• বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৮, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫৩ রাত

মোস্তাফা জব্বার: টাওয়ার ছাড়া লাউয়াছড়ায় মানুষ কিভাবে নেটওয়ার্ক পাবে?

  • প্রকাশিত ০১:৩৯ দুপুর মে ১৩, ২০১৯
ডাক, টেলিযোগাযোগ  মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার
ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। ছবি: মাহমুদ হোসেন অপু/ঢাকা ট্রিবিউন (ফাইল ছবি)।

'লাউয়াছড়ায় টেলিটকের টাওয়ার বানানো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে, কিন্তু আমি বুঝিনা ডিজিটাল যুগে বসে আমাদের ভাবনাটা এতো পেছনে কেন?'

মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়ায় সংরক্ষিত বনাঞ্চলে টেলিটকের মোবাইল টাওয়ার নির্মাণ নিয়ে জনগণের প্রতিবাদের প্রেক্ষিতে সেখানকার মানুষ টাওয়ার ছাড়া কিভাবে মোবাইল নেটওয়ার্ক পাবে, সে প্রশ্ন তুলেছেন   ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

গত ৮ মে এ প্রসঙ্গে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে করা একটি পোস্টে এ কথা তোলেন তিনি।

ফেসবুক পোস্টটিতে মোস্তাফা জব্বার লিখেছেন, "আমি অন্তত একটি বিষয় বুঝতে পারিনা যে, ডিজিটাল যুগে বসে আমাদের ভাবনাটা এতো পেছনে কেন? লাউয়াছড়ায় টেলিটকের টাওয়ার বানানো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এই টাওয়ারে গাছপালা ও বণ্যপ্রাণীর নাকি ক্ষতি হবে। আমি বুঝিনা, টাওয়ার ছাড়া লাউয়াছড়ায় মানুষ কিভাবে নেটওয়ার্ক পাবে। ওখানে যদি টাওয়ার ক্ষতিকারক হয় তবে মানুষ যেখানে বাস করে সেখানে টাওয়ার কেন? সব টাওয়ার বন্ধ করে দিলে কেমন হয়!"


এদিকে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে টাওয়ার নির্মাণ এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রীর এমন বক্তব্যের প্রতিবাদে রবিবার শ্রীমঙ্গলে মানববন্ধন করেছে 'লাউয়াছড়া জীববৈচিত্র্য রক্ষা আন্দোলনে'র কর্মীরা।

মানববন্ধনে সংগঠনের আহবায়ক জলি পাল বলেন, "আমরা মোবাইল টাওয়ার বসানোর বিপক্ষে নই। তবে সেটা যেন বনের বাইরে হয়। যেখানে প্রধানমন্ত্রী বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় নির্দেশ দিয়েছেন সেখানে উনার মন্ত্রীসভার একজন মন্ত্রী এ রকম বক্তব্য কিভাবে ফেসবুকে লিখেন?  আইসিটি মন্ত্রীর হয়তোবা ধারণাই নেই লাউয়াছড়ায় মোবাইলের টাওয়ার বসালে কি ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হবে বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্যের। রাষ্ট্রের দায়িত্বশীলদের কাছ থেকে এ ধরনের বক্তব্য আশা করা যায় না। ফেসবুকে এ ধরনের মন্তব্য করার জন্য তার ক্ষমা চাওয়া উচিত"।

"মন্ত্রীরা এসি রুমে বসে এরকম সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে এই জায়গায় এসে দেখে যাবার আহ্বান জানাই", যোগ করেন তিনি।

মানব বন্ধনে অন্যান্য বক্তারা বলেন, লাউয়াছড়া একটি অতি সংবেদনশীল বন। এ বনে মোবাইল টাওয়ার বসালে এখানকার পশু পাখি জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়বে। লাউয়াছড়ায় টাওয়ার বসানোর সিদ্ধান্ত বন ধ্বংসের পায়তারা বলেই মনে হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে মৌলভীবাজারের সহকারী বন সংরক্ষক (বন্যপ্রাণি ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ) আনিসুর রহমান বলেন, "সংরক্ষিত বনাঞ্চলের দুই কিলোমিটারের ভেতরে ভেতরে এমন মোবাইল টাওয়ার বসানোর কোন অনুমতি নেই। কোম্পানির টাওয়ারের রেডিয়েশনের প্রভাবে পাখির ডিম ও বন্যপ্রাণির জীব-বৈচিত্র্যের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। এছাড়াও বনে টাওয়ার বসালে নেটওয়ার্ক শক্তিশালী থাকে। এতে গাছচোর চক্র নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে সহজেই বনে অপকর্ম করতে পারে। আমরা এখানে কোন অবস্থাতেই টাওয়ার বসাতে দেবো না"।

সংগঠনের আহবায়ক জলি পালের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আবুল হাসানের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন- শ্রীমঙ্গল মহিলা পরিষদের সভাপতি প্রভাসিনী সিনহা, জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা কমিটির সদস্য সৈয়দ আমিরুজ্জামান, বাংলাদেশ পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (বাপা) মৌলভীবাজার জেলা সমন্বয়ক আ স ম সালেহ সোহেল প্রমুখ।

মানববন্ধন শেষে সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে বাংলাদেশ বন পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রীর বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।