• শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৭:০২ রাত

ভিসির পদত্যাগের দাবিতে ছাত্র-শিক্ষকদের আমরণ অনশন

  • প্রকাশিত ০৭:৫৯ রাত এপ্রিল ২৫, ২০১৯
ববিতে আমরণ অনশন
ভিসির পদত্যাগের দাবিতে বুধবার থেকে আমরণ অনশন শুরু করেছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬ জন শিক্ষক তাদের প্রশাসনিক পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন

উপাচার্যের (ভিসি) পদত্যাগের দাবিতে ছাত্র আন্দোলনের মুখে টানা ২৮ দিনের মত অচল হয়ে রয়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি)। দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বুধবার থেকে আমরণ অনশন শুরু করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

এছাড়াও শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি এবং কর্মচারী সমিতি। ববি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর মিয়া জানান, "বৃহস্পতিবার শিক্ষক সমিতির প্রতিনিধিরাও ছাত্রদের এই প্রতিবাদে যোগ দিয়েছেন"।

"দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬ জন শিক্ষক তাদের প্রশাসনিক পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই উদ্দেশে ইতোমধ্যে তারা পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। এটা একটা প্রতীকী প্রতিবাদ। এমন অচলাবস্থার মধ্যে আমরা স্বপদে বহাল থাকতে ইচ্ছুক নই", যোগ করেন তিনি।

এদিকে আমরণ অনশনের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অসুস্থ হয়ে পড়ায় ইতোমধ্যে অনশনরত দুই শিক্ষককে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) নেয়া হয়েছে। এছাড়াও অনশনরত ৬ শিক্ষার্থী প্রচণ্ড অসুস্থ হয় পড়ায় তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেই চিকিৎসকদের তত্বাবধানে রাখা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ এবং বর্তমান ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ড. একেএম মাহবুব হোসেন ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, "১৪ দিনের ছুটি শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এসএম ইমামুল হক মে মাসের শেষ পর্যন্ত ছুটি বর্ধিত করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বরাবর আবেদন করেছেন"। প্রসঙ্গতঃ মে মাসের ৩০ তারিখে বর্তমান উপাচার্যের মেয়াদ শেষ হবে।

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি লোকমান হোসেন ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই এখানকার শিক্ষক, কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীদের উপর নতুন নতুন নিয়ম চাপিয়ে দেন বর্তমান ভিসি এবং তার অনুসারীরা"।

তিনি আরো জানান, "ভিসি ইমামুল হককে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। তাকে আর কোনও অবস্থাতেই এই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে দেয়া হবেনা। ভিসি পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।

উল্লেখ্য, গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের এক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ না জানানোর প্রতিবাদ করায় শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলেন উপাচার্য। তার ওই বক্তব্যের পর ২৮ মার্চ থেকে ১০ দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন তারা। ওইদিনই ক্লাস-পরীক্ষা এবং আবাসিক হল বন্ধ ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এসবের প্রেক্ষিতে, ভিসি ইমামুল বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী এবং শিক্ষকদের বেতন আটকে দেন।