• রবিবার, মে ২৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:১৩ দুপুর

রোগীর ছেলেকে মারধরের অভিযোগ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে (ভিডিও)

  • প্রকাশিত ১১:০৬ রাত মে ১৪, ২০১৯
পাথরঘাটা আনোয়ার
অভিযুক্ত চিকিৎসক আনোয়ার উল্যাহ। ছবি- সংগৃহীত

ঘটনার পরপরই মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার আনোয়ার উল্যাহর বিরুদ্ধে এক রোগীর ছেলেকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার (১৩ মে) বেলা ১১টার দিকে হাসপাতালের মধ্যেই এ মারধরের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।

জানা গেছে, পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে মারধরের ঘটনায় আহত হয়ে শুক্রবার (১০ মে) সকালে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন দুলিয়া বেগম। এরপর সোমবার (১৩ মে) সকাল ১১টার দিকে হঠাৎ অসুস্থ্য হয়ে পড়লে ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রহিমা বেগম অসুস্থ দুলিয়া বেগমের ছেলে জিলানীকে খবর দেয়। জিলানী দ্রুত হাসপাতালের এসে তার মাকে মেঝেতে অজ্ঞান অবস্থায় পরে থাকতে দেখে নার্সদের ডেকে নিয়ে আসেন। নার্সরা চিকিৎসক আনোয়ার উল্যাহকে ডেকে নিয়ে আসেন। চিকিৎসক আনোয়ার উল্যাহ আসার পরে জিলানী তার মায়ের এ অবস্থার কারণ জানতে চাইলে চিকিৎসক আনোয়ার উল্যাহ‘র সাথে বাক-বিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে চিকিৎসক সকলের সামনে জিলানীকে মারধর করেন। এসময় জিলানীর মাকেও লাঞ্চিত করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

দুলিয়া বেগমের ছেলে জিলানী বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসাদীন আমার মা হঠাৎ করে বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েছে শুনে মাকে দেখতে আসি। এসে দেখি মা মেঝেতে পড়ে আছে পরে নার্সদের ডাকলে তারা ডাক্তারকে ডেকে নিয়ে আসে। এসময় ডাক্তার আমাকে কক্ষ থেকে বের হয়ে যেতে বললে আমি বের হয়ে না যাওয়ায় আমাকে চর-থাপ্পর মারতে থাকে এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।

এ বিষয়ে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক আনোয়ার উল্যাহ ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, আমি ওই ছেলের মায়ের কাছ থেকে একটি ভিডিও সাক্ষাৎকার নিতে চাইলে ওই ছেলে আমার উপর আক্রমণ করে। আমি এর প্রতিবাদ করেছি মাত্র। 

এ ঘটনায় পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাসুমুল হক খানের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তার স্ত্রী পরিচয়ে কেউ একজন ফোন রিসিভ করেন। তিনি জানান, আমার স্বামী ৩দিনের ছুটিতে আছেন। আগামী রোববার ছাড়া তিনি কোন কথা বলতে পারবেন না। 

বরগুনা জেলা সিভির সার্জন ডা. মো. হুমায়ুন শাহীন খানের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, হাসপাতালের এরকমের কোন ঘটনা আমি এখন পর্যন্ত শুনিনি। তবে এধরনের কোন ঘটনা ঘটে থাকলে দু:খজনক আমি খোঁজ খবর নিয়ে দেখছি। 

এ বিষয়ে পাথরঘাটা উপজেলা নাগরিক অধিকার ফোরামের সভাপতি সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া একটি সাংবিধানিক অধিকার। মায়ের অসুস্থ্যতার কারনে সন্তান ছুটে এসে কিছুটা অসৌজন্যমুলক আচরণ করলেও ডাক্তারের এ বিষয়টি এরিয়ে যাওয়া উচিৎ ছিল। একজন প্রথম শ্রেনীর নাগরিক এরকম রোগীর ছেলের গায়ে হাত দিয়ে মারধর করাটা দু:খজনক।