• বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৭, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৩৮ রাত

রেলওয়ের আপত্তির মুখে মসজিদের নির্মাণকাজ স্থগিত

  • প্রকাশিত ০৭:৩৭ রাত মে ১৩, ২০১৯
মডেল মসজিদ
প্রতীকী ছবি (সংগৃহীত)

জায়গা নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত এ কাজ সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে বলে জানিয়েছেন গণপূর্ত বিভাগ, কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী

বাংলাদেশ রেলওয়ের আপত্তির কারণে কুড়িগ্রামের সদর উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে জেলার গণপূর্ত বিভাগ। 

নতুন করে জায়গা নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত এ কাজ সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে বলে জানিয়েছেন গণপূর্ত বিভাগ, কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তৌফিক আলম সিদ্দিকী।

গণপূর্ত বিভাগ সূত্র জানায়, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ‘প্রতি জেলা-উপজেলায় একটি করে মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পরিত্যক্ত পুরাতন রেল স্টেশন প্রাঙ্গনে দশমিক ৪২৯২ একর রেলভূমি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে ব্যবহারের অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। 

ওই মডেল মসজিদ নির্মাণের জন্য আহ্বান করা দরপত্রের মাধ্যমে 'স্বাধীন কনস্ট্রাকশন' নামে একটি প্রতিষ্ঠান নির্মাণকাজের অনুমতি পায়। 

গণপূর্ত বিভাগ সূত্র জানায়, মডেল মসজিদ নির্মাণের জন্য স্বাধীন কনস্ট্রাকশনকে কার্যাদেশও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রেলওয়ে বিভাগ, লালমনিরহাটের আপত্তির কারণে জেলা শহরের পুরাতন রেল স্টেশন এলাকায় আপাতত ‘মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’ নির্মাণ সম্ভব হচ্ছে না। 

নতুন করে জায়গা নির্ধারণের পর একই দরপত্রে এবং একই ঠিকাদার কর্তৃক এই নির্মাণকাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

গণপূর্ত বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ‘মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্পের জন্য জায়গা নির্ধারণের দায়িত্ব মূলত সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা মডেল মসজিদ নির্মাণের জন্য জেলা প্রশাসন থেকে পুরাতন রেলস্টেশন চত্বর নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল। সে অনুযায়ী দরপত্র আহ্বান ও সর্বনিম্ন দরদাতাকে কার্যাদেশও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রেল বিভাগ থেকে ভূমি বরাদ্দের বিষয়ে জেলা প্রশাসন বরাবর আপত্তি জানানোর কারণে সদর উপজেলা মডেল মসজিদ নির্মাণ কাজ আপাতত স্থগিত রাখা হচ্ছে।

এ বিষয়ে গণপূর্ত বিভাগ, কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তৌফিক আলম সিদ্দিকী ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, রেলওয়ের জমি ব্যবহার করে মডেল মসজিদ নির্মাণের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক বরাবর একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সদর উপজেলায় এর নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। জায়গা পুনঃনির্ধারণ করে আবারও কাজ শুরু করা হবে। তবে কুড়িগ্রাম জেলা শহর সহ অন্য আটটি উপজেলার আওতাধীন মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ কাজ যথানিয়মে চলবে।

জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক মোছা. সুলতানা পারভীন ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘রেলের ভূমি বরাদ্দ না পাওয়ায় কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ কাজ অন্যত্র স্থানান্তর করা হবে। এজন্য সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জায়গা নির্ধারণ হলে আবারও এই স্থাপনার নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে।’’

উল্লেখ্য, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের আওতায়   ‘প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে ৫৬০ টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে এসব মডেল মসজিদ নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। 

সরকারের প্রকৌশল বিভাগ গণপূর্ত বিভাগ, কুড়িগ্রাম সূত্রে জানা গেছে,  শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এসব মডেল মসজিদে পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের জন্য আলাদা নামাজের জায়গা থাকবে। মসজিদের পাশাপাশি থাকবে ইসলামী সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র, লাইব্রেরি ও মরদেহ গোসলের জন্য আলাদা জায়গা। এছাড়াও বাউন্ডারি ওয়াল ঘেরা এসব মসজিদ চত্বরে থাকবে গাড়ি পার্কিং এর ব্যবস্থা।