• মঙ্গলবার, আগস্ট ২০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫০ রাত

রাবি উপাচার্যসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা, সমন জারি

  • প্রকাশিত ০৫:৪৭ সন্ধ্যা মে ৩, ২০১৯
রাবি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: সংগৃহীত

মামলার বাদী বলেন, আদালত অবমাননার কারণে মামলা করা হয়েছে।

আদালতের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার অভিযোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহানসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করা হয়েছে। আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শাহরিয়ার পারভেজ বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার (০২ মে) বিকেলে রাজশাহী সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মামলাটি করেন। 

মামলার বিষয়টি ঢাকা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী নূরে কামরুজ্জামান।

তিনি বলেন, ‘‘দেওয়ানি কার্যবিধি আইনের আদেশ ৩৯ ধারাবিধি ২ এর ৩ মতে কেন তাদেরকে সিভিল জেলে ৬ মাস আটক করা হবে না বা তাদের সম্পতি ক্রোক করা হবে না এই মর্মে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মহামান্য আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে মামলার বিবাদীদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন। আগামী ২৭ জুন বিবাদীদের আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’’

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- রেজিস্ট্রার মো. আব্দুল বারী, আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের সদ্য নিয়োগ প্রাপ্ত সভাপতি রফিকুল ইসলাম। মামলায় রেজিস্ট্রারকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে এবং ব্যক্তি হিসেবে দুইবার উল্লেখ করা হয়েছে বলেও জানান বাদীপক্ষের আইনজীবী।

জানা যায়, গত ২১ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এম এ বারী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রফিকুল ইসলামকে প্রেষণে আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগে স্থানান্তর করা হয় এবং সেই বিভাগের সভাপতি পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়। বিষয়টি আইনী বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ওইদিনই আদালতে মামলা করেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শাহরিয়ার পারভেজ। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২৪ এপ্রিল রফিকুল ইসলামের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন আদালত।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদনের বিষয়বস্তু পর্যালোচনা করে মামলার বিবাদীদের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশসহ অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ প্রদান করে আদালত। এই আদেশ গতমাসের ২৫ এপ্রিল আদালতের বার্তাবাহক মামলার এক নম্বর বিবাদীর কর্তৃপক্ষের কাছে জারি করার জন্য নিয়ে আসেন। তখন বিবাদীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ আদালতের প্রতি অবজ্ঞা, তুচ্ছ, তাচ্ছিল্যতার ভাব, ঠাট্টা বিদ্রুপসূলভ ব্যবহার করেন এবং কালক্ষেপণ করে বার্তাবাহকের নোটিশে স্বাক্ষর করে তাকে তাড়িয়ে দেন। এ কারণে আদালতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে তথা আইন অঙ্গনে আদালতের প্রতি বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে মামলার বাদী সহযোগী অধ্যাপক শাহরিয়ার পারভেজ ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘আদালত অবমাননার কারণে মামলা করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় যেহেতু একটি প্রতিষ্ঠান সেজন্য এর পক্ষে রেজিস্ট্রারের নামে মামলা করা হয়েছে। এছাড়াও উপাচার্য, রেজিস্ট্রার এবং নিয়োগ পাওয়া সভাপতির নাম উল্লেখ করে মোট চারজনকে বিবাদী করে মামলা করা হয়েছে।’’

এ বিষয়ে রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এমএ বারী বলেন, ‘‘কী বিষয়ে মামলা হয়েছে জানি না। মামলার বিষয়গুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের লিগ্যাল সেল দেখাশোনা করে।’’

তবে লিগ্যাল সেলের প্রশাসক অধ্যাপক শাহীন জোহরা ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, গতকাল (০২ মে) পর্যন্ত আদালত থেকে কোনও ধরনের নোটিশ আমাদের কাছে আসেনি। শুক্রবার ও শনিবার দুই দিন অফিস বন্ধ। যদি কোনও মামলা হয়ে থাকে তবে তার কপি আমরা রবিবার পাবো।