• বৃহস্পতিবার, মে ২৩, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৮:০৯ রাত

জমে উঠেছে টাঙ্গাইলের ‘জামাই মেলা’

  • প্রকাশিত ০৩:৫৯ বিকেল এপ্রিল ২৬, ২০১৯
টাঙ্গাইলের জামাই মেলা
টাঙ্গাইলের জামাই মেলায় বসেছে নাগরদোলা। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

‘এ মেলার উৎপত্তি কবে সেটা কেউ জানে না। যুগ যুগ ধরে এটি অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এলাকার মানুষের কাছে ঈদ বা পূজা-পার্বণের মতোই এই মেলা একটি উৎসব।’

টাঙ্গাইলের রসুলপুরে জমে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী ‘জামাই মেলা’। বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) থেকে শুরু হওয়া এ মেলা চলবে শনিবার পর্যন্ত। শুক্রবার ছুটির দিন থাকায় মেলায় ঢল নেমেছে মানুষের। উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে আশপাশের এলাকায়। 

এবারের মেলায় বিভিন্ন ধরনের ছোট-বড় তিন শতাধিক দোকান বসেছে। ঐতিহ্যবাহী এ অনুষ্ঠানে পসরা নিয়ে বসেছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীরা। 

দেশের ঐতিহ্যবাহী গ্রাম্যমেলাগুলোর একটি টাঙ্গাইল সদর উপজেলার রসুলপুর গ্রামের ‘জামাইমেলা’।

প্রতিবছর ১১, ১২ ও ১৩ বৈশাখ (সনাতন পঞ্জিকা অনুসারে) টাঙ্গাইলের সদর উপজেলার রসুলপুর বাছিরন নেছা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ মেলা বসে। 

এসময় এলাকার সব মেয়েদের জামাইরা শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে আসেন। এ কারণেই মেলাটি ‘জামাই মেলা’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। তিনদিনে রসলপুরসহ আশেপাশের অন্তত ৩০টি গ্রামের লাখো মানুষের সমাগম ঘটে মেলায়। 

শুক্রবার মেলায় ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন ধরনের খেলনা, প্রসাধনী, খাবারের দোকানসহ ছোট-বড় দোকান বসেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসেছেন দোকানীরা। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মিষ্টির দোকানও রয়েছে। 

এ বিষয়ে রসুলপুরের বাসিন্দা লেখক রাশেদ রহমান ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘এ মেলার উৎপত্তি কবে সেটা সঠিকভাবে কেউ জানে না। যুগ যুগ ধরে এটি অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এলাকার মানুষের কাছে ঈদ বা পূজা-পার্বণের মতোই এই মেলা একটি উৎসব। মেলাটি বৈশাখী মেলা হিসেবে শুরু হলেও এখন এটি জামাইমেলা হিসেবে পরিচিত।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘মেলা উপলক্ষে রসুলপুর ও এর আশপাশের গ্রামের বিবাহিত মেয়েরা তাদের বরকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। এসময় মেয়ের জামাইয়ের জন্য শ্বশুরবাড়িতে থাকে ভিন্ন আয়োজন। মেলার দিন জামাইয়ের হাতে কিছু টাকা তুলে দেন শাশুড়িরা। প্রথা অনুযায়ী সেই টাকার সাথে আরও কিছু টাকা যোগ করে জামাইরা মেলা থেকে চিড়া, মুড়ি, আকড়ি, মিষ্টি, জিলাপিসহ বিভিন্ন জিনিস কেনেন।’’

 
জামাই মেলায় চলছে মিষ্টি কেনাবেচা। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউনরসুলপুর গ্রামের জামাই হামিদ মিয়াসহ মেলায় আসা কয়েকজন দর্শনার্থী ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, প্রতিবছরই তারা শ্বশুরবাড়ি থেকে মেলায় আসার নিমন্ত্রণ পান। এই মেলা তাদের কাছে বাৎসরিক একটি আকর্ষণ। সবার সঙ্গে দেখা-সাক্ষাত হয়। এটি তাদের কাছে একটি মিলন মেলা।

স্থানীয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নবপ্রজন্ম সাহিত্য গোষ্ঠীর সভাপতি মারুফ আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক মোবাইদুল ইসলাম ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, আমাদের এই মেলা একটি জাতীয় ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। এই মেলাকে কেন্দ্র করে এলাকায় দারুণ একটা প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। সংগঠনের পক্ষ থেকে আমরা আনন্দের সাথে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করি।

মেলার আহবায়ক ফজলুল হক ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘আমাদের এ মেলায় প্রায় ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় তিন শতাধিক দোকান বসেছে। এটি দেশের একটি ঐতিহ্যবাহী মেলা। এই মেলায় শুরু হওয়ার আগেই গ্রামের জামাইয়েরা বেড়াতে আসেন। তারা বিভিন্নভাবে মেলা উপভোগ করেন। তাই এটি জামাই মেলা হিসেবে পরিচিত।’’

এছাড়াও, মেলায় জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন আসেন। আসেন বাইরের জেলার দর্শনার্থীরাও। মেলা উপলক্ষে আমাদের প্রায় শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী কাজ করে যাচ্ছেন। আমরা ব্যবসায়ী ও দর্শনার্থীদের সার্বিক সহযোগিতা করছি। এটি জেলার সবচেয়ে বড় মেলা বলে দাবি করেন আহ্বায়ক।