• বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৪, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৪:১৭ বিকেল

নুসরাত হত্যকাণ্ড: বোরকা ও কেরোসিন কিনতে টাকা দেয় কাউন্সিলর মাকসুদ

  • প্রকাশিত ০৯:৫০ রাত মে ১২, ২০১৯
নুসরাত জাহান রাফি
নুসরাত জাহান রাফি। ছবি: সংগৃহীত

'হত্যার ঘটনায় সামান্য কিছু টাকা লেনদেন হলেও মানি লন্ডারিংয়ের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি'

নুসরাত হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বোরকা, হিজাব, কেরোসিন ও দড়ি কেনার জন্য হত্যাকারী শাহাদাত হোসেন শামীমকে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা দিয়েছিলো সোনাগাজী পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও পৌরসভার কাউন্সিলর   মাকসুদ।

রবিবার রাজধানীর মালিবাগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি)   প্রধান কার্যালয়ে  এক সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (অর্গানাইজড ক্রাইম) মোল্লা নজরুল ইসলাম এই তথ্য জানান।

তিনি বলেন, "নুসরাত হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বোরকা, হিজাব, কেরসিন ও দড়ি কেনার জন্য শামীমকে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা দিয়েছিলো কাউন্সিলর মাকসুদ। মাকসুদকে এই টাকা দিয়েছিল অধ্যক্ষ সিরাজ"।

"হত্যার ঘটনায় সামান্য কিছু টাকা লেনদেন হলেও মানি লন্ডারিংয়ের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অল্প কিছু টাকা লেনদেন হয়েছে, তবে তা মানি লন্ডারিংয়ের পর্যায়ে পড়ে না। তবে বিষয়টি আমরা আরও তদন্ত করে দেখছি", যোগ করেন তিনি।

এর আগে নুসরাত হত্যাকাণ্ডে মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠলে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে সিআইডি। এ কমিটির প্রধান মো. ফারুক হোসেন গত ২৩ এপ্রিল সোনাগাজীতে থাকা বিভিন্ন ব্যাংকের শাখায় নুসরাত হত্যাকাণ্ডে কোনো মানি লন্ডারিংয়ের ঘটনা ঘটেছে কিনা সে বিষয়ে অনুসন্ধান চালান।

ওই সময় সিআইডি’র পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, নুসরাত হত্যায় কোনো মোটা অঙ্কের টাকা মানি লন্ডারিং হয়েছে কি না, তা বের করতেই সিআইডি ঘটনাটি তদন্ত শুরু করেছে। মানি লন্ডারিংয়ের প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে অর্থ জালিয়াতির মামলাও দায়ের করা হবে।

উল্লেখ্য, গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়ের দায়ে ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলাকে আটক করে পুলিশ। পরবর্তীতে চাপ প্রয়োগের পরও নুসরাত সিরাজের বিরুদ্ধে মামলা তুলে না নেওয়ায় গত ৬ এপ্রিল ওই মাদ্রাসা কেন্দ্রের সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে নুসরাতকে মারাত্মকভাবে অগ্নিদগ্ধ করে সিরাজের টাকা দিয়ে পোষা অনুসারীরা। এতে নুসরাতের শরীরে ৮০ শতাংশ পুড়ে যায়।

আশঙ্কাজনক অবস্থায় নুসরাতকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই গত ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯ টায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন নুসরাত।