• শুক্রবার, নভেম্বর ১৫, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৬ রাত

মসজিদের খতিবকে বরখাস্তের প্রতিবাদে বিক্ষোভ, পুলিশের গুলি-লাঠিতে আহত ১০

  • প্রকাশিত ১০:০৩ রাত মে ৩, ২০১৯
পুলিশ
প্রতীকী ছবি

তারা কমিটি বাতিল করে নতুন কমিটি, মসজিদের গেইটে ব্যক্তির নাম প্রত্যাহার, দেওয়ালে থাকা পোস্টার ছিঁড়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এসময় মসজিদ প্রাঙ্গনে উত্তেজনা দেখা দেয়।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মুফতি ওমর ফারুককে বরখাস্তের প্রতিবাদ ও তাকে পূনর্বহালের দাবিতে জুম্মার নামাজের আগে ও পরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে স্থানীয় মুসল্লিরা। 

শুক্রবার (৩ মে) দুপুরে মুসল্লিদের প্রতিবাদ সমাবেশ চলাকালে উত্তেজনা দেখা দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। এসময় পুলিশ গুলি চালিয়ে ও লাঠিচার্জ করে বিক্ষুব্ধ মুসল্লিদের সরিয়ে দিতে গেলে গুলিবিদ্ধ হয় তিনজন। আহত হয় আরও কমপক্ষে ৭ জন।

গুলিবিদ্ধরা হলেন- ওই এলাকার আপন (২০), মাহফুজুর রহমান (৩২) ও লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার চরআফজাল গ্রামের শফিকুল আলমের ছেলে মোহাম্মদ আলী (২০)। আহত অন্যান্যদের পরিচয় জানা যায়নি। গুলিবিদ্ধ তিনজনকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ এপ্রিল জুম্মার খুতবার আলোচনায় একলাশপুর বাজার জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা ওমর ফারুক পহেলা বৈশাখ পালন ও মঙ্গল শোভাযাত্রাকে 'হারাম' বলে বক্তব্য দেন। বিষয়টির প্রতিবাদ করেন মসজিদ কমিটির সভাপতি জামাল উদ্দিনসহ স্থানীয় কয়েকজন। পরবর্তীতে ১৯ সদস্য বিশিষ্ট মসজিদ কমিটির ৬জন সদস্য জরুরি বৈঠক করে ইমাম ওমর ফারুককে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে জানান। 

এই অব্যাহতির প্রতিবাদ করতে শুরু করে শুক্রবার জুম্মার নামাজে আসা মুসল্লিদের একটি অংশ। তারা কমিটি বাতিল করে নতুন কমিটি, মসজিদের গেইটে ব্যক্তির নাম প্রত্যাহার, দেওয়ালে থাকা পোস্টার ছিঁড়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এসময় মসজিদ প্রাঙ্গনে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মুসল্লিদের ধাওয়া, লাঠিচার্জ ও কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে। এতে তিনজন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ১০জন আহত হয়।

মসজিদ কমিটির সহ-সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, পহেলা বৈশাখ নিয়ে বির্তকিত আলোচনা করায় সভাপতি জামাল উদ্দিন ও কমিটির কয়েকজন মিলে বৈঠক করে ইমাম ফারুককে চাকরি থেকে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত নেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে মুসল্লিদের একটি অংশ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। 

তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে খবর পেয়ে বেগমগঞ্জ সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহজাহান শেখ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোস্তফা জাবেদ কাউছার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আগামী সাত দিনের মধ্যে মসজিদের নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার নির্দেশ দেন। 

বেগমগঞ্জ সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহজাহান শেখ ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, ঘটনাস্থলে মুসল্লিদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেওয়ায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে কথা বলতে অভিযুক্ত খতিব মুফতি ওমর ফারুকের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।