬ ঘন্টার ধর্মঘট

বকেয়া মজুরি পরিশোধ ও মজুরি কমিশন বাস্তবায়নসহ নয় দফা দাবিতে ৯৬ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন খুলনা বিভাগের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পাটকলের শ্রমিকরা।

জুটমিল শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক মুরাদ হোসেন জানান, তারা সোমবার সকাল ৮টা থেকে তাদের পূর্বনির্ধারিত সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন শুরু করছেন।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মোস্তাক বলেন, শ্রমিকরা শহরের নতুন রাস্তা, শিরমনি ও খান জাহান আলী রোডে অবস্থান নিয়ে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন।

পাশাপাশি সকাল ৬টা থেকে রেলপথ শ্রমিকরা অবস্থান নেয়ায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত খুলনা স্টেশন থেকে কোনো ট্রেন ছেড়ে যায়নি বলে জানিয়েছেন স্টেশন মাস্টার মানিক চন্দ্র। রেল এবং সড়কপথ বন্ধ করে দেয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

এদিকে পাটকল শ্রমিকদের এ ধর্মঘটের কারণে এ অঞ্চলের নয়টি পাটকলে উৎপাদন বন্ধ হয়ে পড়েছে।

এর আগে গত ২-৪ এপ্রিল একই দাবিতে ৭২ ঘণ্টার অবরোধ পালন করেছে পাটকল শ্রমিকরা। এ কর্মসূচি পালনের পরও দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় নতুন করে ৯৬ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি দেয় তারা।

এর আগে জাতীয় মজুরী কমিশন-২০১৫ এর রোয়েদাদ, পাটক্রয়ের অর্থবরাদ্ধ, বদলী শ্রমিক স্থায়ী করন, অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের সকল বকেয়া পরিশোধ, শ্রমিকদের প্রতি সপ্তাহে মজুরী পরিশোসহ বকেয়া মজুরী প্রদান, খালিশপুর ও দৌলতপুর জুট মিলের শ্রমিকদের বিজেএমসির অন্যান্য মিলের ন্যায় সকল সুযোগ, সুবিধা প্রদানসহ ৯ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে গত কয়েক বছর ধরে আন্দোলন করে আসছে। সর্বশেষ চলতি মাসের ২, ৩ ও ৪ এপ্রিল দেশের সকল পাটকলে এক যোগে ৭২ ঘন্টা ধর্মঘট ও ৪ ঘন্টা করে রাজপথ ও রেলপথ অবরোধ কর্মসুচি পালন করেছে বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা। শ্রমিকদের ধর্মঘট ও অবরোধের কারণে মিলসহ শিল্পাঞ্চল খুলনা প্রায় অচল হয়ে পড়ে। ৯ দফা বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকে পাটকলের শ্রমিকরা। এ সময় খুলনা যশোর মহাসড়কের পাবলা পুলিশ বক্স ভাংচুর ও ৪ পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। আন্দোলন চলাকালে ৩ এপ্রিল বিজেএমসির পক্ষ থেকে শ্রমিক নেতাদের আলোচনায় ডাকা হয়।

পরবর্তীতে ৬ এপ্রিল ঢাকায় বিজেএমসির কার্যালয়ে বিজেএমসির চেয়ারম্যান শাহ মোঃ নাসিমের সাথে ৯ দফা দাবি নিয়ে বৈঠকে বসেন পাটকল শ্রমিক লীগ নেতারা। সেই বৈঠককে শ্রমিকদের স্বার্থ আদায় না হওয়ায় বৈঠক থেকে বেরিয়ে যান শ্রমিক নেতারা। ৭ এপ্রিল বাংলাদেশ পাটকল শ্রমিক লীগ, রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ নের্তৃবৃন্দ জরুরী বৈঠকে বসেন। বৈঠকে জাতীয় মুজরী কমিশন বাস্তবায়ন, প্রতি সপ্তাহে মুজরী প্রদান, বদলী শ্রমিকদের স্থায়ীকরণ, অবসরপ্রাপ্তদের সমস্ত বকেয়া পরিশোধের দাবিতে নতুৃন আন্দোলন কর্মসুচি পালন শুরু হয়।