• বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২২, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৬:৫৪ সন্ধ্যা

মোবাইল টাওয়ারের রেডিয়েশন নিয়ন্ত্রণে ১১ দফা নির্দেশনা হাইকোর্টের

  • প্রকাশিত ০৫:৩৬ সন্ধ্যা এপ্রিল ২৫, ২০১৯
মোবাইল টাওয়ার
মোবাইল টাওয়ার। ফাইল ছবি

একইসঙ্গে সমীক্ষা করে দেশের টাওয়ারগুলোর ক্ষতিকর রেডিয়েশনের বিষয়ে আদালতকে জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে

দেশের মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোর টাওয়ার থেকে ছড়ানো ক্ষতিকর রেডিয়েশনের বিষয়ে সমীক্ষা করে চার মাসের মধ্যে বিটিআরসিকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। প্রতিবেদন দাখিলের পাশাপাশি এ বিষয়ে ১১ দফা নির্দেশনাও দিয়েছেন হাইকোর্ট।

একইসঙ্গে ওই সমীক্ষা প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, কারাগার, খেলার মাঠ ও ঘন জনবসতিপূর্ণ জায়গা থেকে ক্ষতিকর রেডিয়েশন ছড়ানো টাওয়ার সরাতে আদেশ দেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন আদালত। 

বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন ও নির্দেশনা দেন।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন রিটকারী আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী জিনাত হক। বিটিআরসি’র পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খোন্দকার রেজা-ই-রাকিব।

১১ দফা নির্দেশনায় আদালত বলেন-

১. মোবাইল টাওয়ারের রেডিয়েশন মাত্রা নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে ১/১০ ভাগ করতে হবে।

২. মোবাইল টাওয়ার বাসার ছাদ, স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, ক্লিনিক, কারাগার, খেলার মাঠ, জনবসতি এলাকা, হেরিটেজ ও প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকাসহ ইত্যাদি স্থানে না বসানো এবং যেগুলো বসানো হয়েছে তা অপসারণ করতে হবে।

৩. রেডিয়েশন মাত্রা যেন বেশি না হয় সে বিষয়ে অতিরিক্ত নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

৪. টাওয়ার বসাতে জমি অধিগ্রহণে কোনও বাধা আছে কিনা বা বিকল্প পদ্ধতি গ্রহণের ব্যবস্থা রাখতে হবে।

৫. টাওয়ারের রেডিয়েশন মাত্রা বিটিআরসি এবং লাইসেন্সি দুইজনকেই স্বাধীনভাবে আইটিইউ এবং আইইসি’র মান অনুসারে পরিমাপ করতে হবে।

৬. কোনও টাওয়ারের রেডিয়েশন মাত্রা বেশি হলে তা অপসারণ করে নতুন টাওয়ার বসাতে হবে।

৭. টাওয়ার ভেরিফিকেশন মনিটর পরীক্ষার ক্ষেত্রে বিটিআরসি’র দায়-দায়িত্ব হবে বাধ্যতামূলক।

৮. বিটিআরসি স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে মনিটরিং সেল গঠন করবে।

৯. বিটিআরসিকে অন্যদেরকে নিয়ে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটি গঠন করতে হবে। লাইসেন্সি প্রতি ৬ মাসে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।

১০. মোবাইল সেটে দৃশ্যমানভাবে এসএআর মান লিখতে হবে।

১১. সংশ্লিষ্ট লাইসেন্সি প্রতিটি রিপোর্ট/রেকর্ড ৫ বছর পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করবে। সংশ্লিষ্ট অথরিটিকে আদালতের আদেশ এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন সম্পর্কে আরও গবেষণা করে রিপোর্ট দিতে হবে।

রিটের দীর্ঘ শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) এ বিষয়ে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে সমীক্ষা করে দেশের টাওয়ারগুলোর ক্ষতিকর রেডিয়েশনের বিষয়ে আদালতকে জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই সমীক্ষা প্রতিবেদন দেখে ক্ষতিকর রেডিয়েশন ছড়ানো মোবাইল টাওয়ারগুলো অপসারণের বিষয়ে আদেশ দেবেন বলেও মন্তব্য করেন আদালত।